চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

আবদুল হাকিম রানা পটিয়া প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম-১২: পটিয়ায় আ’লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মাঠে, নির্দেশনার অপেক্ষায় বিএনপি

প্রকাশ: ২০১৮-১১-০৭ ২২:০৭:০০ || আপডেট: ২০১৮-১১-০৭ ২২:০৭:০০

 

আবদুল হাকিম রানা :

আর এক দিন পরেই নির্বাচন কমিশন ঘোষণা দিতে যাচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফশীল। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে রাজনৈতিক দলগুলো সংলাপ শুরু করেছে। আগামী ৭ নভেম্বর সর্বশেষ সংলাপের পরেই নির্বাচন কোন দিকে যাচ্ছে তা পরিস্কার হবে বলে বিজ্ঞ মহলের ধারণা। তারপরও সারাদেশে আওয়ামী লীগ সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নির্বাচন নিয়ে নিজেদের অবস্থান ঠিক করতে মাঠে ময়দানে চষে বেড়াচ্ছেন সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।

(চট্টগ্রাম-১২) দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাবেক মহকুমা সদরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আসন চট্টগ্রাম-১২ পটিয়া সংসদীয় আসন। এ আসনে বিগত ২টি নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনা করেছেন চট্টগ্রাম আবাহনী লিমিটেডের মহা সচিব দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ নেতা সামশুল হক চৌধুরী।

তিনি ছাড়াও বর্তমানে আওয়ামী লীগ থেকে বিজিএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি মোহাম্মদ নাছির, সাবেক মহিলা সাংসদ চেমন আরা তৈয়ব, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বদিউল আলম এবং চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম.এ রশীদও মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে পটিয়ায় বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে গণসংযোগ করছেন। এছাড়াও কেন্দ্রের ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক এমপি গাজী মু. শাহজাহান জুয়েল, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইদ্রিস মিয়া, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আলহাজ্ব এনামুল হক, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় শিল্প বিষয়ক উপদেষ্টা সাবেক এমপি সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ইসলামী ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় মহা সচিব এম. এ মতিন, কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড শাহ আলম, এলডিপির শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক এম. এয়াকুব আলী।

আওয়ামী লীগ থেকে দু’দুবার বিজয়ী এমপি সাংসদ আলহাজ্ব সামশুল হক চৌধুরী এবারও দল থেকে মনোনয়ন নিয়ে হ্যাট্রিক জয়ের আশা নিয়ে মাঠে-ময়দানে চষে বেড়াচ্ছেন। ইতিমধ্যে তিনি উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মধ্যে অধিকাংশ ভোট কেন্দ্রের কমিটি গঠন সম্পন্ন করেছেন। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেছেন, আওয়ামী লীগ বড় রাজনৈতিক দল। এ দলের নেতৃত্বেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। তাই দল থেকে যে কেউ মনোনয়ন চাইতেই পারেন। সেক্ষেত্রে দল তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সাথে সম্পৃক্ত প্রার্থীকেই মনোনয়ন দেবে এটাই এক প্রকার নিশ্চিত। সেই হিসেবে বিগিত ১০ বছর তিনি যেভাবে পটিয়ায় উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনা করে তৃণমূলের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন সেই হিসেবে শুধু আওয়ামী লীগ নয় দেশের উন্নয়নকামী সকল ভোটারই তাকে ভোট দেবেন। এছাড়াও তিনি বলেন, অতীতে যেখানে ভোট বেশী পেতেন নির্বাচিত এমপিরা সেখানেই বেশী উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করতেন। কিন্তু তিনি ব্যতিক্রম হিসেবে বিগত ১০ বছর তিনি সেই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে পুরো পটিয়ায় সমন্বিত উন্নয়ন নিশ্চিত করেছেন বলে জানান। তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ সহায়তায় পটিয়ায় বিগত দুই মেয়াদে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন হয়েছে। আরো ৫শ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। তিনি এ কর্মকান্ডগুলো সম্পন্ন করার মাধ্যমে পটিয়াকে মডেল জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে আবারো নৌকা মার্কাকে বিজয়ী করার জন্য পটিয়াবাসীর দোয়া চান।
বিজিএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি মোহাম্মদ নাছির বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের সাথে রাজনীতির সাথে জড়িত রয়েছি। আমি দলের বাইরেও বিভিন্ন উন্নয়ন ও সহায়তামূলক কর্মকান্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কল্যাণে দীর্ঘদিন যাবৎ কাজ করে আসছি। বর্তমানে আমি ত্যাগী নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে তাদেরই অনুরোধে দলের মনোনয়ন পেতে কাজ করে যাচ্ছি। আশা করি দল আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি সকলকে সাথে নিয়ে নৌকাকে বিজয়ী করতে পারবো। সাবেক মহিলা সাংসদ চেমন আরা তৈয়ব বলেন, আমি জননেত্রী শেখ হাসিনার একান্ত আস্থাভাজন হিসেবে মহিলা সাংসদ নির্বাচিত হয়ে ইতিপূর্বে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রেখেছি। দল মূল্যায়ন করলে আমি পটিয়া থেকে নেত্রীকে নৌকা মার্কাকে বিজয়ী করার শতভাগ আশাবাদী।
যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বদিউল আলম বলেন, আমি সাবেক একজন ছাত্রনেতা হিসেবে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী। বিগত পৌর নির্বাচনে আমার বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি নৌকাকে বিজয়ী করতে পারবো। জাপা থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী জাপার চেয়ারম্যান হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদের শিল্প বিষয়ক উপদেষ্টা আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আমি বিগত সময়ে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য হিসেবে পটিয়ায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করেছি। বিভিন্ন সময়ে পটিয়ার মানুষের সুখে দু:খে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে সম্মিলিত জাতীয় জোট আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি পল্লীবন্ধু হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদকে আসনটি উপহার দিতে পারবো।

এছাড়াও গত শনিবার পটিয়ায় জাপার সাথে সম্মিলিত জাতীয় জোটে থাকা ইসলামী ফ্রন্ট মোমবাতি প্রতিক নিয়ে পার্টির মহা সচিব এম. এ মতিন এক নির্বাচনী জনসভা করেছেন। এতে তিনি মোমবাতি প্রতিকে তাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার জন্য পটিয়াবাসীর দোয়া চান। এছাড়াও বর্তমানে বিএনপি থেকে পটিয়ায় ৩ জন প্রার্থী মাঠে সক্রিয় থাকলেও বর্তমানে তার নিষ্প্রভ। তারা দলের হাই কমান্ডে মনোনয়নের ব্যাপারে জোর তদবীর চালাচ্ছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন।

বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক এমপি গাজী মুহাম্মদ শাহজাহান জুয়েল বলেন, আমি পটিয়ায় দু’বার এমপি থাকাকালীন অনেক উন্নয়ন করেছি। দল আমার প্রতি আস্থাশীল। পটিয়ায় আমিই মনোনয়ন পেলে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে পারবো। সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ইদ্রিস মিয়া বলেন, বিগত ওয়ান ইলেভেনের সময় সুবিধাভোগীরা দলের নেতাকর্মীদের তোপের মুখে ঠেলে দিয়ে আত্মগোপন করেছিলেন। একমাত্র আমিই দলের দু:সময়ে বিএনপিকে গুছিয়ে দলের অস্থিত্ব ধরে রেখেছিলাম। এছাড়াও আমি আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা থেকে বেশী ভোট পেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলাম। আমার বিশ্বাস দল সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে যদি নির্বাচনে অংশ নেয় তাহলে আমাকেই মনোনয়ন দেবেন। অপরদিকে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আলহাজ্ব এনামুল হক এনাম বলেন, আমি বিগত সময়ে দলকে সুসংগঠিত করতে অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি। এমনকি আমার দলীয় গঠনমূলক কর্মকান্ডে ঈর্ষান্বিত হয়ে নিজ দলের কিছু বিপদগামী আমাকে হত্যা করতে চেয়েছিল। যা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সহ সকলেই অবহিত আছেন। আমি আশা করি সার্বিক দিক বিবেচনায় নিয়ে দল আমাকেই মনোনয়ন দেবেন।

এদিকে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে পটিয়ার কেলিশহরের ভোটার খায়ের আহমদ বলেন, জনগণের সাথে সম্পৃক্ত এবং যাকে সুখে দু:খে পাশে পাওয়া যায় এমন প্রার্থীকেই পটিয়ার মানুষ নির্বাচিত করবে। জিরির অরুণ নাথ জানান, নির্বাচন আসলে যারা শুধু ভোটের রাজনীতি করে জনগণ তাদেরকে ভোট দেবে না। যাদেরকে সব সময় এলাকায় পাওয়া যায় তাদেরকেই জনগণ ভোট দেবে। আমরাও এমন প্রার্থী চাই যার সাথে রয়েছে জনসম্পৃক্ততা।
এছাড়াও পটিয়ায় লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপির) পক্ষ থেকে শিল্পপতি এম. এয়াকুব আলী এবং কমিউনিস্ট পার্টি থেকে কমরেড শাহ আলম ও নির্বাচন করবেন বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে নির্র্বাচনের তপশীল ঘোষণার দিন যতই ঘনিয়ে আসছে পটিয়ায় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা গণ সংযোগ সহ বিভিন্ন সভা-সমিতিতে অংশ নিয়ে জনমত গড়তে কৌশলে এগুচ্ছেন। বর্তমানে ৮ নভেম্বর তফশীল ঘোষণা হলেই দেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের আলোকে সব দল ভোটের জন্য মাঠে নেমে পড়লে দৃশ্যপট পাল্টে যাবে বলে বিজ্ঞ মহলের ধারণা। তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী হাওয়া কোন পথে আগায় তা দেখতে তফশীল ঘোষণা পূর্ব মুহুর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *