চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

শংকর চৌধুরী খাগড়াছড়ি জেলা প্রতিনিধি

খাগড়াছড়িতে ‘জেএসএস’ নেতা হত্যার ঘটনায় অস্ত্রসহ আটক ২

প্রকাশ: ২০১৮-১০-১১ ২০:১০:৩৫ || আপডেট: ২০১৮-১০-১১ ২০:১০:৩৫

খাগড়াছড়ি,প্রতিনিধি॥

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায়  পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) নেতা মঞ্জু চাকমা (৪৮) এর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পূর্ণ কান্তি চাকমা ও মহারত চাকমা নামে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে যৌথ বাহিনী।

যৌথ বাহিনী সূত্রে জানা যায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত দীঘিনালার শিমুলতলী এলাকার লক্ষ্মীচরণ চাকমার ছেলে পূর্ণ কান্তি চাকমা এবং একই এলাকার চাউ বিকাশ চাকমার ছেলে মহারত চাকমাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) এর সক্রিয় সদস্য বলে জানায় যৌথ বাহিনী।

 

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার দিবাগত রাতে শিমুলতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ৯ মি.মি. বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, ১১ রাউন্ড অ্যামোনিশন, চারটি মোবাইল সেট ও ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বলেও জানায় যৌথ বাহিনী।

 

যৌথ বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, ‘এক মাস আগে ইউপিডিএফের সক্রিয় কর্মী রোহেল চাকমা (বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পালি অনুষদের ৩য় বর্ষে অধ্যয়নরত) গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদ্বয়কে প্রতিপক্ষ মঞ্জু চাকমাকে হত্যা করার জন্য ৫০ হাজার টাকা এবং অ্যামোনিশনসহ পিস্তল সরবরাহ করে। এর পর পরিকল্পনা অনুযায়ী, ‘জেএসএস’ নেতা মঞ্জু চাকমা (৪৮) কে গুলি করে মহারত চাকমা এবং তাকে এ কাজে সহযোগিতা করে পূর্ণ কান্তি চাকমা ও রূপান্তর চাকমা। গ্রেফতারকৃতরা তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসব বলেন বলে জানিয়েছে যৌথ বাহিনী।

 

খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এমএম সালাউদ্দিন জানান , ‘জেএসএস’ নেতা মঞ্জু চাকমা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুজনকে আটক করেছে যৌথ বাহিনী। গ্রেফতারকৃতদের দীঘিনালা থানায় সোর্পদ করা হয়েছে, পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

 

উল্লেখ্য, গত ০৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় দীঘিনালা থানার আওতাধীন শিমুলতলা বাজার এলাকায় মহেন্দ্রসিং চাকমা’র ছেলে, ‘জেএসএস’ নেতা মঞ্জু চাকমা (৪৮) কে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। হত্যাকান্ডের খবর পাওয়ার সাথে সাথেই সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে সাড়াশি অভিযান শুরু করে যৌথাবহিনীর সদস্যরা। বহুল আলোচিত এ হত্যাকান্ডের তিন দিনের মাথায় প্রকৃত আসামীদের গ্রেফতার করতে পারায় যৌথবাহিনীকে সাধুবাদ জানিয়েছে নিহতের পরিবার এবং স্থানীয় লোকজন। একই সাথে তারা হত্যাকান্ডের অপর আসামী রুপান্তর চাকমাকে অতি দ্রুত গ্রেফতার পূর্বক শাস্তির আওতায় আনার অনুরোধ জানান এলাকাবাসী।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *