চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

জাহেদুল হক আনোয়ারা প্রতিনিধি

নির্বাচনের মাঠে সরব আ.লীগ, নিরব বিএনপি

প্রকাশ: ২০১৮-১১-০৪ ১৯:০০:১০ || আপডেট: ২০১৮-১১-০৪ ১৯:০০:১০

 

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে রাজনৈতিক দলগুলোর আসনভিত্তিক প্রস্তুতি, দলের অভ্যন্তরীণ সমস্যা, সর্বশেষ অবস্থান এবং ভবিষ্যত সম্ভাবনা, মাঠের অবস্থাইবা কী- এসব নিয়ে আমাদের ধারাবাহিক প্রতিবেদন ‘নির্বাচনী কণ্ঠ’।

আজ তুলে ধরা হলো ‘চট্টগ্রাম-১৩’ এর সার্বিক চিত্র। রিপোর্ট করেছেন জাহেদুল হক, আনোয়ারা

বছরের শেষপ্রান্তে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নিয়ে জমে উঠেছে চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) সংসদীয় আসনের রাজনীতি। নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে প্রার্থীরা ততই সরব হচ্ছেন। নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হতে আগ্রহী অনেকেই। তবে মাঠে আছেন একজনই। এ আসনে আ.লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রকাশ্য বিরোধ না থাকলেও গোপনে একাধিক ধারা বিরাজ করছে। অন্যদিকে বিএনপির কোনো প্রার্থীই এ মুহুর্তে মাঠে সক্রিয় নেই। ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছেন দলের নেতাকর্মীরা। এর বাইরেও জাতীয় পার্টিসহ ইসলামী দলগুলো প্রচারণা চালালেও প্রকাশ্যে নেই জামায়াত।

সরব আ.লীগ :
এ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর মৃত্যুর পর ২০১৩ সালের উপনির্বাচনে তাঁর বড়ছেলে ব্যবসায়ী নেতা সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে তাঁকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর জাবেদ কর্ণফুলী উপজেলা বাস্তবায়ন ছাড়াও আনোয়ারায় ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করেন। কর্ণফুলী টানেল,চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল,উপকূল সুরক্ষায় মেগা প্রকল্প ও পারকি সৈকতে পর্যটন কমপ্লেক্সের মতো বড় প্রকল্পগুলো তাঁরই কৃতিত্ব। এ কারণে সংসদীয় এলাকায় সাইফুজ্জামান চৌধুরীর অবস্থান অনেক সুদৃঢ় হয়েছে বলে জানান দলীয় নেতাকর্মীরা। ভূমি প্রতিমন্ত্রী বলেন,প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক সহযোগিতায় আনোয়ারা-কর্ণফুলী এলাকায় প্রায় ৭০০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করা হয়েছে। তাঁর বিশ্বাস,জনগণ এসব কাজের মূল্যায়ন করবে। আর প্রধানমন্ত্রী আস্থা রাখলে দলকে তিনি বিজয় উপহার দিতে পারবেন। এছাড়া মনোনয়ন দৌড়ে যুক্ত হয়েছেন মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ওয়াসিকা আয়শা খান। তিনি আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য মরহুম আতাউর রহমান খান কায়সারের কন্যা। তিনি মনোনয়নের আগ্রহ নিয়ে এলাকায় নানা কার্যক্রম চালাচ্ছেন অনেক দিন ধরে। এর বাইরে আলোচনায় আছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহজাদা মহিউদ্দিন এবং জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ব্যবসায়ী নুরুল কাইয়ুম খান। তাঁরা বললেন, দেশ ও এলাকার মানুষের জন্য কাজ করার আগ্রহ অবশ্যই আছে। তবে দলীয় প্রার্থী যেই হোক না কেন তাঁরা একসঙ্গে কাজ করবেন।

বিএনপির কেউ মাঠে নেই :
এ আসনে বিএনপি থেকে কে প্রার্থী হচ্ছেন তা এখনো পরিস্কার নয়। দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা স্থানীয় বিএনপি এখন দুই ধারায় বিভক্ত। উপজেলা ও তৃণমূল পর্যায়ে দুই পক্ষেরই আলাদা আলাদা কমিটি রয়েছে। একাংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম। এ আসনে তিনি বিএনপির ব্যানারে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এবারের নির্বাচনেও তিনি দলীয় মনোনয়ন চাইবেন। কিন্তু বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের অভিযোগ,নবম সংসদ নির্বাচনে পরাজয়ের পর তিনি সাধারণ নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দেন। তবে তাঁর অনুসারীরা বলেন,আনোয়ারা-কর্ণফুলী আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সরওয়ার জামাল নিজামের বিকল্প নেই। অপর অংশের নেতৃত্বে আছেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এড.কবির চৌধুরী। তাঁর অনুসারীদের মধ্যে মনোনয়ন চাইবেন ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান। জেলা বিএনপির এই নেতা দলের দুঃসময়ে রাজপথে থেকে আন্দোলন সংগ্রামে যুক্ত ছিলেন। তৃণমূল নেতাকর্মীদের সুখে-দুঃখে তিনি পাশে ছিলেন সবসময়। মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,আমি দলীয় মনোনয়ন পেলে বিএনপির হারানো এই আসন পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হবো। এছাড়া জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আলী আব্বাসও দলীয় মনোনয়ন চাইবেন। তবে এখনো পর্যন্ত বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের কারও মাঠে তৎপরতা নেই।

অন্যান্য :
নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন জাতীয় পার্টির নেতৃত্বাধীন জোটে থাকা বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব মাওলানা এম এ মতিন। আওয়ামীলীগের পাশাপাশি দল গোছানোসহ নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি এগিয়ে আছেন। এ আসন থেকে মোমবাতি প্রতীক নিয়ে একাধিকবার নির্বাচন করেছেন তিনি। এবার সম্মিলিত জাতীয় জোটের হয়ে নির্বাচনে অংশ নেবেন। এ লক্ষে নির্বাচনী শোডাউনসহ আনোয়ারায় বেশ কয়েকটি সভাও করেছেন এম এ মতিন। এদিকে জাতীয় পার্টি দুই ধারায় বিভক্ত হয়ে সাংগঠনিকভাবে অনেকটা ঝিমিয়ে পড়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে মাঠে নেমেছেন জাপা মহানগর কমিটির সি.সহসভাপতি তপন চক্রবর্তী। তিনি দশম সংসদ নির্বাচনে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে এ আসনে নির্বাচন করেছেন। তপন চক্রবর্তী বলেন,এবারও তিনি দলের মনোনয়ন চাইবেন। তবে জোটবদ্ধ নির্বাচন হলে সেক্ষেত্রে মনোনয়নের হিসাব নিকাশ পাল্টে যেতে পারে। আগামী নির্বাচনের জন্য সাংগঠনিক তৎপরতা চালাচ্ছেন ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। বিভিন্ন সভা-সমাবেশেও তাঁর প্রার্থীতা জানান দিচ্ছেন দলের নেতাকর্মীরা। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে দলের ওমান শাখার সহসভাপতি মাওলানা এরফানুল হক চৌধুরীকে ঘোষণা করা হয়। তাঁর অনুসারীরা অভিনন্দন জানিয়ে পোস্টার সেঁটেছেন আনোয়ারা-কর্ণফুলীর সর্বত্র।

“নির্বাচনী কণ্ঠ”র আগামী পর্বে থাকছে ‘চট্টগ্রাম-১৫’ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম এবং তাদের নিয়ে স্থানীয়দের মূল্যায়ন। বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন “বীর কণ্ঠ” এ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *