চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

আবদুল হাকিম রানা পটিয়া প্রতিনিধি

পটিয়ায় বিএনপির মনোনয়ন পেলেন  জুয়েল-এনাম : অস্বস্তিতে নেতাকর্মীরা

প্রকাশ: ২০১৮-১১-২৭ ২২:২২:০৬ || আপডেট: ২০১৮-১১-২৭ ২২:২২:০৬

আবদুল হাকিম রানা, বীর কন্ঠ : 

চট্টগ্রাম-১২ পটিয়া সংসদীয় আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন বিগত দুই বারের সাংসদ গাজী মুহাম্মদ শাহজাহান জুয়েল ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এনামুল হক এনাম। গত সোমবার গাজী মুহাম্মদ শাহজাহান জুয়েলকে দল থেকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও গতকাল এনামুল হকের হাতে দলীয় সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত মনোনয়ন পত্র হস্তান্তর করা হয়। এতে পটিয়া থেকে দুই জনকে ধানের শীষ প্রতিকের মনোনয়ন পত্র দেওয়ায় প্রকৃতপক্ষে শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্যে জুটছে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন তা নিয়ে অস্বস্তিতে ভুগছেন নেতাকর্মীরা।

জানা যায়, পটিয়া সাবেক মহকুমা সদর। এখানে বিএনপি থেকে স্বাধীনতার পর চার বার ধানের শীষের প্রার্থীরা জয় লাভ করেন। প্রথম পটিয়া সদরের নজরুল ইসলাম চৌধুরী, ৯১ সালে হেভিওয়েট প্রার্থী শাহনেওয়াজ চৌধুরী মন্টু ও সর্বশেষ গাজী মুহাম্মদ শাহজাহান জুয়েল দুবার এ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কিন্তু নবম সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রায় ৩৫ হাজার ভোটে বর্তমান সাংসদ আলহাজ্ব সামশুল হক চৌধুরীর কাছে পরাজিত হন। পরবর্তীতে দশম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ভোট বর্জন করলে জাতীয় পার্টির সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীকে বিপুল পরাজিত করে সামশুল হক চৌধুরী দ্বিতীয় বারের মত জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বিএনপি থেকে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন সাবেক সাংসদ গাজী মুহাম্মদ শাহজাহান জুয়েল, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইদ্রিস মিয়া, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এনামুল হক এনাম ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির অপর সহ-সভাপতি সৈয়দ সাদাত আহমদ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুল আমিন এমএসসি, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ-অর্থ সম্পাদক মোরশেদুল শফি হিরো, মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি গাজী সিরাজ উল্লাহ, দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আবদুছ ছালাম মিটু। এর মধ্যে দল সাক্ষাততকার গ্রহণ থেকে প্রথমে সাবেক এমপি গাজী মুহাম্মদ শাহজাহান জুয়েলকে মনোনয়ন দিলেও আজ মঙ্গলবার বিকেলে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এনামুল হককে মনোনয়ন পত্র তুলে দেন। মনোনয়ন পত্র পেয়েই তিনি বলেন, পটিয়ায় বিএনপিকে অভিভাবক শূন্য করে তৎকালীন সুবিধাভোগী নেতারা ওয়ান ইলেভেনে আত্ম গোপন করেছিলেন। আমি বিএনপিকে সুসংগঠিত করেছি এবং পরে কিছু বিপদগামী নেতার্মীরা দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিলাম। কেন্দ্রীয় হাই কমান্ড আমার ত্যাগ ও অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে আমাকে চট্টগ্রাম-১২ পটিয়া সংসদীয় আসনে মনোনয়ন দেওয়ায় আমি হাই কমান্ডের কাছে কৃতজ্ঞ। যেহেতু আমরা শহীদ জিয়ার আদর্শের রাজনীতি করি সেহেতু দলের ভিতরে নেতৃত্ব দিয়ে প্রতিযোগিতা থাকায় স্বাভাবিক। আমি আশা করব ধানের শীষকে বিজয়ী করার জন্য সবাই ঐক্যবদ্ধ হবেন।

পটিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র পৌর বিএনপির আহবায়ন আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম বলেন, আমরা বিগত সময়ে পটিয়ার উন্নয়নে সাবেক এমপি গাজী মুহাম্মদ শাহজাহান জুয়েলের নেতৃত্বে কাজ করেছি। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদক। এখন আমরা যতটুকু জেনেছি দল দুই জনকে মনোনয়ন দিয়েছে। সেক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত যিনিই ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করবেন আমরা তার পক্ষে কাজ করে পটিয়া আসনটি বার বার নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে উপহার দিতে চাই। দল আজ দু:সময়। এসময়ে কে ধানের শীষ পেলো সেটা বিবেচ্য বিষয় নয়। প্রকৃতপক্ষে বেগম জিয়াকে মুক্ত করার জন্য আমাদেরকে এবার ধানের শীষ প্রতিককে বিজয়ী করার জন্য কাজ করতে হবে। আমরা এটা নিয়েই এগিয়ে যেতে চাই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, দলের প্রয়োজনেই দুই জনকে প্রতি আসনে মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে। কোন কারণে কোন প্রার্থীর প্রার্থীতা নিয়ে অসুবিধা হলে সেখানে বিকল্প প্রার্থী নির্বাচন করবেন। এক্ষেত্রে দল সার্বিক দিক বিবেচনায় নিয়ে যোগ্য ব্যক্তিকেই প্রার্থী হিসেবে রাখবেন বলে তিনি জানান।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *