আবদুল হাকিম রানা
পটিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০১৮-১০-১১ ২১:৩৮:০৪ || আপডেট: ২০১৮-১০-১১ ২১:৩৮:০৬
আবদুল হাকিম রানা, বীর কন্ঠ :
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্ন চাপের ফলে জেগে উঠা ঘূর্ণিঝড় তিতলীর প্রভাবে পটিয়ার পৌর সদরে সড়কগুলোতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে অধিকাংশ সড়কে পানি জমে থাকায় জনদুর্ভোগ বাড়ছে। বর্তমানে প্রধান সড়ক শহীদ আবদুস ছবুর রোড, স্টেশন রোড, আদালত-পিডিবি সড়ক পানিতে নিমজ্জিত আছে।
জানা যায়, গত তিন দিন ধরে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্ন চাপটি ঘূর্ণিঝড় তিতলী নামে রূপ নিলে সাগর উত্তাল হয়ে উঠে। এতে গত তিন দিন ধরে ভারী ও গুরি গুরি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এতে বৃষ্টিপাতের পানি গুলো রাস্তায় জমে থাকায় জনগণের চলাচলে দুর্ভোগের সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে পটিয়া পৌর সদরের শহীদ আবদুস ছবুর রোড, স্টেশন রোড, আদালত-পিডিবি সড়ক, বাস স্টেশন এলাকা, বিওসি রোড, তালতলাচৌকি টু আমির ভান্ডার সড়ক এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজর মহাসড়কের মুন্সেফ বাজার ও পটিয়া হাসপাতাল এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে প্রধানতম সড়কগুলোতে বর্তমানে ড্রেন নির্মাণ কাজ চলছে। ফলে পানি নিষ্কাষণ ব্যবস্থা সচল না থাকায় দুর্ভোগ স্থায়ী হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান। তারা পটিয়ার জলাবদ্ধতা নিরসনে পৌরসভার মেয়র সহ সংশ্লিষ্টদের সুদৃষ্টি কামনা করেছে।
পটিয়া পৌর সদরের ব্যাংকার আবুল হোসাইন বলেন, দীর্ঘদিন পৌর সদরে স্থায়ী কোন নালা নর্দমা ছিল না। যা ছিল তা অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত হয়েছিল। বর্তমানে নালা নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে। এরই মাঝে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় সাময়িক জলাবদ্ধতা হচ্ছে। আমরা নালা নির্মাণ কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। তিনি যেন, দ্রুত এ নালা নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করার মাধ্যমে জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘবে এগিয়ে আসেন। পটিয়া ক্যাব কর্মকর্তা সাজ্জাদ কবির আরজু বলেন, পটিয়ার সড়কগুলোর নিম্নাঞ্চল পানি নিষ্কাষণ ব্যবস্থা না থাকায় এখন হাটু পানির নিচে। তবে বর্তমানে যে নালা নির্মিত হচ্ছে তার কাজ শেষ হলে এ দুর্ভোগ থাকবে না বলে আমরা মনে করি। পটিয়া দোকান মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক জামাল উদ্দিন বলেন, স্টেশন রোড ও শহীদ ছবুর রোডে যে জলাবদ্ধতা হচ্ছে তা সাময়িক। নির্মিতব্য নালার কাজ শেষ হলে এ দুর্ভোগ আর থাকবে না। তবে এব্যাপারে পৌর কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারের প্রতি আমাদের অনুরোধ তারা যেন দ্রুত নালা নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করেন।
এব্যাপারে জানতে চাইলে পটিয়া পৌরসভার মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রশিদ বলেন, পটিয়া পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বর্তমানে ২৯ বছর হয়েছে। এর মধ্যে যে নালা নর্দমা গুলো হয়েছিল তা ছিল অপরিকল্পিত। বর্তমানে বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় শুধুমাত্র জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় ৩০/৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ড্রেন নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে। তাই জনসাধারণের সাময়িক অসুবিধা হচ্ছে। আমরা আশাবাদী নির্মিতব্য প্রকল্পের কাজ শেষ হলে পটিয়া পৌর সদরের আর কোন জলাবদ্ধতা থাকবে না। তিনি পৌরবাসীকে পৌরসভার চলমান উন্নয়ন কর্মকান্ড এগিয়ে নিতে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়ে বলেন, পৌর কর্তৃপক্ষ পৌরবাসীর কল্যাণে নিয়োজিত রয়েছে। তিনি এক্ষেত্রে স্থায়ী প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।