শংকর চৌধুরী
খাগড়াছড়ি জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০১৮-১০-১০ ০০:৩৬:০৮ || আপডেট: ২০১৮-১০-১০ ০০:৩৬:০৮
শংকর চৌধুরী,খাগড়াছড়ি॥
পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত পুনর্বাসিত বাঙালিদের সম্মানজনক ভাবে পুনর্বাসন এবং ভারত প্রত্যাগত পাহাড়ী শরণার্থীদের পুনর্বাসনের লক্ষে ষড়যন্ত্রভাবে প্রণয়নকৃত ভুয়া তালিকা বাতিলের দাবিতে খাগড়াছড়িতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে পার্বত্য বাঙালি চার সংগঠন। মঙ্গলবার দুপুরে খাগড়াছড়ি শহরের শাপলা চত্বরে পার্বত্য অধিকার ফোরাম, নারী অধিকার ফোরাম, বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম বাঙালি ছাত্র পরিষদ ও সোনা মিয়া টিলা ভূমি রক্ষা কমিটির ব্যানারে এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়।

কর্মসূচিতে, পার্বত্য অধিকার ফোরাম কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মো: মাঈন উদ্দীন, সাধারণ সম্পাদক মাসুম রানা, বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ খাগড়াছড়ি জেলা শাখার আহবায়ক জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, যুগ্ন আহবায়ক রবিউল হোসেন, সদস্য সচিব মো: ফারভেজ আহম্মেদ, দিঘীনালা উপজেলা শাখার সাবেক সভাপতি মো: সাদ্দাম হোসেন ও সভাপতি মো: আলামিন, মানিকছড়ি উপজেলা শাখার সভাপতি মো: মোক্তাদির হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মো: সাহাবুদ্দিন, পার্বত্য নারী অধিকার ফোরামের সভাপতি সালমা আহম্মেদ মৌ, পার্বত্য অধিকার ফোরাম মাটিরাঙা উপজেলা সভাপতি মো: এস এম হেলাল ও সোনা মিয়া টিলা ভূমি রক্ষা কমিটির সভাপতি আব্দুল মালেক বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, ২০ দফা প্যাকেজ চুক্তির আওতায় ১৯৯৭ সালে ভারত থেকে ১২,২২২ পাহাড়ী শরণার্থী পরিবার দেশে ফিরে আসে। প্যাকেজ চুক্তির আওতায় ২০০৮ সালে অধিকাংশ পরিবারকে পুনর্বাসনও করা হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করে ভারত প্রত্যাগত শরণার্থী পুনর্বাসন টাস্কফোর্সের ৯ম সভায় ১২,২২২ পরিবারের পরিবর্তে ৮২ হাজার পাহাড়ী পরিবারকে উদ্বাস্তু দেখিয়ে তাদের পুনর্বাসনের জন্য ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে ভুয়া তালিকা প্রণনয় করা হয়েছে। আগামী ১২ অক্টোবরের মধ্যে ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে প্রণয়নকৃত তালিকা বাতিল করা না হলে আগামী ১৩ অক্টোবর খাগড়াছড়ি টাস্কফোর্স অফিস ঘেরাও এবং পরবর্তীতে হরতাল অবরোধের মত কঠোর কর্মসূচি ঘোষনার হুশিয়ারী দেওয়া হয়।
কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

অবস্থান কর্মসূচি শেষে, অখন্ড বাংলাদেশের স্বার্থে ৮২ হাজার ভারতীয় ও মায়ানমার নাগরীক কে পার্বত্য চট্টগ্রামে “পূর্নবাসন ষড়যন্ত্র” বন্ধের নির্দেশ প্রদান। পার্বত্য এলাকায় গুচ্ছগ্রাম গুলোতে বন্দি ৩৮ হাজার বাঙালি উদ্ভাস্তু পরিবার কে সরকার কর্তৃক বরাদ্ধকৃত ৫.০০ একর জায়গায় পূনর্বাসন। বাঙালি নেতৃবৃন্দ কে সাথে নিয়ে প্রকৃত উদ্ভাস্তু দের তালিকা প্রণয়নের উদ্দ্যোগ গ্রহন। উপজাতীয় বিভিন্ন সন্ত্রাসী সংগঠন কর্তৃক গত আগষ্ট ও সেপ্টেম্বর ১৮ইং তারিখ পর্যন্ত বাঙালি উচ্ছেদ মিশনে মন্দির ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামে জোরপূর্বক দখলকৃত ভূমি ফেরত। পাহাড়ে আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনের সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার,চাঁদাবাজী ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম নির্মূলে চিরুনী অভিযান পরিচালনা করাসহ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে ৫ দফা দাবি সংবলিত স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।