শংকর চৌধুরী
খাগড়াছড়ি জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০১৮-১০-৩০ ২১:২০:৪৫ || আপডেট: ২০১৮-১০-৩০ ২১:২০:৪৫
শংকর চৌধুরী,খাগড়াছড়ি॥
খাগড়াছড়ি ও মনিকছড়িতে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে পেট্রলবোমা ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পৃথক দু’টি মামলায় বিএনপির তিন নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় খাগড়াছড়ি সদর থানায় পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাত ২০/২৫ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করে এবং উপজেলা কলেজ ছাত্রলীগের মোঃ জাহিদ হাসান বাদী হয়ে বিএনপির ১২জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ২০/২৫ জনকে আসামী করে মানিকছড়ি থানায় অপর মামলাটি দায়ের করেন।
খাগড়াছড়ি সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সাহাদাত হোসেন টিটো বলেন, জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে ককটেল নিক্ষেপ ও বিস্ফোরণের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাত ২০/২৫ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। সদর থানার মামলা নং-১০ তারিখ-২৮-১০-১৮ইং। এরই মধ্যে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ন-সম্পাদক মোঃ রহমত আলীকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। দোষীদের খুঁজে বের করা হবে।
মানিকছড়ি থানার অফিসার ইন্সার্স (ওসি) মুহাম্মদ রশীদ জানান, উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় অফিস সংলগ্ন চা দোকানের সামনে পর পর ৩টি পেট্রল বোমা নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় কলেজ ছাত্র লীগের মোঃ জাহিদ হাসান বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে বিএনপির ১২জন নেতাকর্মীর নাম উল্ল্যেখ করে অজ্ঞাত আরো ২০/২৫ জনকে আসামী করা হয়েছে। মানিকছড়ি থানার মামলা নং-৪ তারিখ-২৮-১০-১৮ইং। মামলার এজাহার ভুক্তদের মধ্যে উপজেলা যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের ২ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করেছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, খাগড়াছড়ি ও মনিকছড়িতে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে নিজেরাই ককটেল ও পেট্টল বোমা হামলার নাটক সাজিয়ে মামলা দিয়ে বিএনপিকে নির্বাচনের আগে পুলিশের মাধ্যমে হয়রানীর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। এ ঘটনায় তাদের নেতাকর্মীকে আটকের পর, ২৯ অক্টোবর গণমাধ্যমে প্রেরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ওয়াদুদ ভূইয়া বলেন, এটি একটি নাটক, পরিকল্পিত ও সাজানো এবং আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্য প্রণোদিত ঘটনা। আটক নেতাকর্মীদের দ্রুত মুক্তি দাবী জানিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবী জানান তিনি।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো অভিযোগ করা হয়, আওয়ামী লীগের নিজস্ব কোন্দলের কারনে কেন্দ্রে নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে বোমা হামলার নাটক সাজিয়ে বিএনপি নেতবৃৃন্দের উপর দোষ চাপিয়ে মিথ্যা মামলা দায়ের করে তাদের নেতাকর্মীদের হয়রানী করছে। এ ঘটনায় পুলিশ বাড়ীতে বাড়ীতে তল্লাশী করে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মোঃ রহমত আলী, মানিকছড়ি উপজেলা যুবদলের দপ্তর সম্পাদক মোঃ আবুল বশর ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক মোঃ জাবের হোসেন সোহাগকে পুলিশ গ্রেফতার করে নিয়ে গেছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে।
উল্ল্যেখ, রোববার ২৮ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলা সদর ‘আমতল’ থেকে ‘গচ্ছাবিল’ খাগড়াছড়িমুখী ৩/৪টি মোটর সাইকেলে মুখোশপরা দুর্বৃত্তরা, ‘আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীরা সাবধান’ শ্লোগান দিয়ে দলীয় অফিসের সামনে পর পর ৩টি পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়। এতে একটি বোমা বিস্ফোরিত হয়ে আগুণ ধরে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ছুটে আসেন এবং ঘটনাস্থল থেকে দু’টি অবিস্ফোরিত পেট্রোল বোমা উদ্ধার করেন।
অপরদিকে, রাত সাড়ে ৯টার দিকে খাগড়াছড়ি শহরের কলেজ রোডস্থ জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়কে লক্ষ্য করে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ১টি ককটেল বিষ্ফোরিত হলেও আরো দু’টি ককটেল রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তবে এ ঘটনায়ও কোনো ক্ষয়-ক্ষতি না হলেও ঘটনাস্থল থেকে দু’টি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় কার্যালয়ের ভেতর জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক দিদারুল আলম দিদারসহ নেতাকর্মী বসে আসন্ন সংসদ নির্বাচন আলোচনা করছিলেন। তিনি পাহাড়ে স্থিতিশীল পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য জামায়াত-বিএনপি এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ করেন।