আবদুল হাকিম রানা
পটিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০১৮-১০-০৯ ০১:০৯:৪৬ || আপডেট: ২০১৮-১০-০৯ ০১:০৯:৪৬
আবদুল হাকিম রানা, বীর কন্ঠ :
পটিয়া রামকৃষ্ণ মিশনে দেবী পক্ষের শুভ মহালয়ার মধ্য দিয়ে শারদীয় দূর্গোৎসব ২০১৮ শুরু হয়েছে। এবার পটিয়ায় সার্বজনীন ১৮৩ ও প্রায় দেড় শতাধিক ব্যাক্তিগত মন্ডপ মিলিয়ে প্রায় তিন শত মন্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব উৎযাপিত হবে বলে বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ পটিয়া উপজেলা সভাপতি ঋষি বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক সৌমেন চক্রবর্ত্তী জানান। তারা বলেন, পটিয়া একটি অসাম্প্রদায়িক এলাকা। এখানে দুর্গোৎসব সব ধর্মের মানুষের মাঝে মেল বন্ধন রচনা করে। এ উৎসবকে প্রাণবন্ত করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তারা পটিয়ার সাংসদ আলহাজ্ব সামশুল হক চৌধুরীর পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা সহ প্রশাসনিক সহযোগিতার জন্য কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের কথা তুলে ধরে বলেন, পটিয়ায় যাতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এবারের উৎসব সম্পন্ন হয় সেজন্য সকল মন্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন ও মাদককে না বলতে বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের পক্ষ থেকে উদাত্ত আহবান জানানো হয়েছে।
গতকাল পটিয়ায় শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রারম্ভে মহালয়া উপলক্ষে সকালে পটিয়া রামকৃষ্ণ মিশনের উদ্যোগে পটিয়া সদরে শোভাযাত্রা বের হয়। এতে অগ্রভাগে ছিলেন পটিয়া হিন্দুবৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ সভাপতি পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সহ সভাপতি বিমল মিত্র, রামকৃষ্ণ মিশন সাধারণ সম্পাদক ডাঃ দিলীপ ভট্টাচার্য, শিক্ষক তপন সেন, পৌরসভা পূজা পরিষদ সভাপতি বিশ্বজিৎ দাশ, তপন ধর, স্বপ্না ধর, রন্টু সেন, ডাঃ আইচ, বিজয় লক্ষী, রামকৃষ্ণ সেবাশ্রম পূজা কমিটির সভাপতি ডাঃ প্রসেনজিৎ মিত্র প্রমুখ। শোভাযাত্রা শেষে নেতৃবৃন্দ ও পূজার্থীরা বলেন দূর্গতিনাশিনী মা দুর্গা অশুরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে সকলের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ার বার্তা নিয়ে আসছেন। তারা শান্তিপূর্ণ পুজা উদযাপনে সকলকে একযোগে কাজ করার আহবান জানান। এবার পৌর সদরের রামকৃষ্ণ মিশনে ৪০ ফুট উচ্চতা সম্পন্ন প্রতিমা স্থাপন করা হয়েছে। যা নির্মানে ২০ জন শ্রমিক ৩ মাস কাজ করে। এতে ব্যয় হয় ২০ লক্ষ টাকা। এটি সারা বাংলাদেশে এবারের পুজো উৎসবে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে উদ্যোক্তারা জানান। পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ নেয়ামত উল্লাহ জানান, প্রত্যেক মন্ডপে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ও আনসার বাহিনী নিয়োগ করা হয়েছে। তিনি মাদক ও ইভটিজিং মুক্ত পরিবেশের জন্য সকলকে আন্তরিক হওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, পূজা কমিটি ও জনপ্রতিনিধিদের সাথে সমন্বয় সভা আহবান করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে প্রাপ্ত পরামর্শ মোতাবেক পূজা সফলে প্রত্যেক মন্ডপে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন থাকবে এবং টহল ব্যবস্থাও জোরদার করা হবে। তিনি যেকোনো ধরণের নাশকতার আশংকা উড়িয়ে দিয়ে বলেন, জনগণের সহযোগিতা নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে।
এব্যাপারে জানতে চাইলে পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাসেলুল কাদের জানান, ইতিমধ্যে পূজা কমিটি সহ সংশ্লিষ্টদের সাথে সমন্বয় সভা করা হয়েছে। এতে জনপ্রতিনিধি এবং পূজা পরিষদ ও স্থানীয় মন্ডপ পরিষদের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে পূজা সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান সহ বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে জিরো টলারেন্সের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি কোথাও মাদক এবং ইভটিজিং চোখে পড়লেই প্রশাসনকে অবহিত করার আহবান জানিয়ে বলেন, সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে বদ্ধ পরিকর। এখানে হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য রয়েছে। তা ধরে রাখতে প্রশাসন সচেষ্ট আছে এবং থাকবে।