এম,শফিউল আলম
ফটিকছড়ি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০১৮-১২-২৮ ১৮:৫৮:৩৯ || আপডেট: ২০১৮-১২-২৮ ১৯:৫৫:৫২
শফিউল আলম.ফটিকছড়ি:
জাতীয় নির্বাচনের দিনক্ষণ যথয় ঘনিয়ে আসছে, সাধারণ ভোটাদের মধ্যে নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করছে ফটিকছড়িতে। এতে নির্বাচনী প্রচার প্রচারনায় প্রার্থীরা প্রতিশ্রুতির পাহাড়সম দিচ্ছেন ভোটারের মাঝে। উঠান বৈঠক থেকে শুরু করে পথ সভা-গণসংযোগ- মিছিলসহ বিভিন্নভাবে ভোটারদের নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রার্থীরা। আর এখন সেসব প্রতিশ্রুতি বিচার বিবেচনা করে তাদের কাঙ্খিত প্রার্থীদের নির্বাচিত করবেন ভোটাররা। শেষ মুহুর্তের প্রচারনায় সরগরম রয়েছে ফটিকছড়ির সর্বত্র। এখন চলছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নেতাকর্মী ও ভোটারদের সাথে প্রার্থীরা যোগাযোগ রক্ষা করছেন। তবে সরব বেড়েছে প্রার্থীদের বাড়ি ঘরে। শেষ সময়ে শংকায় ও শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি ব্যস্ত ব্যাতিব্যস্ত হয়ে পড়েছে প্রার্থীরা। মহাজোট মনোনীত প্রার্থী, বাংলাদেশ তরীকত ফেডারেশন (বিটিএফ) এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি( নৌকা) জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মনোনীত বি এন পি প্রার্থী কর্নেল ( অবঃ) আজিম উল্যাহ বাহার ( ধানের শীষ), ইসলামী ফ্রন্টের মনোনীত বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুদ্দিন মাইজভান্ডারি(মোমবাতি),ইসলামীক ফ্রন্ট বাংলাদেশ প্রার্থী মীর মোঃ ফেরদৌস আলম সেলিম (চেয়ার), জতীয় পার্টি প্রার্থী জহুরুল ইসলাম রেজা( লাঙ্গল),ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী মাওলানা আতিক উল্যাহ বাবুনগরী( হাত পাখা) প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী স্বতন্ত্র থেকে আলহাজ্ব এটিএম পেয়ারুল ইসলাম ( আপেল), প্রতীক বরাদ্দ পেলেও তিনি শেষ পর্যন্ত নির্বাচন থেকে সড়ে দাড়ালেন। এ ছয়জন প্রার্থী হলেও উপজেলার এ প্রান্ত থেকে ঐ প্রান্তে সাধারণ ভোটারের সাথে বেশ প্রচারণায় তুঙ্গে রয়েছে মূলত তিনজন, নৌকা, ধানের শীষ ও মোমবাতি। এদিকে মহাজোট প্রার্থী নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী নির্বাচনী প্রচারণাকালে ভোটারদের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন,বিগত পাঁচ বছরে আমি ফটিকছড়ির সার্বিক উন্নয়নে কাজ করেছি। ফটিকছড়ির উন্নয়নে ২ হাজার ৩ শত ৭৪ কোটি ৩৪ লক্ষ টাকার বরাদ্দ এনেছি। আগামীতে, ভুজপুর থানাকে উপজেলায় উন্নীত করা হবে। ৯ শত কোটি টাকায় রামগড় স্থল বন্দর থেকে হেঁয়াকো হয়ে মিরেরসরাই বারইয়ারহাট পর্যন্ত রাস্তা ৪০ ফুট প্রসস্থ করা হবে। তার মধ্যে ফটিকছড়ি অংশের ৩ শত কোটি টাকা টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন। ফটিকছড়িকে বন্যা নিয়ন্ত্রন ও জলবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে তেলপারই খাল,লেলাং খাল,সর্তা খাল,বারমাসিয়া খাল,মন্দাকিনীূ খাল,ফটিকছড়ি খালসহ অন্যান্য খাল সমূহ সংস্কার করা হবে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্রামীন অবকাঠমো উন্নয়নসহ বাকি রাস্তাগুলো সংস্কার করা হবে। মুক্তিযোদ্বা কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে। ইকোনিমিক জোন গড়ে তোলা হবে। অাটিজম জোন প্রতিষ্ঠা করা হবে। টেকনিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হবে। একটি স্টেডিয়াম করা হবে। একটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও মাদ্রাসাকে সরকারীকরণ করা হবে। হালদা নদী ও ধুরুং নদীর তীর সংরক্ষণ,বেড়িবাধ নির্মাণে ১৫৬ কোটি টাকা একনেকে অনুমোদিত হয়েছে(টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন)। একটি আধুনিক ও মাদকমুক্ত ফটিকছড়ি বিনির্মাণ আমার আগামীর লক্ষ্য। জাতীর জনকের কন্যা শেখ হাসিনা আমাকে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছেন। প্রতিটি গ্রামকে শহরের সুযোগ সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলার যে স্বপ্ন শেখ হাসিনা দেখছেন সকলকে সাথে নিয়ে ফটিকছড়িতে ইনশাল্লাহ সে স্বপ্ন আমি বাস্তবায়ন করব। আমার ফটিকছড়িবাসী যদি আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন,তাহলে ফটিকছড়ির উন্নয়নে আমার অসামাপ্ত কাজগুলো এগিয়ে নিয়ে যাব এবং বাকি কাজগুলো সম্পন্ন করার সুযোগ পাবো। ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী কর্ণেল (অবঃ)আজিম উল্লাহ বাহার চৌধুরী ফটিকছড়ির আপমর জনগনের কল্যাণে এবং দেশ বাঁচাতে ধানের শীষ মার্কায় ভোট কামনা করেন। ফটিকছড়িতে ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী (মোমবাতি) সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারী। আনুষ্ঠানিক নিজের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষনা করেন। নিজের নির্বাচনী ইশতেহারে সৈয়দ সাইফুদ্দিন মাইজভান্ডারী বলেন উপজেলার সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠান গুলোকে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রতি মাসে গণসংলাপের আয়োজন করা হবে। চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উপজেলার উত্তর ও দক্ষিণে দু’টি মাতৃসদন হাসপাতাল ও একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করাসহ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুলোকে আরো আধুনিকায়নে পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ-মাদক, নিরক্ষরতা দুরীকরণ, বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে ইউনিয়ন ভিত্তিক সেল গঠন করা হবে । যোগোযোগ ব্যবস্থার উন্নতি কল্পে পঞ্চ বার্ষিকী পরিকল্পনা গ্রহন করে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তের সড়ক গুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উন্নয়ন করা হবে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অক্ষুুন্ন রাখতে সকল দল ও মতের সহাবস্থান নিশ্চিত করা সহ ফটিকছড়িতে আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি অক্ষুন্ন রাখতে সর্বাত্মকভাবে কাজ করে যাব। ইশতেহারে উল্লেখ করেন তিনি। সন্ত্রাসনির্ভর প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়’ রাজনীতি হউক দেশের কল্যাণ এবং গণমানুষের ভাগ্যোন্নয়নে এ প্রতিপাদ্যকে ধারন করে মানবিক ফটিকছড়ি গড়তে ইসলামী ফ্রন্টের মোমবাতি প্রতীকে ভোট দিয়ে তাঁকে বিজয়ী করার আহবান জানান তিনি। কারো কথায় প্রলোভিত না হয়ে, দলীয় প্রার্থী বিবেচনা না করে, কোনো পেশী শক্তির কাছে মাথা নত না করে পরিবর্তনের পক্ষে রায় দেয়ার জন্য তিনি তরুণ প্রজম্মের ভোটারদের প্রতিও আহবান জানান তিনি। এভাবে প্রতিদ্বন্ধী সকল প্রার্থী নিজ নিজ নির্বাচনী প্রচারনায় এসব প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে ভোটারের মধ্যে।