চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

শংকর চৌধুরী খাগড়াছড়ি জেলা প্রতিনিধি

স্ত্রী হত্যার আসামী ছাত্রলীগ সভাপতির আত্মসর্মপণ

প্রকাশ: ২০১৮-১০-০৪ ২২:৪৪:১৮ || আপডেট: ২০১৮-১০-০৪ ২২:৪৪:১৮

শংকর চৌধুরী,খাগড়াছড়ি॥

গত ২৯ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলায় স্ত্রী ‘মাধবী রাণী রায়’ পিংকী চৌধুরী (২৫) এর স্বামী হত্যা মামলার আসামী গুইমারা ছাত্রলীগের সভাপতি সাগর চৌধুরী গুইমারা থানা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় সাগর থানায় এসে ধরা দেয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গুইমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ গিয়াস উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বৃহম্পতিবার সকালে সাগর চৌধুরী থানায় এসে আত্মসর্মপণ করেছে। গত শনিবার তার স্ত্রীকে পিটিয়ে  হত্যার অভিযোগ উঠে তার বিরুদ্ধে। নিহত পিংকী ফেনীর ফুলগাজী নতুন মনসির হাট সতেসপুরের স্বপন কুমার রায়ের মেয়ে।

এ ঘটনায় পর নিহত গৃহবধু “মাধবী রাণী রায়” পিংকীর মা মঞ্জু রানী পাল বাদী হয়ে রবিবার ৩০ সেপ্টেম্বর বিকেলে গুইমারা থানায় মেয়ে জামায় সাগর চৌধুরীকে আসামী করে এই হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নং-০৫/ তারিখ: ৩০.০৯.২০১৮ইং। হত্যাকন্ডের পর পালিয়ে থাকলেও ছয় দিন পর পুলিশের কাছে ধরা দেয় গুইমার উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাগর চৌধুরী। সে গুইমারা দার্জিলিং টিলার নিরঞ্জন চৌধুরীর ছেলে।

উল্লেখ্য, শনিবার ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে গুইমারা উপজেলা সদরের দার্জিলিং টিলা এলাকায় এ ঘটনা ঘঠে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রলীগ সভাপতি সাগর চৌধুরী’র সাথে ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রায় বছর খানেক আগে সামাজিক ভাবে সাগর চৌধুরীর সঙ্গে। ফেনীর ফুলগাজী নতুন মনসির হাট সতেসপুরের স্বপন কুমার রায়ের মেয়ে মাধবী রাণী রায় “পিংকী” (২৫) এর বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই সাগর নানা অজুহাতে পিংকীর ওপর শারিরীক নির্যাতন চালাতেন। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ-বৈঠকও হয়েছে। সবশেষ শনিবার সন্ধ্যার দিকে কথা কাটাকাটির জের ধরে পিংকীকে মারধর করেন সাগর। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা রাত আনুমানিক ৯টার দিকে গৃহবধু পিংকী চৌধুরীকে গুরুত্বর আহত অস্থায় মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাক্তার মোঃ আনিসুল হক জানান, রাত ৯টার দিকে একজন নারীসহ ৪/৫ জন লোক পিংকীকে  হাসপাতালে রেখে চলে যান। তবে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয় এবং, নিহতের হাত, মুখ ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল বলেও জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *