চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

প্রদীপ শীল রাউজান প্রতিনিধি

রাউজানে গর্তের ভিতর মাদ্রাসা শিক্ষক: ভন্ডামী নাকি এবাদত এলাকায় ধ্রুমজাল!

প্রকাশ: ২০১৮-১০-২৬ ২০:১৪:৫১ || আপডেট: ২০১৮-১০-২৬ ২০:১৪:৫১

প্রদীপ শীল, রাউজান:

কবরসদৃশ্য গর্তে এক মাদ্রাসা শিক্ষকের ৪১ দিনের এবাদত নিয়ে রাউজান পৌর এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এক নজর দেখতে ঐ বাড়িতে দলে দলে যাচ্ছে স্থানীয় মিডিয়ার লোকজনসহ উৎসুক জনতা। এলাকার লোকজন ভন্ডামী অংশ মনে করলেও তার পরিবারের দাবি ধর্মীয় ভাবধারায় ৪১দিনের এবাদত নিয়ে টিল্লায় গেছেন মওলানা সাহেব। এই নিয়ে রাউজান জুড়ে চলছে ধ্রুমজাল। আসলে কি হচ্ছে এখানে? এমন প্রশ্ন নিয়ে রহস্য উদঘাটনে পিছু নিয়েছে স্থানীয় সাংবাদিকরা। কয়েকটি পত্রিকায় সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে। তবে প্রকৃত ঘটনা উম্মোচন না হওয়ায় রহস্য থেকেই যাচ্ছে। জানান যায়, রাউজান পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের ছত্রপাড়া সৈয়দ বাড়ী এলাকার বাসিন্ধা রাউজান দারুল ইসলাম কামিল মাদ্রাসার ইবতেদায়ী বিভাগের এমপিও ভুক্ত শিক্ষক সৈয়দ আবদুল্ল্যাহ (৫০)। স্থানীয়দের মতে, ধার্মীক ও নামজি লোক আবদুল্ল্যাহ। গত ১৬ অক্টোবর মাদ্রাাসা থেকে ছুটি না নিয়ে ৪১দিনের জন্য এবাদতের জন্য চিল্লায় বসেছেন। আগে থেকে নির্ধারণ ছিল এবাদতের স্থান ও বিভিন্ন করণীয় সম্পর্কে। সে লক্ষে তার মূল ঘরের সামনে থাকা টিনযুক্ত কাচারী ঘরে তৈরী করেন কবরের ন্যায় একটি গর্ত। নির্মান শ্রমিক দিয়ে গর্তের চার পাশে পাকা দেয়াল দিয়ে কবর তৈরী করেন। কবরের উপরে লোহার গ্রীল দিয়ে ঢাকনা দেয়া হয়। যাতে ঢেকে দেয়া যায়। কবরে উঠা নামার জন্য রাখা হয় একটি সিঁড়ি। সেখানে আগে থেকে গোসলখানা ও শৌচাগার নির্মান করা হয়। নির্মান করা কবরে বৈদ্যুতিক লাইট ও উপরে লাগানো হয় সিলিং ফ্যান। ছত্রপাড়া এলাকার সৈয়দ বাড়ীর মৃত সৈয়দ খায়রুল্ল্যাহর পুত্র শিক্ষক সৈয়দ আবদুল্ল্যাহ গত ১৬ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে কবরে এবাদত শুরু করেন বলে দাবি করেছেন তার প্রথম স্ত্রী রাশেদা আক্তার। ২৬ অক্টোবর সরোজমিন পরিদর্শন করতে সৈয়দ বাড়ির আলোচিত কাচারি ঘরের কাছাকাছি পৌচ্ছালে, ভিতরে থাকা আবদুল্ল্যাহর প্রথমা স্ত্রী খন্দকার রাশেদা তড়িঘরি করে কাচারী ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে দেয়। শত অনুরোধেও এক নজর দেখার সুযোগ করে দেয়নি সংবাদ কর্মীদের। স্বামীর উদ্যেশ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে রাশেদা আকতার স্বামীর বন্ধু কদলপুর এলাকার ফরহাদুল ইসলাম চৌধুরী নামে এক ব্যাক্তির সাথে ফোন ধরিয়ে দেয়। ফরহাদুল ইসলাম চৌধুরী ফোনে বলেন, আমার বন্ধু ৪১দিন ইবাদত করার জন্য কবরের মধ্যে অবস্থান করছেন। ধর্মীয় নিয়ম অনুসারে তার সাথে কোন ব্যাক্তির স্বাক্ষত সম্ভব নয়। বাড়ির লোকজন জানান, সৈয়দ আবদুল্ল্যাহ কবরে অবস্থান কালে ভিতরে থাকা শৌচাগারে মল মূত্র ত্যাগ করে পূনরায় কবরে ফিরে যায়। খাওয়ার সময় হলে ১ম স্ত্রী খাওয়ার দিয়ে আসে। এলাকার লোকজন আরো জানান, কবরসদৃশ্য গর্তে আবদুল্লাহ অবস্থান করার সংবাদ পেয়ে এলাকার লোকজন প্রতিনিয়ত গিয়ে ভীড় করে। নাম প্রকাশে অনিছুক এক ব্যাক্তি জানান,  গত কয়েক বছর আগে ১ম স্ত্রীকে ঘরে রেখে আরও একটি বিয়ে করে আবদুল্লাহ। ঐ সময় ১ম স্ত্রী রাশেদা আকতার বাঁধা দেয়। কিন্তু তার গর্ভে জম্ম নেয়া ছয় কন্যা সন্তান নিয়ে বিপাকে পড়ার আশংকায় সতীনকে একই ঘরে থাকা সুযোগ করে দেয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, রাশেদার কাছ থেকে জোর পূর্বক অনুমতি নিয়ে হলদিয়া ইউনিয়নের পুর্ব ক্ষিরাম এলাকা থেকে দ্বিতীয় বিয়ে করার এই মওলানা। অপরদিকে ২য় স্ত্রীর গর্ভে দুই পুত্র সন্তান জম্ম নিয়েছে বলে জানা যায়। এ ব্যাপারে রাউজান পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের পৌর কাউন্সিলর আজাদ হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি শুনেছি এবাদত করতে চিল্লায় গেছেন আবদুল্লাহ। তবে কাচারী ঘরের মধ্যে গর্ত খনন করে ঐ গর্তে এবাদত করছেন কিনা আমার জানা নেই। এ প্রসঙ্গে রাউজান দারুল ইসলাম কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আল্লামা রফিক আহম্মদ ওসমানী বলেন, গত ১৬ অক্টোবর আমি ঢাকায় ছিলাম। ইবদেতায়ী বিভাগের শিক্ষক সৈয়দ আবদুল্ল্যাহ মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপ্যাল আল্লামা মারফতুর নুরের কাছে ৪১দিন ছুটির জন্য আবেদন করে। ৪১দিন ছুটি দেয়া আমি ও ভাইস প্রিন্সিপ্যালের কোন সুযোগ নেই। তিনি ১৭ অক্টোবর থেকে অনুপস্থিত রয়েছে। তিনি আরো জানান, তার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন না করে কাচারী ঘরে গর্ত খনন করে তার মধ্যে এবাদত করার কোন নিয়ম ইসলামের বিধানে নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *