চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

এস. এম. রাশেদ চন্দনাইশ প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম-১৪, আ’লীগের মনোনয়নপত্র সংগ্রহে এক ঝাঁক নবীন প্রবীন

প্রকাশ: ২০১৮-১১-১০ ২১:০৩:০০ || আপডেট: ২০১৮-১১-১০ ২১:০৩:০০

এসএম রাশেদ,চন্দনাইশ

চট্টগ্রাম ১৪, চন্দনাইশ-সাতকানিয়া (আংশিক) আসনের জন্য এবার নবীন প্রবীন মিলে এক ডজেনরও বেশী প্রার্থী আ’লীগের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন আরো বাকী সময়ে অর্ধডজন সম্ভাব্য আ’লীগের প্রার্থী মনোনয়ন সংগ্রহ করবে বলে বিশস্ত সূত্রে জানা যায়। এবার ইতিমধ্যে যারা ১ম দিনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে জানা গেছে তারা হলেন, সাংসদ সদস্য আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, রিহ্যাব চিটাগাং রিজিওনাল কমিটির চেয়ারম্যান আবদুল কৈয়ূম চৌধুরী, উপজেলা আ’লীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম জাহাঙ্গী, সাধারণ সম্পাদক আবু আহমদ জুনু,ব্যারিষ্টার ইমতিয়াজ উদ্দীন আহমদ আসিফ,সহকারী এটর্নি জেনারেল এডভোকেট মাসুদ আলম চৌধুরী, সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান খালেদা আক্তার চৌধুরী, উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুর রহমান চৌধুরী,এড. নজরুল ইসলাম,মোঃ কায়কোবাদ ওসমানী, ২য় দিনে ড. নাছির উদ্দীন জয়, আলতাফ মাহমুদ শিমুল প্রমুখ। এখন হাটবাজার, রাস্তাঘাটে ও এলাকার প্রতিটি চায়ের দোকানেও চায়ের চুমুতে ঝড় উঠছে আ’লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে। কে কে মনোনয়ন ফরম নিচ্ছে আবার কারা কারা জমা দিচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত কে পাচ্ছেন আ’লীগের নৌকার টিকেট? এমন প্রশ্ন গোড়পার্ক খাচ্ছে চট্টগ্রাম-১৪ সংসদীয় আসনের আ’লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে। এ দিকে জাপার নেতৃত্বে রবিবার থেকে দলীয় ফরম বিতরণ করবে। এ জোটের পক্ষে দক্ষিণ জেলা জাপার সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল গফুর চৌধুরী,চট্টগ্রাম মহানগর জাপার প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক আনিসুল ইসলাম চৌধুরী, জাপার কৃষকপাটির সাধারণ সম্পাদক একেএম বাদশা,ইসলামী ফ্রন্ট থেকে যুগ্ম মহাসচিব স.উ.ম আবদুস সামাদ, অধ্যক্ষ মাওলানা আহমদ হোছাইন আল-কাদেরী, প্রবাসী আমান উল­াহ সমরকন্দি ফরম নিবেন বলে জানা গেছে।  অপরদিকে বিএনপির নেতৃত্বধীন জোটের কোন চুড়ান্ত সিন্ধান্তের না আসায় বিএনপি,এলডিপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে নিরবতা,উদ্বেক ও উৎকন্টা বিরাজ করছে। তবে আ’লীগ, জাপা ও ইসলামী ফ্রন্টের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে আনন্দের জোয়ার। দলের প্রার্থী যে হোক না কেন আ’লীগের নেতাকর্মীরা যে কোন অনুষ্ঠান সভা ও সেমিনারে এবার এ আসনটিতে আ’লীগের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে এখন থেকে নৌকা মার্কায় ভোট খুচছেন এবং অপর দিকে জাপার দলীয় কার্যক্রম চোখে না পড়লেও ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী স.উ.ম আবদুস সামাদের পক্ষে জোর প্রচারণা লক্ষ করা যাচ্ছে ।  উলে­খ্য, দেশ স্বাধীনের পর সর্বপ্রথম ১৯৭২ সালে সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে আ’লীগের ডাঃ এ.বিএম ফয়েজুর রহমান নির্বাচিত হয়েছিল। ১৯৭৯ সালে সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ব্যারিষ্টার মাহাবুবুল কবির নির্বাচিত হওয়ার ১ বছরের মধ্যে তাকে রাষ্টদূত করে বিদেশে পাটিয়ে দিলে ১৯৮০ সালে উপ-নির্বাচনে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানে ব্যাক্তিগত সচিব কর্ণেল অলি আহমদ বীর বিক্রম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৬-৮৮ সালের নির্বাচনে জাতীয় পাটির ইঞ্জিনিয়ার আফসার উদ্দীন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১সালের নির্বাচনে পুনঃরায় বিএনপির কর্ণেল (অবঃ) অলি আহমদ নির্বাচিত হন এবং যোগাযোগ মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্র“য়ারী প্রথম দফায় বিএনপি থেকে কর্ণেল (অবঃ) অলি আহমদ বিনা প্রতিদন্ধন্দিতায় নির্বাচিত হন এবং একই সালের ১২জুন নির্বাচনে ২য় দফায় অলি আহমদ চট্টগ্রাম-১৩ ও ১৪ এ দুই আসনেই বিএনপির টিকেট নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ১৪ আসনের সংসদ সদস্যের পদ রেখে ১৩ আসন ছেড়ে দেন এবং ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৯৬ সালের উপ-নির্বাচনে কর্ণেল অলির সহ-ধর্মনী মমতাজ অলি বিএনপি থেকে এ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে কর্ণেল (অবঃ) অলি বিএনপি থেকে পূনরায় নির্বাচিত  হলেও নানা কারণে সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বে ২৬ অক্টোবর ২০০৬ সালে কর্ণেল অলির নেতৃত্বে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি এলডিপি গঠন করা হয়। পরে ২০০৮ সালের ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এলডিপর ছাতা মার্কা নিয়ে এ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী নির্বাচনে আ’লীগের আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম চৌধুরী বিনাপ্রতিন্দিন্ধতায় নির্বাচিত হন। যদিও আসনটিতে স্বাধীনতা পরবর্তীতে আ’লীগের প্রার্থী একবার নির্বাচিত হলেও জাতীয়তাবাদীর প্রার্থী বার বার নির্বাচিত হওয়ায় এটি জাতীয়তাবাদী শক্তির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত লাভ করেন এবং এলাকায়ও ব্যাপক উন্নয়ন হয়। ২০১৪ সালের নির্বাচনে আ’লীগের প্রার্থী বিনাপ্রতিদন্ধীতায় নির্বাচিত হলে আসনটি দীর্ঘ ৪২ বছর পর আ’লীগ পূনঃরায় উদ্ধার করে। বর্তমান সাংসদ আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গত ৫ বছরে শঙ্খনদীর ভাঙ্গন প্রতিরোধক বাঁধ,স্কুল, কলেজ,মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দিরসহ রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন হওয়ায় নৌকা মার্কায় ভোটের পাল­া ভারী হতে পারে বলে ভোটারা মত প্রকাশ করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *