চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

আবদুল হাকিম রানা পটিয়া প্রতিনিধি

পটিয়া তথ্য অফিসের প্রেস ব্রিফিংয়ে উন্নয়ন চিত্র প্রদর্শণ 

প্রকাশ: ২০১৮-১০-২৯ ২৩:৪৮:২৫ || আপডেট: ২০১৮-১০-২৯ ২৩:৪৮:২৫

আবদুল হাকিম রানা, বীর কন্ঠ :

বর্তমান জাতির পিতার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার বিগত দুই মেয়াদে সারাদেশে উন্নয়নের ক্ষেত্রে যে নব দিগন্তের সূচনা করেছেন তারই ধারাবাহিকতায় চট্টগাম-১২ আসনের নির্বাচিত সাংসদ আলহাজ্ব সামশুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে পটিয়ায়ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। যার ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য জনগণকে দৃশ্যমান উন্নয়ন সম্পর্কে অবহিতকরণ তথা সরকারের সাফল্য অর্জন ও উন্নয়ন ভাবনা নিয়ে আজ পটিয়া তথ্য অফিস কর্তৃক আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা সহকারী তথ্য কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান উপরোক্ত তথ্য প্রকাশ করেন। এতে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশ আজ দৃশ্যমান উন্নয়নের জন্য রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। অনেকগুলো বড় বড় প্রকল্প সরকার বিদেশী সহায়তার দিকে না তাকিয়ে নিজেরাই বাস্তবায়ন করে চলেছে। যা আজ বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হচ্ছে। তেমনি পটিয়ায় দু’দুবার নির্বাচিত সাংসদ আলহাজ্ব সামশুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে পটিয়ায় ২ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন দৃশ্যমান হয়েছে। আরো অনেকগুলো প্রকল্প বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। তিনি দৃশ্যমান প্রকল্পগুলো জনসমক্ষে উপস্থাপনের জন্য গণমাধ্যমের সহযোগতিা কামনা করেন। এতে বক্তব্য রাখেন পটিয়া প্রেস ক্লাব সভাপতি এসএমএকে জাহাঙ্গীর, সাংবাদিক হারুনুর রশিদ সিদ্দিকী, প্রেস ক্লাব সাধারণ সম্পাদক আবদুল হাকিম রানা, সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এটিএম তোহা, আবদুর রাজ্জাক, এসকেএম নুর হোসেন, সেলিম চৌধুরী, আবেদুজ্জামান আমিরী, শফিউল আজম, তাপস দে, সুজিত দত্ত, ফারুকুর রহমান বিনজু, কামরুল ইসলাম, এম. মহিউদ্দিন চৌধুরী।

তিনি বলেন, পটিয়ায় ইতিমধ্যে বাস্তবায়িত বড় প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে- ১. আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ অডিটরিয়াম নির্মাণ, ২. প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ, ৩. পটিয়া মডেল থানা ভবন নির্মাণ, ৪. আধুনিক ভুমি অফিস ভবন নির্মাণ, ৫. পটিয়া-বোয়ালখালী ও পটিয়া-বৈলতলী সড়ক নির্মাণ, ৬. ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ৭ টি নতুন নির্মাণ, ৭. গভীর টিউবওয়েল ৪২০০ টি স্থাপন, ৮. কমিউনিটি ক্লিনিক ৫৮ টি স্থাপন, ১০. ই-পোস্ট সেন্টার ২৮ টি স্থাপন, ১১. পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫১ শয্যায় উন্নীত, ১২. পটিয়া পৌরসভার নিজস্ব ভবনসহ পৌরসদরে লাইটিং ও ড্রেনেজ সিস্টেম আধুনিকায়ন। ১৩. স্বতন্ত্র বাস টার্মিনাল নির্মাণ। ১৪. পটিয়া বাইপাস সড়ক নির্মাণ। ১৫. শিকলবাহা খালের ভাঙ্গন রোধ ও কাশিয়াইশে বেড়িবাঁধ নির্মাণ। ১৬. এলজিইডি’র আওতাধীন প্রকল্পের অধীন ১০০.৮০ কিমি সড়ক কাজ ও গ্রোথ সেন্টার নির্মাণ। ১৭. ১২৫ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন, ২৯ টি উচ্চ বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা ভবন এবং ১০ টি কলেজের একাডেমিক ভবন নির্মাণ। ১৮. মুক্তিযোদ্ধা ভবন নির্মাণ। ১৯. স্মৃতি সৌধ ও ঘৃণাস্তম্ভ নির্মাণ। ২০. পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীন ০৩ টি স্লুইচ গেইট ও বেড়িবাঁধ নির্মাণ। ২১. আনসার একাডেমিক ভবন নির্মাণ। এছাড়াও ছোট-বড় সড়ক, ব্রীজ, কার্লভাট, সেতু নির্মাণ ও সংস্কার অন্যতম। এছাড়াও বর্তমানে সারা বাংলাদেশে সরকার কর্তৃক বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলো নিম্নরূপ -যেমন দশটি বৃহৎ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প : পদ্মা সেতু প্রকল্প, পদ্মা সেতু রেলওয়ে সংযোগ প্রকল্প, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প, মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, মেট্রোরেল প্রকল্প, সোনাদিয়া গভীর সমুদ্র বন্দর প্রকল্প, পায়রা সমুদ্রবন্দর প্রকল্প, দোহাজারী-কক্সবাজার-গুনদুম রেললাইন নির্মাণ প্রকল্প, এলএনজি র্টামিনাল নির্মাণ প্রকল্প। এছাড়াও বড় বড় অন্যান্য প্রকল্পগুলো হচ্ছে-বছরে ৩৫ লাখ মানুষকে বয়স্কভাতা প্রদান করা। বিধবা, নারী পরিত্যাক্তা ও দু:স্থ নারীভাতা ভোগীর সংখ্যা ১২ লাখ ৬৫ হাজার। ৮ লাখ ২৫ হাজার প্রতিবন্ধী ভাতা প্রদান। ২ লাখ গৃহহীন পরিবার আশ্রয়ন প্রকল্পে আশ্রয় পেয়েছে। ১ লাখ ২০ হাজার ভূমিহীন পরিবার কৃষি জমি পেয়েছে। দেশে খাদ্য উৎপাদন এখন ৪ কোটি মেট্রিককটন। বিশ্বে চাল উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন ৪র্থ, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন। ডিজিটাল কৃষি তথা ই-কৃষি প্রচলন। কৃষি কল সেন্টার (১৬১২৩) স্থাপন করা হয়েছে। ১০ টাকায় কৃষকের ব্যাংক হিসাব খোলা। জাতীয় কৃষিনীতি ২০১৩, জাতীয় জৈব কৃষিনীতি ২০১৬, সমন্বিত ক্ষুদ্র সেচ নীতিমালা ২০১৭ প্রণয়ন। বিশ্বে মিঠাপানির মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন ৪র্থ। বিশ্বে সবজি উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন ৩য়। বছরের ১ম দিনে ৩৫ কোটি ৪২ লক্ষ ৯২ হাজার ১৬২ বিনামূল্যের পাঠ্যবই শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেওয়া। মেয়েদের জন্য স্নাতক শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে উপবৃত্তি ব্যবস্থার  প্রচলন। ২৬ হাজার ১৯৩ টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়েছে। ৫০ হাজার বিদ্যালয়ে কম্পিউটার ল্যাব ও মাল্টিমিডিয়া শ্রেণি কক্ষ চালু করা হয়েছে। সাক্ষরতার হার ৭২.৩ শতাংশে উন্নীত। স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোড়গোড়ায় পৌছানের জন্য সারা দেশে ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন ও পরিবার কল্যান কেন্দ্র স্থাপন। মানুষের গড় আয়ু বেড়ে এখন ৭২ বছর। বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা এখন প্রায় ২০১৩৩ মেগাওয়াট। ২০২১ সাল নাগাদ ২৪০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ। গ্রীডবিহীন এলাকায় ৪৫ লাখ সোলার প্যানেল স্থাপন। দেশে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী  ১৪.৫ কোটি। দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ৮ কোটি। সারাদেশে ৫২৮৬ টি ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন এবং ২শ ধরনের সেবা প্রদান। লানির্ং ও আর্নিং সিস্টেম চালুর মাধ্যমে বেকারত্বের হার হ্রাস। তৈরী পোশাক শিল্পে বিশ্বে ২য় বাংলাদেশ। নারী-পুরুষের বৈষম্য রোধে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষে। নারীর ক্ষমতায়নে ভূমিকা রাখায় প্রধানমন্ত্রী “প্লানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ান ও এজেন্ট অব চেঞ্জ” পুরস্কারে ভূষিত। দশ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় প্রদান করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ‘Mother Of Huminity’ উপাধিতে ভূষিত হন। সরকারি কর্মচারীদের বেতনভাতা প্রায় ১২৩ ভাগ পর্যন্ত বৃদ্ধি। সারাদেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা হচ্ছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত। জাতীয় প্রবৃদ্ধির হার ২০০৫-০৬  অর্থবছরে ৫%, ২০১৬-১৭ এ ৭.৮৬ %। জিডিপি’র আকার ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ৪,৮২,৩৩৭ কোটি টাকা, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ১৯,৭৫,৮১৭ কোটি টাকা। মূল্যস্ফীতি ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ৭.১৬ % ২০১৬-১৭ অর্থবছরে  ৫.৮৪%। রপ্তানী আয় ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ১০.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বর্তমানে ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আমদানি ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ১৪.৭৫ % ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৪২.৯২ % রাজস্ব আয় ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ৪৫৪৩৭ কোটি টাকা ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২৮৭৯৯০কোটি টাকা। মাথা পিছু আয় ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ৫৪৩ মার্কিন ডলার বর্তমানে ১৭৫২ মার্কিন ডলার। বাজেটের আকার ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ৬১০৫৭ কোটি টাকা ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৪০০২৬৬ কোটি টাকা। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ৩.৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৩৩.৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ৪.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বৈদেশিক বিনিয়োগ ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ০.৭৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ঢাকায় মেট্রোরেল ও এলিভেটেট এক্সপ্রেস হাইওয়ে নির্মাণ কাজ চলমান। কর্ণফূলী নদীর তলদেশে টানেল নিমার্ণ করা হচ্ছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *