চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

সহকর্মীর অস্ত্রের আঘাতে তরুনের মৃত্যু 

প্রকাশ: ২০১৮-১১-২৮ ২০:০৪:১৫ || আপডেট: ২০১৮-১১-২৮ ২০:০৪:১৫

আব্বাস হোসাইন আফতাব, রাঙ্গুনিয়া: 

রাঙ্গুনিয়ার এক তরুনের মৃত্যু হয়েছে রাজধানীতে। তাঁর নাম হাসান ইমাম (২৫)। সে ঢাকার একটি মেডিক্যাল সরঞ্জামাদি সাপ্লাই প্রতিষ্ঠানে বিক্রয় কর্মী হিসেবে কাজ করত। বাড়ি উপজেলার মরিয়ম নগর ইউনিয়নের পূর্ব সৈয়দবাড়ি গ্রামে। তাঁর পিতা আবুল কাসেম মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর শেরে বাংলা নগর থানায় পুত্র হত্যার অভিযোগ করেছেন। ময়না তদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মামলা করবেন জানিয়েছেন তরুনের পিতা। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১১ টার হাসানের নিজ বাড়িতে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দিনগত রাত সাড়ে ১১ টার দিকে বুকে জখম নিয়ে ভর্তি হন হন হাসান। মঙ্গলবার ভোর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে। আজ বুধবার ভোররাতে তাঁর লাশ ঢাকা থেকে নিয়ে আসা হয় ।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) জানাজার আগে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রাঙ্গুনিয়া কলেজ সড়কে হাসানের হত্যাকারীর গ্রেপ্তার চেয়ে মানববন্ধন করে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা।

গতকাল বুধবার (২৮অক্টোবর) সকাল ৮ টার দিকে হাসানের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় তাঁর পরিবারে চলছে শোকের মাতম।  সারা ঘরে কান্নার রোল। মাটির ঘরের বারান্দায় চেয়ার বসা তাঁর বাবা আবুল কাশেম হাসানের নানাকে জড়িয়ে ধরে অঝোরে কাঁদছে। এ কান্না যেন থামার নয়।

কান্না জড়িত কণ্ঠে আবুল কাশেম বাবা বলেন , “ সহজ সরল হাসান। কারো সাথে কোনোদিন ঝগড়া হয়নি তাঁর। কিন্তু সামান্য ঘটনায় হাসান যে চিরতরে বিদায় নেবে তিনি কল্পনাও করতে পারেননি, ছেলে হত্যার বিচার চান তিনি। ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে রাজধানীতে গিয়ে লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে নিয়ে আসেন।

হাসানের মামাত ভাই মো. মাসুদ বলেন“  হাসান ১০ মাস আগে রাজধানীতে “হসপি ল্যাব” নামে একটি মেডিক্যাল সরঞ্জামাদি কোম্পানীতে চাকুরি নেন। চাকুরিতে যোগদানের পর রাজধানীর শেরে বাংলা নগর পশ্চিম রাজার বাজার এলাকায় কোম্পানীর কর্মীদের জন্য দেয়া বাসাতে থাকতেন হাসানসহ আরো ৬ জন। সোমবার (২৬ নভেম্বর) রাত ১১ টার দিকে সামান্য বিষয়ে কথাকাটাকাটি হয় তাঁর সাথে কক্ষে থাকা মো. সাজ্জাদ নামে এক সহকর্মী। পরে হাসানের বুকে সিজার(কাঁচি) ঢুকিয়ে দেয় সাজ্জাদ। জখম হওয়ার পর নিজের মুঠোফোনে নিজেই জখমের ছবি ধারন করে রাখেন(ছবিগুলো সংরক্ষিত আছে)। পরে সে নিজে কার্তিক দাশ নামে অন্য এক সহকর্মীকে নিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যান। সেখানে মঙ্গলবার ভোর ৪ টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় হাসান। অভিযুক্ত সাজ্জাদের বাড়ি চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায়।

জানতে চাইলে হসপি ল্যাব’র পরিচালক মো. সেলিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন বলেন, “ রাতে ঘটনা করে সাজ্জাদ পালিয়ে যাওয়ায় তাঁকে ধরা যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *