চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

তায়েফ খান সোহাগ ডেস্ক কন্ট্রিবিউটর

ঝড়ের নাম কেন ‘তিতলি’?

প্রকাশ: ২০১৮-১০-১০ ২২:৫০:৩০ || আপডেট: ২০১৮-১০-১০ ২২:৫০:৩০

 

গত কয়েকশো বছর ধরে আটলান্টিক মহাসাগর এলাকায় উৎপন্ন হওয়া ঝড়গুলোর নাম দিয়ে আসছে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের মানুষেরা। শুরুতে নিজেদের অঞ্চলের ঝড়গুলোকে বিভিন্ন নামে ডাকতো তারা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত এই পরিস্থিতি না বদলালেও ১৯৪৫ সাল থেকে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে শুরু হয় ঝড়ের আনুষ্ঠানিক নামকরণ। বিভিন্ন দেশের প্রস্তাবিত নামের তালিকা থেকে জাতিসংঘের সংস্থা বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) দায়িত্বপ্রাপ্ত প্যানেল নামকরণ চূড়ান্ত করে থাকে। পূর্বাভাস দেওয়াতে সুবিধা এবং সাধারণ মানুষের কাছে পূর্বাভাস ও সতর্কতা বোধগম্য করতেই ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করা হয়ে থাকে।

বস্তুত ঝড়ের নামকরণের ক্ষেত্রে প্রত্যেক দেশের পাঠানো নামের তালিকা থেকে পর্যায়ক্রমে নামকরণ করা হয়। একেক অঞ্চলের ঝড়ের নাম চূড়ান্ত করার দায়িত্বটি ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হাতে ন্যস্ত থাকে। যেমন-উত্তর ভারত মহাসাগরে সৃষ্ট ঝড়গুলোর নামকরণের দায়িত্ব ভারতের আবহাওয়া অধিদফতরের। এক্ষেত্রে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আট দেশ বাংলাদেশ, ভারত, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং থাইল্যান্ড থেকে আরব সাগর এবং বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের নাম প্রস্তাব করা হয়। প্রতিটি দেশের আটটি করে প্রস্তাবিত নাম নিয়ে ভারতের আবহাওয়া অধিদফতরে বৈঠকের মাধ্যমে মোট ৬৪টি নামের তালিকা তৈরি হয়। আর সে তালিকা অনুযায়ীই পর্যায়ক্রমে ঝড়ের নামকরণ হয়।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্যানেলের সেই তালিকা অনুযায়ীই এবারের ঘূর্ণিঝড়ের নাম দেওয়া হয়েছে ‘তিতলি’।

এই তালিকায় থাকা পরের নামটিকে পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়ের নাম হিসেবে ধরা হবে। ‘তিতলি’ নামটির প্রস্তাব এসেছে পাকিস্তানের কাছ থেকে। হিন্দি ভাষার শব্দ ‘তিতলি’ অর্থ ‘প্রজাপতি’। অর্থাৎ এবার পাকিস্তানের প্রস্তাবিত নামটিই ঝড়ের নাম হিসেবে নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী ঝড়ের ক্ষেত্রে তালিকার পরের নামটি নেওয়া হবে। সেটি প্রস্তাব করেছে অন্য আরেকটি দেশ।

উল্লেখ্য, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় তিতলির প্রভাবে বুধবার সকাল থেকে মোংলায় ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে বন্দরে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। তবে অভ্যন্তরীণ রুটে সব ধরনের নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এদিকে উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঝড়টির আশঙ্কায় ভারতের উড়িষ্যায় রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। ভারতের আবহাওয়া বিভাগ বলছে, বুধবার রাতে এটি উত্তরপশ্চিম দিকে এগিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল নাগাদ উড়িষ্যা এবং সংলগ্ন উত্তর অন্ধ্র প্রদেশ অতিক্রম করতে পারে।
ঘূর্ণিঝড় তিতলি বুধবার সকালে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৪৫ কিলোমিটার, কক্সবাজার থেকে ৯০০, মংলা থেকে ৮১৫ এবং পায়রা থেকে ৮১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল। আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান জানান, ‘ঘূর্ণিঝড়টি কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসে গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ কারণে সাগর বিক্ষুব্ধ রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *