চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

কাইছার হামিদ

বিএনপির গঠনতন্ত্র সংশোধনে আদালতের নির্দেশ পালন করবে ইসি

প্রকাশ: ২০১৮-১১-০৬ ০১:০৩:১২ || আপডেট: ২০১৮-১১-০৬ ০১:০৩:১২

 

বীর কণ্ঠ ডেস্ক:

বিএনপির সংশোধিত গঠনতন্ত্র নিয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা প্রতিপালন করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশন ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল না করে শিগগিরই এ সংক্রান্ত আবেদন নিষ্পত্তি করবে। ফলে ৭ নম্বর ধারা সংশোধন করে জমা দেওয়া বিএনপির গঠনতন্ত্র গ্রহণ করবে না ইসি। রবিবারের ( ৫ অক্টোবর) কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে  বলে জানা গেছে। বিএনপিকে সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য ইসি ইতোমধ্যে চিঠির খসড়া তৈরি করেছে বলে জানা গেছে।

সাংবাদিকরা এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘উচ্চ আদালতের একটি আদেশের কপি আমাদের হাতে এসে পৌঁছেছে। কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে আদালতের আদেশের প্রতিপালন করবে।’ কমিশন  ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করবে না বলেও জানান সচিব।
এর আগে রবিবার কমিশন সভা শেষে কমিশনার শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলেছিলেন, ‘বিএনপির বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা প্রতিপালনের বিষয় রয়েছে। শিগগিরই এটার বিষয় সিদ্ধান্ত জানতে পারবেন।’

দণ্ডিত, দেউলিয়া, উন্মাদ ও সমাজে দুর্নীতিপরায়ণ বা কুখ্যাত বলে পরিচিত ব্যক্তি কমিটির সদস্য পদের অযোগ্য বিবেচিত হবেন—এমন বিধান (গঠনতন্ত্রের ধারা-৭) বাদ দিয়ে গঠনতন্ত্রে সংশোধনী এনেছিল বিএনপি। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সাজা হওয়ার আগে চলতি বছরের জানুয়ারির শেষের দিকে সংশোধিত গঠনতন্ত্র ইসিতে জমা দেয়। বর্তমানে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান একাধিক মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত। গঠনতন্ত্রে ৭ নম্বর ধারাটি বাতিল না হলে এরই মধ্যে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান বিএনপির নেতৃত্বে থাকতে পারবেন না বলে ইসি মনে করছে।

ইসি সূত্র জানায়, গত ৩১ অক্টোবর বিএনপির সংশোধিত গঠনতন্ত্র গ্রহণ না করতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেন বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর ডিভিশন বেঞ্চ  এ আদেশ দেন। এ মামলায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা ও ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদকে বিবাদী করা হয়। রায়ের পরের দিনই ১ নভেম্বর হাইকোর্টের আদেশ প্রতিপালনের বিষয়ে একটি ফাইল কমিশনে তোলায়। এতে বিএনপির সংশোধিত গঠনতন্ত্র গ্রহণ না করা এবং গত ৩০ অক্টোবর মোজাম্মেল হোসেনের ইসিতে জমা দেওয়া আবেদনটি ৩০দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করার বিষয়ে কমিশনের অনুমোদন চাওয়া হয়। কমিশন হাইকোর্টের আদেশ প্রতিপালনের অনুমোদন দিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসির একজন কর্মকর্তা জানান, ‘রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালা, ২০০৮’-এ গঠনতন্ত্র গ্রহণ বা বাতিলের বিষয়ে কিছু বলা নেই। যেহেতু আদালত একটি রায় দিয়েছেন, তাই সেটি কমিশন প্রতিপালন করছে। তবে, এর বিরুদ্ধে কমিশনের আপিল করারও সুযোগ ছিল।

এই কর্মকর্তা জানান, এ ধারায় কমিশনকে জানানোর বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। তবে কমিশন গ্রহণ করবে কিনা, তা উল্লেখ নেই। ওই কর্মকর্তা বলেন, আরপিওর ৯০ (এইচ) ধারায় রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বাতিলের বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে। সেখানে সংশোধিত গঠনতন্ত্র কমিশন গ্রহণ না করার কারণে দলের নিবন্ধন বাতিলের বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *