চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

এস. এম. রাশেদ চন্দনাইশ প্রতিনিধি

কর্ণেল অলি ছাতা প্রতীকে প্রার্থী হলে বিএনপির একটি অংশ কাজ করবে না বলে গুজন

প্রকাশ: ২০১৮-১১-২৮ ১৮:২২:৪০ || আপডেট: ২০১৮-১১-২৮ ১৮:২২:৪০

এসএম রাশেদ,চন্দনাইশ:

চট্টগ্রাম ১৪ আসন,চন্দনাইশ-সাতকানিয়া (আংশিক) এলাকা থেকে বিএনপির নেতৃত্বধীন ২০ দলীয় জোট তথা ঐক্য ফ্রন্টের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন ড. কর্ণেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম। তিনি ঐক্য জোট থেকে ছাতা মার্কায় জাতীয় একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিলে বিএনপির একটি অংশ কর্ণেল অলির ছাতা মার্কার পক্ষে কাজ করবে না বলে স্থানীয় বিএনপির একটি অংশের গুজন শুরু হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির কিছু নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা ধানের শীষ প্রতীক হলে যে কোন বেদাভেদ ভুলে খালেদা জিয়ার ধানের শীষকে জয় করবেন এবং প্রয়োজনে যে কোন আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে থাকবেন। কারণ হিসেবে তারা বলেন, বিএনপির সাথে বেঈমানী করে ২০০৬ সালের ২৬ অক্টোবর কর্ণেল অলির নেতৃত্বে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি এলডিপি গঠন করে চন্দনাইশে বিএনপিকে বিপাকে ফেলে ছিলেন। যার ফলে বিএনপি অনেকটা ভেঙ্গে পড়ছিল। যারা শহীদ জিয়ার আদর্শকে বুকে ধারণ করে বিএনপির রাজনীতি করেছে তারা অনেকে হুমকি-দুমকির স্বীকারও হয়েছিলেন। ২০০৬ সালের ভেঙ্গে যাওয়া বিএনপি আর ২০১৮ সালের বিএনপির মধ্যে অনেক পার্থক্য বলেও তারা দাবী করেন। তারা বলেন, এ আসনটি শহীদ জিয়ার ঘাঁটি, এখান থেকে বিএনপি একাধিকবার ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছিলেন। তাই তাদের মধ্যে নেতৃত্বের কোন্দল থাকতে পারে তবে তারা শহীদ জিয়ার আর্দশের রাজনীতি করে। তাদের দাবী সাংগঠনিক দিক দিয়ে এখন অন্যান্য দল থেকে বিএনপি আরো সক্রিয় রয়েছেন এবং শহীদ জিয়ার ঘাঁটি হিসেবে এবারে কর্ণেল অলি ছাড়াও বিএনপির যে কোন প্রার্থী দিলে তারা বিজয়ী হতে পারতেন। আবার অনেকেই বলছেন ভিন্ন কথা, দলের স্বার্থে এবং খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত করতে একটি সীটও যেন বিতা না যায় তার জন্য ঐক্যবদ্ধের বিকল্প নেই। তাই ব্যক্তিকে প্রধান্য না দিয়ে দলের স্বার্থে কাজ করবে বলে অনেকেই জানান। তবে ভোটাররা মনে করছেন, কর্ণেল অলি বিজয়ী হতে হলে চালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। তারা কারণ হিসেবে দেখছেন এ আসনে আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গত ৫ বছরে ব্যাপক এলাকায় উন্নয়ন হয়েছে। সে হিসেব কর্ণেল বিগত কয়েক বছর ধরেও তেমন মাঠে থাকেননি ও জনগণের সাথেও তেমন সম্পক্ত ছিলেন না । ফলে সকল ভেদাভেদ ভুলে বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে অলি আহমদ একসাথে কাজ করতে না পারলে হয়ত কর্নেল অলির বিজয় অসম্ভব হতে পারে।

এ আসন  থেকে বিএনপি কর্ণেল (অব.) অলি আহমদ ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে ১৯৮০ সালে উপ-নির্বাচনে, ১৯৯১সালের নির্বাচনে,১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রæয়ারী প্রথম দফায় বিনা প্রতিদন্ধন্দিতায়, একই সালের ১২জুন নির্বাচনে ২য় দফায়, ১৯৯৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর উপ-নির্বাচনে কর্ণেল অলির সহ-ধর্মনী মমতাজ অলি, ২০০১ সালের নির্বাচনে কর্ণেল (অবঃ) অলি বিএনপি থেকে পূনরায় নির্বাচিত  হলেও নানা কারণে সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বে ২৬ অক্টোবর ২০০৬ সালে কর্ণেল অলির নেতৃত্বে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি এলডিপি গঠন করা হয়। পরে ২০০৮ সালের ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এলডিপর ছাতা মার্কা নিয়ে এ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়। সে নির্বাচনে বিএনপি থেকে এড. মিজানুর রহমান চৌধুরী ধানের শীর্ষ প্রতীক নিয়ে আসন থেকে প্রতিদ্ধন্দিতা করছিলেন। ২০১৪ সালে বিএনপি তথা তার জোট নির্বাচনে না গেলে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী নির্বাচনে আ’লীগের আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম চৌধুরী বিনাপ্রতিন্দিন্ধতায় নির্বাচিত হন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *