আলাউদ্দিন
ডেস্ক কন্ট্রিবিউটর
প্রকাশ: ২০১৮-১১-০৩ ১৫:৫১:২৭ || আপডেট: ২০১৮-১১-০৩ ১৫:৫১:২৭
বীর কন্ঠ ডেস্ক :
সংলাপে খাওয়াদাওয়ার ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়াকে ছোটলোকী উল্লেখ করে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক ও জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, ‘এই সরকার ছোটলোক।’
শনিবার (৩ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘মাটির ডাক’ নামের একটি সংগঠনের আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
মান্না বলেন, ‘আমরা প্রমাণ করতে চাই যেভাবে সরকার ডিনার করার ছবি বাইরে দেখিয়ে মিথ্যাচার করছে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। কি অদ্ভুত বিষয়, আমরা গণভবনে সংলাপ করছি, সেখানে কোনও সাংবাদিক নেই। ছবি বের হলো কি করে? কোনও ছবি তো বাইরে যাওয়ার কথা না। ফেসবুকে ছবি গেল কি করে? ওদের মতলবই খারাপ! এটা একটা মতলবি সরকার। সংলাপ ডেকেছে, তার সঙ্গে বিভ্রান্ত করার জন্য এসব করছে।’
এর আগে মাওলানা ভাসানীর ছবি বাইরে প্রকাশ করেছিল উল্লেখ্য করে মান্না বলেন, ‘আপনাদের মনে আছে? একবার মাওলানা ভাসানী গিয়েছিলেন, তাকে খাইয়ে দাইয়ে ছবি বাইরে দেখিয়েছেন। কিরকম ন্যাক্কার জনক অবস্থা। বিষয়টা খুব সহজ ছিল, আমাদেরকে যখন দাওয়াত করা হয়েছিল নৈশভোজে, আমরা তো বলেছিলাম ভোজ সভার জন্য তো আমরা যাচ্ছিনা। আমরা যাচ্ছি সংলাপ করতে। সাত দফা দিয়েছি, একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দরকার, নাহলে দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে।’
এই সরকার ছোটলোক উল্লেখ করে মান্না আরও বলেন, ‘এটা কোনও উৎসব নয়। কিন্তু আমরা তো এই কথা বলিনি যে তোর বাসায় জলপানও করবো না। এরকম সম্পর্ক আমরা কখনও চাই না। পানি খাওয়াবে, চা খাওয়াবে, স্ন্যাক্স খাওয়াবে কে মানা করছে? কিন্তু তারা স্ন্যাক্সের সঙ্গে স্যুপের ছবি দিয়ে ছড়িয়ে দিল কি বোঝাতে? এই নেতারা জীবনে খায়নি, খেতে গিয়েছিল গণভবনে? ছোটলোক! সরকারটা একটা ছোটলোকের সরকার। নাহলে এগুলো করতে পারে না। সবার ছবি দিয়ে বাইরে জনগণকে কি বুঝাতে চায়? এজন্য বলছি লড়াই করছেন একটা ছোটলোকের সঙ্গে, এটা বুঝেই আমাদের লড়াই করতে হবে।’
সংলাপে তেমন কোনও অর্জন নাই দাবি করে মান্না বলেন, ‘রাজনীতি মানেই হচ্ছে সবচেয়ে প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে লড়াই করবেন এবং সেই অবস্থাকে অনুকূল করার চেষ্টা করবেন। আমাদের দেশ একটা বিরাট দুর্যোগের মধ্যে আছে এই সরকারের জন্য। সেখান থেকে মুক্তি পেতে আমাদের ধীরে ধীরে কৌশল করে এগুতে হবে। সেই কারণেই হয়তো সংলাপ আমাদের প্রয়োজন। কিন্তু কেউ যদি মনে করে সংলাপ থেকে কিছু পেয়ে বিজয়ী হয়ে যাবো তাহলে সে ভুল করবে। সংলাপে সাত দফা নিয়ে কথা বলেছি আমরা। সেখানে খালেদা জিয়ার মুক্তি সহ রাজবন্দীদের মুক্তি নিয়ে আলোচনা করেছি, তত্ত্বাবধায়ক সরকার, সংসদ বাতিল, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনসহ সমস্ত কথা বলেছি। আমরা সৌজন্য রেখে বিনয়ের সঙ্গে বলেছি, কিন্তু আমরা কথাই বলতে পারি নাই, উনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেছেন ঠিক আছে কথা বলতে দিলাম।’
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে মান্না বলেন, ‘কথা বলতে যখন দিলেন, তাহলে এখন পর্যন্ত রাজশাহীতে জনসভার অনুমতি পাইনি কেন? কথা বলতে দেওয়ার বিষয়ে কয়েকদিন আগেও বলেছিলেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করতে কোনও নিষেধাজ্ঞা নাই, আমি সেখানে একটা মঞ্চ তৈরি করে দিবো, প্রয়োজন হলে লোকজনও দিবো। অনেক ঘুরতে ঘুরতে আমরা সভার অনুমতি পেয়েছি। এটা অনেকে বলবে কতো বড় অর্জন! জনসভা করা আমার জন্মগত অধিকার, উনি রুদ্ধ করে রেখেছেন।’
ঐক্যফ্রন্টের কয়েকটি দাবির সঙ্গে সংবিধানের সম্পর্ক নেই উল্লেখ করে মান্না বলেন, ‘এইগুলো মেনে নেন, বলেন এখন থেকে কার্যকর হবে। আজকে পারবেন? যদি না পারেন তাহলে কালকে আবার বসি? যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই সাত দফার ওপর আলোচনা করে নিষ্পত্তি করা হোক। নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা যাবে না।’
শেখ হাসিনা গুলি করবে আর এই ভয়ে আমরা ঘরে ঢুকে যাবো সেই লোক আমরা না উল্লেখ করে মান্না আরও বলেন, ‘আমরা রাস্তায় নামবো, আন্দোলন করবো। তারা গুলি করবে, মানুষ মেরে ফেলবে এই ভয়ে আমরা ঘরে ঢুকে যাবো না। আমরা এমন আন্দোলন করবো, যারা গুলি চালায় সেই লোকগুলো গুলি চালাবে না। এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে যখন আপনার হাতে কিছুই থাকবেনা। যেভাবেই আগান না কেন আপনার পতন অনিবার্য।’
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিতি ছিলেন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, জিনাফ সভাপতি লায়ন মিয়া মো. আনোয়ার প্রমুখ।