এস. এম. রাশেদ
চন্দনাইশ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০১৮-১২-২৬ ২০:২৭:১০ || আপডেট: ২০১৮-১২-২৬ ২০:২৭:১০
এসএম রাশেদ,চন্দনাইশ:
আগামী জাতীয় একাদশ নির্বাচন আর মাত্র ২দিন বাকী। চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনে ৯ প্রার্থীর মধ্যে অন্যান্য প্রার্থীরা ভোটের মাঠে প্রচারণায় কম ও বেশ থাকলেও কোন গণসংযোগ প্রচারণায় তেমন দেখা মিলছেন না ২০দলীয় জোটের মুখপাত্র এলডিপির চেয়ারম্যান কর্ণেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের। এবার চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনে ভোট ভোটার সংখ্যা ১ লক্ষ ৬৩ হাজার ১শ’ ৬৯ জন। তৎমধ্যে পুরুষ ৮৫ হাজার ৩ জন, মহিলা ৭৮হাজার ১শ’ ৬৩জন। মোট ৬৮টি কেন্দ্র জন্য ৩’শ ৫৫টি বুথের মাধ্যমে একজন চট্টগ্রাম ১৪ আসনে সাংসদ নির্বাচিত হবেন।
একাদশ জাতীয় সাংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৪ আসন থেকে ৯জন প্রার্থী ভোটে অংশগ্রহণ করবেন তারা হলেন:- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীঃ- বর্তমান সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মোঃ নজরুল ইসলাম চৌধুরী (নৌকা), ২০ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী তথা ঐক্য ফ্রন্টের এলডিপির চেয়ারম্যান, সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী ড. কর্ণেল (অবঃ) অলি আহমদ বীর বিক্রম (ছাতা), বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী সেহাব উদ্দিন মুহাম্মদ আবদুস সামাদ (মোমবাতি), জাতীয় পার্টি (এরশাদ) মনোনীত প্রার্থীঃ- আবু জাফর মোহাম্মদ ওয়ালী উল্লাহ্ (লাঙ্গল), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মুহাম্মদ জানে আলম নেজামী (চেয়ার)। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থীঃ- মুহাম্মদ দেলওয়ার হোসেন সাকী (হাত পাখা), বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) মনোনীত প্রার্থীঃ- কমরেড আবদুল নবী (কাস্তে), বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) মনোনীত প্রার্থী আলী নেওয়াজ খান (কুঁড়েঘর) ও বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আলী ফারুকী (ফুলের মালা)। চন্দনাইশে মূলত লড়াই হবে এলডিপির চেয়ারম্যান কর্ণেল অলি ও আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম চৌধুরীর সাথে। তবে অন্যান্য নির্বাচনের চেয়ে এবারের নির্বাচন ভোটাররা ভিন্নভাবে দেখছেন। নবীন ভোটারা জানান, দেশে ব্যপক উন্নয়ন হয়েছে এ উন্নয়নে ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে নৌকা মার্কায় ভোট দিবেন। আবার অনেক ভোটররাও ভিন্ন ভিন্ন মত প্রকাশ করে বলেন, দেশে যে সরকার আসবে সবাই উন্নয়ন করবে। এলডিপির কিছু পোষ্টার ব্যানার চোখে পড়লে তাদের দলীয় প্রার্থী কর্ণেল অলির গণসংযোগ,বড় ধরণে কোন নির্বাচনী সভা কোথাও করতে তেমন শোনা যায়নি। এ ব্যাপারে চন্দনাইশ উপজেলার এলডিপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবিদুর রহমান বাবুল বলেন, তপশীল ঘোষনার পর থেকে তাদের নেতাকর্মীকে গ্রেফতার, প্রচার-প্রচারণায় বাঁধা দেওয়া, নেতাকর্মীর বাড়ীতে বাড়ীতে পুলিশের তলাশী,নেতাকর্মীরা গ্রেফতার আতংকে রয়েছে বলে কর্ণেল অলি তার নেতা কর্মীদের নিয়ে প্রচারণায় যাচ্ছেন না। তবে তিনি স্ব উদ্যোগে কোন কোন এলাকার ভোটারের কাছে যাচ্ছেন বলেও তিনি জানান। এদিকে আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বাবর আলী ইনু বলেন, কর্ণেল অলি বিগত ১০ বছর ধরে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের কোন কার্যক্রমসহ তাদের দলীয় প্রোগ্রাম ও সমাবেশ, মিছিল অংশগ্রহণ করতে তেমন শুনেননী এবং জনগণের ভালমন্দের কোন খবর রাখেননি। এদিকে আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম চৌধুরী বিগত ৫ বছর এমপি হওয়ার পর থেকে সপ্তাহের অনেকাংশ দিন অত্র আসনের প্রতিটি এলাকায় গিয়েছেন এবং জনগণের বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানসহ এলাকার লোকজনের খবরা খবর নিয়ে সুখে,দুখে পাশে থেকেছিলেন। এছাড়াও এ আসনের শঙ্খের ভাঙ্গন প্রতিরোধ,রাস্তাঘাট,স্কুল,মাদ্রাসা,মসজিদ,মন্দিরসহ প্রতিটি পৌরসভা, ইউনিয়ন,ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় তিনি যে উন্নয়ন করেছেন তার একভাগও ৫ বার এমপি ও মন্ত্রী থাকাকালে কর্ণেল অলি চট্টগ্রাম-১৪ আসন ও চন্দনাইশের জন্য করতে পারেনি। তাই তিনি এখন জনগণের কাছে কি বলে ভোট খুজবে এবং জনগণ যদি তাকে প্রত্যখান করে সে লজ্জায় হয়ত বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ বা ভোট খুজতে যাচ্ছেন না। এ ছাড়া চন্দনাইশের জনগন বুঝে গেছে কর্ণেল অলি একজন রূপ বদলকারী। এবার তাই ভোটাররাও তার প্রমাণ দিবে ৩০ ডিসেম্বওর ভোটের মাধ্যমে।