চট্টগ্রাম, , সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

আবদুল হাকিম রানা পটিয়া প্রতিনিধি

পটিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপতাল : বেড সংকট, ডায়রিয়া ও স্বাসকষ্ট জনিত রোগীর ছড়াছড়ি : ফ্লোরেই নিচ্ছে চিকিৎসা 

প্রকাশ: ২০১৮-১১-০৮ ০০:৪৪:৫৪ || আপডেট: ২০১৮-১১-০৮ ০০:৪৪:৫৪

আবদুল হাকিম রানা, বীর কন্ঠ :

পটিয়ায় আকষ্মিক ছড়িয়ে পড়েছে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্ঠ জনিত বিভিন্ন রোগ ব্যাধী। এতে ৫১ বেডের এ হাসপাতালে সিট না পেয়ে ফ্লোরে শুয়েই চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে এ হাসপাতালটিতে ১০০শয্যার হাসপাতালে রূপান্তর করার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

জানা যায়, পটিয়া হচ্ছে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাবেক মহকুমা সদর ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ঘোষিত জেলা শহর। এর বর্তমানে রয়েছে প্রায় সাত লক্ষ জনসংখ্যা।  আর এ বিপুল সংখ্যক অধিবাসীদের জন্য রয়েছে মাত্র ৫১ বেডের একটি হাসপাতাল। আবার এ হাসপাতালে শুধু পটিয়া নয় দক্ষিণ চট্টগ্রামের বোয়ালখালী, চন্দনাইশ, কর্নফুলী সহ অন্যান্য উপজেলার মানুষগুলো ও চিকিৎসাসেবা গ্রহন করে।

গত তিন দিনে হটাৎ এ হাসপাতালে বহি: বিভাগ ও আন্ত: বিভাগে এত বেশী রোগী ভীড় করছে যে চিকিৎসকরা সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন বলে জরুরী বিভাগের  কর্তব্যরত  চিকিৎসক সুপ্রিয়া বড়ুয়া জানান। গতকাল সরেজমিন পটিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, জরুরী বিভাগ ফ্লোর ও মেজে শুধু রোগী আর রোগী। চিকিৎসকদের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান আবহাওয়া পরিবর্তনের কারনে শিশুদের ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্ট জনিত রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। আমরা যে রোগীগুলোর ব্যাধী সহনীয় তাদের ঔষধ দিয়ে ছেড়ে দিচ্ছি। আর যাদের অবস্হা আশংকা জনক তাদের ভর্তি করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত গত তিন দিনে প্রায় কয়েক’শ রোগীকে বহি: বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া  হলে ও বর্তমানে গড়ে প্রতিদিন শতাধিক রোগী ভর্তি থাকছে।

চিকিৎসার জন্য ভর্তি আছে এমন রোগীদের মধ্যে সাইফিয়া ইসলামের পিতা ফয়জুল ইসলাম জানান, আমি হুলাইন থেকে দুই দিন পূর্বে বাচ্চার শ্বাসকষ্ট জনিত রোগ সারাতে হাসপাতালে এসেছি। এখনো চিকিৎসা চলছে। ডাক্তাররা বলেছেন ৪/৫ দিনের মধ্যে ভাল হয়ে যাবে। বোয়ালখালীর শাকপুরা থেকে আসা শিশু রাফির পিতা ওসমান গনী বলেন, আমার ছেলে ৪ দিন আগে ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়। তাকে পটিয়া হাসপাতালে  চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ডাক্তাররা বলেছেন দুই এক দিনের মধ্যে ভাল হয়ে যাবে। চন্দনাইশের কাঞ্চননগর থেকে আসা শিশু আবদুল হামিদের পিতা নাছির উদ্দিন বলেন, আমার ছেলে ডায়রিয়া আক্রান্ত। পটিয়া হাসপাতালে চিকিৎসা ভাল তাই এখানে ভর্তি  করেছি। ডাক্তাররা সাধ্য মত সুস্থতাার চেষ্টা করছে। তবে আবহাওয়া জনিত ভাইরাসের কারনে এ রোগ হয়েছে বলে জানিয়েছে। পটিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ওয়াহিদ হাসান জানান। ভাইরাস জনিত রোগ ছড়িয়ে পড়ায় এ অবস্হা । তবে ধৈয্য ধরে চিকিৎসা করলে  সব ঠিক হয়ে যাবে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পটিয়া স্বাস্থ্য ও প: প: কর্মকর্তা আবু ইউসুফ মোহাম্মদ ওয়াহিদ উল্লাহ বলেন, ভাইরাস জনিত এ রোগ। ৪/৫ দিন চিকিৎসা করালে ছড়িয়ে পড়া রোগ সেরে যাবে। তিনি বলেন গত তিন দিনে পটিয়ায় আশংকাজনক হারে এ জাতিয় রোগী বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালে রোগী  রাখার  স্থান সংকুলান হচ্ছে না। তারপর ও আমরা কম আক্রান্তদের ঔষধ ও ব্যবস্থাপত্র দিয়ে ছেড়ে দিচ্ছি। আর বেশী আক্রান্তদের ভর্তি দিচ্ছি। তিনি এ রোগে কাউকে না ঘাবড়ানোর আহবান জানান এবং আক্রান্তদের হাসপাতালে যোগাযোগ করে চিকিৎসা সেবা নেওয়ার জন্য পরামর্শ প্রদান করে বলেন, হাসপাতালটি দক্ষিণ চট্টগ্রামে প্রাণকেন্দ্রে হওয়ায় পার্শ্ববর্তী উপজেলা গুলোর রোগীরাও এখানে সেবা নিতে আসছে। ফলে আমাদের ৫১ বেডে সংকুলান হচ্ছে না।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *