আবদুল হাকিম রানা
পটিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০১৮-১১-২৭ ২২:০৯:৫৩ || আপডেট: ২০১৮-১১-২৭ ২২:০৯:৫৩
আবদুল হাকিম রানা, বীর কন্ঠ :
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সহ অধিনায়ক ইউএসএইড-এর ‘শুভেচ্ছা দূত’ মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ বলেছেন, শিক্ষার্থীদেরকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হলে ইভটিজিং, বাল্য বিবাহ সহ বিভিন্ন কুসংস্কার থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এছাড়াও তাদেরকে পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়েও সচেতন থাকতে হবে। তিনি আরো বলেন, খেলাধূলা পরস্পর ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সৃষ্টিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তাই নিয়মিত পাট্যক্রমিক শিক্ষার পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীদেরকে ক্রীড়ামুখি করার জন্য অভিভাবক শিক্ষক সহ সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি আজ মঙ্গলবার পটিয়া উপজেলা লাখেরা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে মতিবিনিময় কালে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। এসময় ইউএসএইড এর কর্মকর্তারা ছাড়াও লাখেলা উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি নাছির আহমদ চেয়ারম্যান বক্তব্য রাখেন। এরপরে তিনি লাখেরা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে একটি বন্ধুসুলভ ক্রিকেট ম্যাচে অংশ নেন।
এছাড়াও তিনি চট্টগ্রামে ইউএসএইড আয়োজিত উন্নয়নমূলক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি চট্টগ্রামে ইউএসএইড-এর ‘শুভেচ্ছা দূত’ হিসেবে তিনি ঘুরে দেখেন ‘উজ্জীবন সোশ্যাল বিহেভিওরাল চেঞ্জ কমিউনিকেশন’ (এসবিসিসি) এর কার্যকলাপ সমূহ। এসময় তার সাথে ‘সেইভ দ্যা চিলড্রেন’ এবং ‘জন হপকিন্স’ বিশ্বদ্যালয়ের কর্মীরা ছিলেন।
পরিদর্শনের সময় একটি কমিউনিটি ক্লিনিকে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন কিছু বিবাহিত যুগলের সাথে। স্থানীয় কিছু স্কুলও পরিদর্শন করেন তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে বলেন পুষ্টিকর খাবার, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ইত্যাদি নিয়ে। একই সাথে তিনি একদল তরুণকে অনন্ত তাদের গন্ডিতে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে উৎসাহিত করেন।
পরিদর্শন শেষে রিয়াদ স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, বাংলাদেশে উন্নয়ন, বিশেষ করে যুব ক্ষমতায়নের প্রতি মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের উৎসাহ লক্ষ করেই ইউএসএইড তাকে যুব উন্নয়ন ক্ষেত্রে শুভেচ্ছা দূত ঘোষণা করেছিলো ২০১৭ তে। তখন থেকেই মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অন্যান্য মাধ্যমের সাহায্যে যুবসেবামূলক কাজে জড়িয়েছেন এবং নিজেকে যুক্ত করেছেন হাজারো তরুণ তরুণীর সাথে, বলেছেন যুব উন্নয়ন, পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস, উচ্চমানের শিক্ষা ইত্যাদিও কথা এবং নিরুৎসাহিত করেছেন লিঙ্গ ভিত্তিক সহিংসতা।
১৯৭১ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ইউএসএইডের মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়নে এখন পর্যন্ত ৭ বিলিয়ন ডলা প্রদান করে। জীবনের মান বাড়ানোর ক্ষেত্রে তারা প্রদান করে প্রায় ২১২ মিলিয়ন ডলার, যা খাদ্য সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক সুবিধায় ব্যবহার হয়। ব্যবহার হয় শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, গণতান্ত্রিক উন্নয়ন, পরিবেশ সুরক্ষা ও আবহাওয়ার স্থিতিস্থাপকতার ক্ষেত্রেও। এতে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ শিক্ষার্থী সহ দেশের মানুষের যেকোনো উন্নয়ন কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।