চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

মিজবাউল হক চকরিয়া অফিস

কপাল খুলল জাফর আলমের কপাল পুড়ল ইলিয়াছের : আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ 

প্রকাশ: ২০১৮-১১-২৫ ২২:৩৬:২০ || আপডেট: ২০১৮-১১-২৫ ২২:৩৬:২০

মিজবাউল হক, চকরিয়া:

অবশেষে ভাগ্যের কপাল খুলল জাফর আলমের আর কপাল পুড়ল জাপা সাংসদ ইলিয়াছের। সব কল্পনা-জল্পনার অবসান ঘটিয়ে কক্সবাজার-১ চকরিয়া-পেকুয়া আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেয়েছেন চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আলম। গতকাল ২৫ নভেম্বর সকাল দশটার সময় আওয়ামীলীগের ধানমন্ডী দলীয় কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বাক্ষরযুক্ত একটি চিঠি জাফর আলমের হাতে তুলে দেন দলের সাধারণ সম্পাদক সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এদিকে জাফর আলমের মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে চকরিয়া-পেকুয়ার বিভিন্ন স্থানে মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিল করেছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।

জানা যায়, ২০০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনা ভোটে চকরিয়া-পেকুয়া আসনে সাংসদ নির্বাচিত হন কেন্দ্রীয় জাতীয় পার্টির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ও কক্সবাজার জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মৌলভী মোহাম্মদ ইলিয়াছ। তবে ওইসময় আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েছিলেন জাফর আলম। কিন্তু জাতীয় রাজনীতির নানা সমীকরণে আসনটি জাপা প্রার্থী ইলিয়াছকে ছেড়ে দেন মহাজোট। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন জাফর আলমও। এতে বিএনপি-জামায়াত নির্বাচন বয়কট করার কারণে মৌলভী মোহাম্মদ ইলিয়াছ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় এমপি নির্বাচিত হন। ওইসময় থেকে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাহার করলেও রাজনীতির মাঠের হাল ছাড়েননি জাফর আলম। চকরিয়া-পেকুয়া উপজেলাবাসীর সবসময় সুখে দু:খে ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান নিবার্চিত হয়ে নানা উন্নয়ন কর্মকান্ডে ব্যাপক অবদান রাখেন। দলের যে কোন কর্মসূচী পালনেও অসামান্য ভূমিকা পালন করেন জাফর আলম। এসব কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরেও আসেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব জরিপ ও একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার জরিপে উঠে আসে জাফল আলমের নাম। এরপর থেকে শেখ হাসিনার গুডলিস্টে অন্তর্ভূক্ত হন তিনি। ইতোমধ্যে চকরিয়া-পেকুয়া আসনে ভোট যুদ্ধে লড়াই করতে ২৫জন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। শেষ পর্যন্ত মহাজোট থেকে মনোনয়ন পেলেন জাফর আলম। গতকাল দলীয় কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বাক্ষরযুক্ত একটি চিঠি জাফর আলমের হাতে তুলে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

 

এদিকে জাফর আলম মনোনয়ন পাওয়ার খবর চকরিয়া-পেকুয়ায় ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন স্থানে আওয়ামীলী, যুবলীগ, স্বেচ্চাসেবকলী, শ্রমিকলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আনন্দ মিছিল করেছেন। এছাড়াও উপজেলা পরিষদ, চকরিয়া পৌরসভা, চিরিঙ্গা শহর ও পেকুয়ায় তার সর্মথকদের মিষ্টি বিতরণ করতে দেখা গেছে।

 

২৬ নভেম্বর জাফর আলম চকরিয়ায় আগমন উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন উপজেলা আওয়ামীলীগ, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠন গুলো। তাকে বরণ করতে হারবাং, বরইতলী, লক্ষ্যারচর, কৈয়ারবিল, কাকারা, সুরাজপুর-মানিকপুর, ফাঁশিয়াখালী, ডুলাহাজারা ও খুটাখালীতে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি সভা সমপন্ন করেছেন। একইভাবে পেকুয়া ও মাতামুহুরী আওয়ামীলীগও ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন।

 

চকরিয়া উপজেলা ইউপি চেয়ারম্যান সমিতির সভাপতি ও আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী বলেন, চকরিয়া-পেকুয়া বাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নœ ছিলো নৌকার প্রার্থীকে বিজয় করার। কিন্তু বিগত সময়ে নৌকার মনোনয়ন পেলেও দুর্বল প্রার্থীর কারণে আমরা বিজয় অর্জন করতে পারেনি।

এবার জননেত্রী শেখ হাসিনা এই আসনে চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আলমকে মনোনয়ন দিয়ে চকরিয়া-পেকুয়াবাসীর দীর্ঘদিনের আশা পুরণ করেছেন। তিনি আরও বলেন, দলের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে এই আসনে আগামী ৩০ ডিসেম্বর ভোটের মাধ্যমে নৌকার বিজয় সু-নিশ্চিত করবো।

একই কথা বলেন চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চকরিয়া পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী। তিনি বলেন, নেতার্কমীদের আশা পূরণ হয়েছে। এবারের নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থীক জাফর আলমের নেতৃত্বে ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে চকরিয়া-পেকুয়ার হারানো আসনটি উদ্ধার করবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *