চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

এম,শফিউল আলম ফটিকছড়ি প্রতিনিধি

ফটিকছড়িতে সাবেক এমপি রফিকুল অানোয়ারের স্মরণ সভা:অা’লীগের এক পক্ষ নেই

প্রকাশ: ২০১৮-১০-২৭ ২৩:২৮:২৫ || আপডেট: ২০১৮-১০-২৭ ২৩:২৮:২৫

 

ফটিকছড়ি প্রতিনিধি

ফটিকছড়ি উপজেলা অাওয়ামীলীগের অায়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ফটিকছড়ির সাবেক সাংসদ ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা অা’লীগের সাবেক সহ-সভাপতি রফিকুল অানোয়ারের স্মরণ সভা। অাজ শনিবার দুপুরে উপজেলার নানুপুর ইউনিয়নের ঢালকাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে উপজেলা অাওয়ামীলীগ অায়োজিত এই স্মরণ সভায় বাংলাদেশ অাওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনসহ জেলা অা’লীগ ও উপজেলা অা’লীগের অসংখ্য নেতা-কর্মী উপস্থিত থাকলেও অংশগ্রহণ করেনি অাওয়ামী লীগের বৃহৎ একটি অংশ।

জানা যায়, দলীয় অন্তর্কোন্দল ও গ্রুপিং রাজনীতির কারণে এই অংশটিকে স্মরণ সভায় অামন্ত্রণও জানানো হয়নি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উত্তর জেলা অা’লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক ফখরুল অানোয়ার বলেন, ‘ ‘অামাকে কেউ অামন্ত্রণ জানায় নি। অথচ ব্যানার, পোষ্টারে অামার নাম ব্যবহার করা হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, ফটিকছড়ি অাওয়ামীলীগে ‘ফটিকছড়ি উপজেলা অাওয়ামীলীগ’ ও ‘ফটিকছড়ি অাওয়ামী পরিবার’ নামে বিবাদমান দু’টি গ্রুপ রয়েছে। ফটিকছড়ি উপজেলা অাওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অাওয়ামীলীগের একটি গ্রুপের নেতৃত্বে থাকলেও অপর একটি গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা অাওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তৌহিদুল অালম বাবু, শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক ফখরুল অানোয়ার ও সাবেক ছাত্রনেতা এইচ এম অাবু তৈয়ব। এ অংশটিও দলীয় কর্মকান্ডে সক্রিয় রয়েছে উপজেলাজুড়ে। অাওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষকলীগ ও মহিলালীগের বড়ো একটি অংশের সমর্থন রয়েছে এই গ্রুপেও।

খবর নিয়ে জানা যায়, ফটিকছড়ি উপজেলা অাওয়ামীলীগের সম্মেলনের পর থেকে মূলত ফটিকছড়ি অাওয়ামীলীগ দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পরে। দিন দিন এই বিভক্তি চরম অাকার ধারণ করে। অালাদা অালাদভাবে সাংগঠনিক কর্মসূচীও পালন করতে দেখা যায় দুই গ্রুপকে। পাল্টা-পাল্টি কর্মসূচী পালন করতে গিয়ে এর অাগে বেশ কয়েকবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মতো ঘটনার কাছাকাছি যেতে হয় দু’গ্রুপের নেতা-কর্মীকে। সর্বশেষ গত ৪ অক্টোবর দলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে ফটিকছড়িতে সরকারের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে পথসভা করেন অাওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। ওইদিন উপজেলাতে মন্ত্রীর চারটি পথসভা শান্তিপূর্ণ হলেও একটি পথসভা পন্ড ও অারেকটি পথসভার মঞ্চ ভাংচুর করে দুর্বৃত্তরা। এর জের ধরে ফটিকছড়ির সাংসদ সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীর গত ১৬ অক্টোবর বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ফলক উদ্বোধন উপলক্ষ্যে অায়োজিত জনসভায় বাঁধা সৃষ্টির চেষ্টা করে উপজেলা অাওয়ামীলীগ সমর্থিতরা। সেদিনও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সম্ভাবনা থাকলেও চরম উদ্বেগ ও উৎকন্ঠার মধ্য দিয়ে প্রশাসনের জোর তৎপরতায় শান্তিপূর্ণভাবে পাঁচটি পথসভা শেষ হয়।

অাসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে অাসছে, ততোই চরম অাকার ধারণ করছে ফটিকছড়ি অাওয়ামীলীগের রাজনীতি। দলের মনোনয়নকে কেন্দ্র করে এই গ্রুপিং রাজনীতি অারো তীব্রতা পেয়েছে। এসব গ্রুপিং নিরসনে কার্যকর কোন পদক্ষেপও নিতে পারেনি দলের শীর্ষ পর্যায়। এমতাবস্থায় ফটিকছড়ির প্রয়াত সাংসদ রফিকুল অানোয়ারের স্মরণ সভায় সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের উপস্থিতির মধ্য দিয়ে গ্রুপিং, মতপার্থক্যের অবসান ঘটবে অাওয়ামী ঘরনার নেতা-কর্মীরা এমনটা প্রত্যাশা করলেও শেষমেশ তা হয়নি।

অপরদিকে, স্মরণ সভাকে কেন্দ্র করে অনাকাংঙ্খিত ঘটনা এড়াতে ব্যাপক পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার ছিলো। ফটিকছড়ি উপজেলা অা’লীগের সভাপতি মজিবুল হকের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দীন মুহুরীর সঞ্চালনায় এতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা অাওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এম.এ সালাম, প্রচার সম্পাদক জসিম উদ্দীন শাহ্, রাউজানের সাংসদ এবিএম ফজলে করিম, জেলা অা’লীগ নেতা এটিএম পেয়ারুল ইসলাম, মো.শাহজাহান, খাদিজাতুল অানোয়ার সনি, স.ম বাকের, দিলরুবা হাছান প্রমূখ।

সভায় যোগদানের পূর্বে প্রধান অতিথি ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন রফিকুল অানোয়ারের কবরে পুষ্পমাল্য অর্পন করেন। এর পূর্বে মোটর সাইকেল শো-ডাউন করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে অা’লী-যুবলীগ-ছাত্রলীগের অসংখ্য নেতা-কর্মী স্মরণ সভায় যোগ দেন।

সভায় বক্তারা বলেন, ‘রফিকুল অানোয়ার একজন মৃত্যুঞ্জয়ী মানুষ। তার অনন্য অবদানের কথা ফটিকছড়ি তথা চট্টগ্রামের মানুষ অাজীবন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *