চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

আবদুল হাকিম রানা পটিয়া প্রতিনিধি

পটিয়ায় প্রত্যয়ের স্মরণ সভা : বীরকন্যা প্রীতিলতা ও সাহিত্য বিশারদ ক্ষণজন্মা কীর্তিমান

প্রকাশ: ২০১৮-১০-০৭ ২২:৪৩:২৮ || আপডেট: ২০১৮-১০-০৭ ২২:৪৩:২৮

আবদুল হাকিম রানা, বীর কন্ঠ :

পটিয়ায় প্রত্যয় শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক একাডেমির উদ্যোগে পটিয়ার দুই কীর্তিমান বীরকন্যা প্রীতিলতা ও মুন্সি আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ এর কর্ম ও কীর্তিগাঁথা নিয়ে শনিবারে “কীর্তিমান স্মরণে” অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। খলিলুর রহমান মহিলা ডিগ্রী কলেজ মিলনায়তনে একাডেমির নির্বাহী সদস্য বিশ্বজিত দাশ এর সভাপতিত্বে ও নির্বাহী পরিচালক আবদুল্লাহ ফারুক রবির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খলিলুর রহমান মহিলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ আবু তৈয়ব। তিনি বলেন, বীরকন্যা প্রীতিলতা ও মুন্সি আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ ক্ষণজন্মা কীর্তিমান। তাঁদের অবদান দেশ ছাড়িয়ে বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত। পটিয়ার মেয়ে বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে নিজেকে আন্তবিসর্জন দিয়ে প্রমান করেছেন দেশপ্রেমের উর্ধে কিছু নাই। দেশের মুক্তি সংগ্রামে নারী-পুরুষের মধ্যে কোন পার্থক্য থাকা চলবেনা। ঠিক তেমনি পটিয়ারই আরেক কীর্তিমান পুরুষ বাংলা সাহিত্যের প্রখ্যাত পুঁথি গবেষক ও সংগ্রাহক মুন্সি আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ। তাঁর হাত ধরেই বাংলার পুঁথি সাহিত্য নবজীবন লাভ করে। এই সাহিত্যসাধক তাঁর বিশাল কর্মময় জীবন অতিবাহিত করেন দেশবিদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পুঁথি সংগ্রহ করার জন্য। তাদের কর্ম ও কীর্তিগাঁথা নিয়ে প্রত্যয় শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক একাডেমি এই আয়োজন  করে প্রমান করে কীর্তিমানেরা সব সময় স্মরণীয় ও বরণীয়।

দুই কীর্তিমানকে নিয়ে আলোচনা করেন পুঁথি গবেষক ও প্রাবন্ধিক ইসহাক চেীধুরী ও বীরকন্যা প্রীতিলতা ট্রাষ্ট এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি পংকজ চক্রবর্ত্তী। ইসহাক চেীধুরী বলেন,  আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ আড়াই সহস্রাধিক পুঁথির পান্ডুলিপি সংগ্রহ করেন এবং ছয় শতাধিক গবেষনামূলক মেীলিক প্রবন্ধ রচনা করেন। সাহিত্যকর্ম ও গবেষনায় তাঁর এ অসাধারণ কৃতিত্বের জন্য চট্টগ্রামের সাহিত্য বোদ্ধাগণ তাঁকে “সাহিত্য বিশারদ” ও নবদ্বীপের পন্ডিতসমাজ তাঁকে “সাহিত্য সাগর” উপাধিতে ভূষিত করেন। পংকজ চক্রবত্তী বলেন, অত্যন্ত মেধাবী ও বিচক্ষণ প্রীতিলতা ছাত্রাবস্থাতেই বিপ্লবী রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। তিনিই ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের প্রথম মহিলা শহীদ হিসেবে খ্যাত। পাহাড়তলি ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমন করে ফেরার পথে শত্রুদের গুলিতে আহত হন। কিন্তু তিনি শত্রুদের হাতে আত্মসমর্পন না করে পটাশিয়াম সায়নাইড খেয়ে নিজেকে আত্মহুতি দেন।

তাঁদের কীর্তিগাঁধা নিয়ে আরো আলোচনা করেন পটিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাজেদা বেগম শিরু, আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ স্মৃতি সংসদ এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোহাম্মদ ছৈয়দ চেয়ারম্যান, সৃজনশীল সাহিত্য গেীষ্ঠি মালঞ্চের সভাপতি শিক্ষাবিদ অধ্যাপক অজিত মিত্র, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ পটিয়া উপজেলার সভাপতি শিলা দাশ, অধ্যাপক শান্তপদ বড়ুয়া, খেলাঘর সংগঠক অধ্যাপক ভগিরত দাশ, পটিয়া প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি নুরুল ইসলাম, শিক্ষক নেতা শ্যামল দে, খলিলুর রহমান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিদ্দিকুর রহমান, শিক্ষাবিদ হারাণ প্রসাাদ বিশ্বাস, প্রথম আলো বন্ধুসভা পটিয়ার সভাপতি আবৃত্তি শিল্পী গেীতম চেীধুরী, ইউনাইটেড এক্যুয়া হ্যাচারীর পরিচালক মজিবর রহমান, সংগীত শিল্পী  এ্যাড. বাপ্পা ঘোষ, বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার পটিয়া পেীরসভার সভাপতি জয়নাল আবেদিন, একাডেমির সদস্য এমরান হোসেন রাসেল, শুকান্ত দাশ, শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *