চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

শংকর চৌধুরী খাগড়াছড়ি জেলা প্রতিনিধি

পাহাড়ে “পূনর্বাসন ষড়যন্ত্রের” প্রতিবাদে : প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান

প্রকাশ: ২০১৮-১০-২১ ২১:১৪:২০ || আপডেট: ২০১৮-১০-২১ ২১:২০:০৬

  • শংকর চৌধুরী,খাগড়াছড়ি॥ 

ভারত প্রত্যাগত শরনার্থী বিষয়ক টাক্সফোর্স কতৃক ভারত প্রত্যাগত নামে ৮২ হাজার পাহাড়ি পরিবারকে “পূনর্বাসন ষড়যন্ত্র” বন্ধ ও গুচ্ছগ্রামে বসবাসরত লক্ষাধীক বাঙ্গালী পরিবারগুলোকে পূর্ণবাসনের দাবীতে, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদ।

রবিবার ২১ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১১টায় বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে খাগড়াছড়ি জেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রেরণ করে।

এসময়, সংগঠনটির উপদেষ্টা ও সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মজিদ, খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মোঃ নজরুল ইসলাম মাসুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ শাহাদাৎ হোসেন কায়েসসহ সিনিয়র নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

‘১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তি অনুসারে ২০ দফা প্যাকেজের আওতায় ভারত প্রত্যাগত ২২ হাজার উপজাতীয় পরিবারকে সম্পূর্ন ভাবে পূনর্বাসন করা হয়েছে। ১৯৮৩ থেখে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত উদ্ভাস্তু হয়েছিলো ৬১ হাজার বাঙালি পরিবার। যারা এখনো গুচ্ছগ্রামেই বন্দি থেকে মানবেতর জীবন যাপন করছে। চুক্তি পরিবতীর্তে দীর্ঘ ২০ বছর অতিবাহিত হলেও তাদের পূনর্বাসনের কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।

টাক্সফোর্স কাউকে এককভাবে পূর্ণবাসন করতে পারেনা বলে উল্লেখ করে স্মারকলিপিতে বলা হয়, অবৈধভাবে ৮২ হাজার উপজাতীয় ভূমিহীন পরিবারকে উদ্বাস্তু হিসেবে চিহিৃত করে তাদের পূর্ণবাসনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অপরদিকে পাহাড়ে বাঙ্গালী উদ্বাস্তু থাকলেও তাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

উক্ত বৈঠকে উপস্থিত প্রতিনিধিরা বাঙ্গালীদের নিয়ে ষড়যন্ত্র অংশিদার উল্লেখ করে টাক্সফোর্সের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও বৈষমের অভিযোগ এনে উক্ত তালিকা বাতিলের দাবী জানিয়ে বলা হয়। ১৯৮০-৯৭ পর্যন্ত শান্তি বাহিনীর হাতে নিহত ৫০ হাজারেরও অধিক বাঙ্গালী পরিবার এখনো বসতবাড়ী ছাড়া। বাঙ্গালীদেরও তালিকা প্রণয়নের দাবী জানিয়ে টাক্সফোর্সের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবী জানানো হয়। অতিসত্বর টাস্কফোর্স কতৃক ভারত প্রত্যাগত নামে ৮২ হাজার পাহাড়ি পরিবারকে “পূনর্বাসনের ষড়যন্ত্র” বন্ধ ও পার্বত্যঞ্চলে গুচ্ছগ্রামে বন্দি থেকে মানবেতর জীবন যাপন করা লক্ষাধিক বাঙালি পরিবারগুলোকে পূনর্বাসন করতে হবে। তা না হলে পাহাড়ে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারী দেন পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদ নেতারা।

এছাড়াও পাহাড়ে ইউপিডিএফ সন্ত্রাসী কর্তৃক খাগড়াছড়ি জেলার রামগড়, মানিকছড়ি, সিন্দুকছড়ি ও জেলার কেয়াংঘাট এলাকার উল্টাছড়িতে সশস্ত্র সংগঠন কতৃক বাঙালিদের ভুমি দখলের মিশন পরিচালনা করছে উল্লেখ করে, তা বন্ধেরও দাবি জানান স্মারকলিপিতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *