মো: এরশাদ আলম
লোহাগাড়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০১৮-১০-২৪ ২৩:১৭:৪৪ || আপডেট: ২০১৮-১০-২৪ ২৩:১৭:৪৪
সারাদেশের ন্যায় চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার পুটিবিলায়ও বর্ণাঢ্য অায়োজনের মধ্যদিয়ে এবং বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফানুস উড়িয়ে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা ২৪শে অক্টোবর সন্ধ্যায় পুটিবিলা মহাবোধি বিহারে পালিত হয়েছে।
পুটিবিলা মহাবোধি বিহারের বিহারাধ্যক্ষ তাপস জ্যৌতি ভিক্ষুর পরিচালনায় শুভ প্রবারণা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আবু আসলাম, সাতকানিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান মোল্লা।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডাঃ আতাউল কবির আরবী, অারকান সড়ক ফেডারেশনের নেতা ও লোহাগাড়া মা-ও শিশু হাসপাতালের পরিচালক আরিফুর রহমান,ষ্টার সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাত্তার সিকদার, সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেন, কবি নাছির উদ্দীন প্রমুখ।
বিহারের অধ্যক্ষ রত্নানন্দ মহাথের ফানুস প্রসঙ্গে বলেন আকাশ প্রদীপ দানে বুদ্ধাংকুর গৌতমের কেশ ধাতু পূজা।
ফানুস উড়ানো একটি বৌদ্ধ ধর্মীয় উৎসব ও পূজা। এটাকে সামাজিক ও সাধারণ উৎসবের সাথে তুলনা করা বিধেয় নয়। ফানুস তথা আকাশ প্রদীপের মাধ্যমে আমরা বোধিসত্ত্ব গৌতমের সেই কেশধাতুকে পূজা করে থাকি, যে কেশ ধাতু তিনি সংসার ত্যাগের পর নৈরঞ্জনা নদীর তীরে এসে কর্তন করেছেন এবং তিনি তখন অধিষ্ঠান করেছিলেন, আমি বুদ্ধাংকুর হয়ে এই জন্মে যদি বুদ্ধ হতে পারি তবে আমার চুলের অধঃগতি (ভূমিতে পতিত হবে না) হবে না, উর্দ্ধগতি হবে। আর তখনই দেবরাজ ইন্দ্র ভাবী বুদ্ধের এ অধিষ্ঠান জ্ঞাত হয়ে তিনি আকাশ মার্গে স্বয়ং এসে স্বর্ণপাত্রে সেই চুল গ্রহণ করেন। এবং তিনি চুলামনি চৈত্য নির্মাণ পূর্বক অধ্যাবধি পূজা করছেন। আমরা ও তাই। এটি ধর্মীয় উৎসব ও পূজা।
পুটিবিলা মহাবোধি বিহারের বিহারাধ্যক্ষ তাপস জ্যৌতি ভিক্ষু বলেন ১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দে পুটিবিলা মহাবোধি বিহার প্রতিষ্ঠিত হয়,২০১৮ শুভ প্রবারণা পুর্ণিমা উপলক্ষে বিহারে ১০০ এর অধিক ফানুস উত্তোলন করা হয়, তিনি আরো জানান বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফানুস লোহাগাড়া মহাবোধি বিহারে আকাশপানে ছাড়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য: দেড় রিম কাগজ দিয়ে তৈরি করতে ৪ জন শ্রমিক প্রতিদিন ৮ আট ঘন্টা করে প্রায় ৯ দিন প্ররিশ্রম করে প্রায় ৩২ ফুট উঁচু ও ৬৮ফুট গোলাকৃতির এবং দেড় কেজি প্রজ্জলক সহ আকাশ প্রদীপ (ফানুস) তৈরি করা হয়। ।