এস. এম. রাশেদ
চন্দনাইশ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০১৮-১১-২৪ ১৯:৫৯:৫০ || আপডেট: ২০১৮-১১-২৪ ১৯:৫৯:৫০
এসএম রাশেদ,চন্দনাইশ:
চন্দনাইশে ইটভাটাগুলোতে শীত মৌসুম শুরু হতে না হতেই কাঠ পুড়ানোর মহোসৎব শুরু হয়েছে। ধানি জমির মাটি,পাহাড়ী মাটি ও কাঠ ইট ভাটায় সরবরাহ হওয়াসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও প্রভাবশালীমহল আইনকে বৃদ্ধাগুলি দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দেখেও না দেখার বান করে আছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, চন্দনাইশের হাশিমপুর, সাতবাড়ীয়া, কাঞ্চননগর এলাকায় প্রায় ৪০টির মত ইটভাটা রয়েছে। যা গত কয়েক বছর আগেও এ ইটভাটার সংখ্যা ছিল অর্ধেক। যদিও পাহাড়ী পাদদেশে কোন ইটভাটা অনুমোদন দেওয়ার আইন না থাকলেও সরকারী আইনকে বৃদ্ধাগুলি দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট অসাধু কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে বিশেষ করে কাঞ্চননগর ও হাশিমপুর এলাকায় বিশাল পাহাড়ী এলাকা জুড়ে অবৈধভাবে ২২/২৫ টি ইটভাটা ঘটে উঠেছে। তাছাড়া অনেক ইটভাটাগুলোতে নেই কোন পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, লাইসেন্স ও অনুমোদন। ইটভাটাগুলোতে কাঠপুড়ানো নিয়ম না থাকলেও তারা কয়লার বদলে পুড়াচ্ছে কাঠ। এছাড়া পাহাড়ের পাদদেশে ইটভাটা নিমার্ণ হওয়ায় এক দিকে পাহাড়ের কাঠ ও অন্যদিকে পাহাড়ের মাটি উজাড়ের মহোসৎব চলছে। এসব নিয়ম নীতিকে তোয়াক্কা না করে প্রভাবশালীমহল ইটভাটাগুলোকে পরিচালনা করছে বছরের পর বছর। এদিকে পরিবেশবিদরা মনে করেন, পাহাড়ে মাটি কাটা ও গাছ কাটার ফলে জীব বৈচিত্রের জন্য যেমন হুমকি তেমনি ভূমিকম্পে ভূমিধসের মত বড় দূর্ঘটনায় দেশে ভয়াবহ বিপর্যয় সৃষ্টি হতে পারে। সরেজমিন পরিদর্শনে গত শুক্রবার বিকালে পূর্ব হাশিপুর (বাগিছাহাট) রেল ষ্টেশনের পূর্ব পাশে এল.বি.এল ইটভাটায় গিয়ে দেখা গেছে ট্রাকে ট্রাকে চারা কাঠ স্তুপ করে রাখা হচ্ছে। স্থানীয় জৈনিক কাঠ ব্যবসায়ী বলেন, স্থানীয় পাহাড় থেকে এ কাঠগুলি ইটভাটায় এনে বিক্রি করছেন। এছাড়া পাশ্ববর্তী আরো কয়েকটি ইটভাটাগুলোরও দেখা যায় একই চিত্র। চন্দনাইশে ইটভাটাগুলোর নানা অনিয়ম নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন শিঘ্রই প্রকাশ করা হবে।
এব্যাপারে চন্দনাইশ উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা আ.ন.ম বদরুদ্দোজা জানান, জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যাস্ততা থাকলেও আমরা পাহাড়ী মাটি কাটা ও অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছি। তবু আমরা প্রয়োজনে তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্টদের বিভাগের সাথে কথা বলে যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করব।
উল্লখ্য, গত ২০১৩ সালে দৈনিক বীর চট্টগ্রাম মঞ্চে সংবাদ প্রকাশের পর পরিবেশ অধিদপ্তর,বনবিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথ অভিযানে ভ্রাম্যমান আদালত কয়েকটি ইটভাটায় শীলগালা,জরিমানা সংশ্লিষ্টকে কর্তৃপক্ষকে সাজা দিয়েছিলেন।