চট্টগ্রাম, , সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

এম মাঈন উদ্দিন মিরসরাই প্রতিনিধি

সরকারের চলমান উন্নয়ন কর্মকান্ডে অবদান রাখছে বৃহত্তর ফেনী নদী বালু ব্যবসায়ী সমিতি,  বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পাচ্ছে সরকার

প্রকাশ: ২০১৮-১১-০৮ ১৭:৩১:২৫ || আপডেট: ২০১৮-১১-০৮ ১৭:৩১:২৫

এম মাঈন উদ্দিন, মিরসরাই :

নদী মাতৃক অপরুপ আমাদের এই বাংলাদেশ। আর এই সবুজ শ্যামল বাংলার রয়েছে অপার সম্ভাবনাময় অনেক প্রাকৃতিক সম্পদ। তেরশত নদীর দেশের মধ্যে কয়েকশ নদীর প্রাকৃতিক সম্পদের অন্যতম একটি হলো বালু। বালু উত্তোলনের ফলে একদিকে যেমন ওইসব নদী খনন করা হচ্ছে। অন্যদিকে স্থানীয়রা এবং সরকার প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার রাজস্ব পাচ্ছে। দেশে শত শত নদী থাকলেও সব নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হয় না। আবার অনেক নদী থেকে বালু উত্তোলন করায় সরকার যেমন প্রতি বছর হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পাচ্ছে। ঠিক তেমনি যারা ইজারার মাধ্যমে বৈধভাবে বালু উত্তোলোন করছে তারাও কোটি কোটি টাকা আয় করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করছেন। এদিকে মিরসরাই সীমান্তের শেষ প্রান্তে ফেনী নদী থেকে বালু উত্তোলন করে উত্তর চট্টগ্রামের বালুর চাহিদা মেটাচ্ছে বৃহত্তর ফেনী নদী বালু ব্যবসায়ী সমিতি।

 

সরেজমিনে গিয়ে এবং ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এই নদী থেকে উত্তোলিত বালু দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম চারলেনের উন্নীত করণের কাজে, স্থানীয়দের বিল্ডিং নির্মাণে এবং দেশের সর্ববৃহৎ শিল্পজোন (মিরসরাই ইকোনোমিক জোনে) নির্মাণে বৈধভাবে এই বালুই সর্বরাহ করা হয়েছে। চট্টগ্রামের শেষ সীমান্ত এলাকা হওয়ায় শুধু ফেনী নদীর দক্ষিণ পাশের তিনটি নির্ধারিত ঘাট মোল্লাঘাট, জালিয়াঘাট, ও ফেনী নদীর ধুমঘাট ব্রিজ এলাকাসহ প্রয়োজনীয় সংখ্যাক স্থান থেকে বৈধভাবে বালু উত্তোলন করে সারি সারি স্তুপ সাজিয়ে রাখা হয়। প্রতিটি ঘাটে প্রায় ২০-২৫টি করে স্তুপ রয়েছে। আর এই বালু উত্তোলনে ব্যবহার করা হচ্ছে ছোট ছোট ড্রেজার সংযুক্ত নৌকা। মোটা লোহার পাইপের সাহায্যে নদীর পাশে এই বালু সাজিয়ে রাখা হয়। পরে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ক্রেতারা ট্রাক যোগে এখান থেকে বালু নিয়ে উত্তর চট্টগ্রাম তথা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিয়ে যাচ্ছেন। বৃহত্তর ফেনী নদী বালু ব্যবসায়ী সমিতির পরিচালনার জন্য একটি কমিটি রয়েছে যার সভাপতি মো. সোনা মিয়া মেম্বার, সাধারণ সম্পাদক শেখ সেলিম এবং ব্যবস্থাপক আলহাজ্ব মহসিন আলী। এছাড়াও এ সমিতির মোট সদস্য সংখ্যা ১৬০জন। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বালু মহালের সাথে প্রায় ৫ শতাধিক পরিবার জড়িত রয়েছে। বালু মহালটির প্রতি বছর ইজারা এবং আনুসাঙ্গিক খরচ আসে প্রায় দেড় কোটি টাকা। এই মহালটি সমিতির লাইসেন্স ধারী একজনের নামে ইজারা নেয়া হয়। পরে সমিতির সকল সদস্যের সমন্বয়ে এটি পরিচালনা করা হয়। এছাড়া নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন এবং বাজারজাত করার জন্য ৩০ সদস্যের একটি উপ কমিটি রয়েছে। তারা নিজ খরচে বালু উত্তোলন করে বাজারজাত করে। আর ইজারাদার ও সমিতির জন্য লভ্যাংশ থেকে ফুট প্রতি ১ টাকা হারে সমিতিতে প্রদান করে।

 

এই বিষয়ে সমিতির সভাপতি মো. সোনা মিয়া মেম্বার ও সাধারণ সম্পাদক শেখ সেলিম বলেন, আমরা প্রতি বছর এ বালু মহালটির ইজারা নিয়ে বৈধভাবে সরকারী সকল নিয়ম মেনে ব্যবসা করে আসছি। নিয়মিত মিটিংয়ের মাধ্যমে সমিতির সকল সদস্যদের মতামতদের ভিত্তিতে সমিতির সকল কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এখান থেকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় বালু সরবরাহ করা হয়। এছাড়াও বর্তমানে মিরসরাইয়ে যে ইকোনোমিক জোন করা হচ্ছে সেখানেও বালু সরবরাহ করা হচ্ছে এখান থেকে।

ব্যবস্থাপক আলহাজ্ব মহসিন আলী জানান, বর্তমান সরকারের চলমান উন্নয়ন কর্মকান্ডে এই বালু সমিতি অবদান রাখছে। শুধু তাই নয়, এই বালু ব্যবসার লভ্যাংশ থেকে স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক কর্মে (শিক্ষা, চিকিৎসা দুঃস্থ, বিয়ে, খেলাধুলসহ) নানাবিধ সামাজিক কার্যক্রমের সহায়ক হিসেবে কাজ করছে এই প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি মিরসরাই সাংসদ গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি বালুমহালটি সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। তিনি এসময় বলেছেন, এই বালু মহালে সিমেন্ট এবং বালু যুক্ত করে পরিবেশ বান্ধব ইট নির্মাণ করা হবে। যা দেশের বিভিন্নস্থানে সরবরাহ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *