এস. এম. রাশেদ
চন্দনাইশ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০১৮-১২-২৯ ০০:২৮:৫৬ || আপডেট: ২০১৮-১২-২৯ ০০:২৮:৫৬
এসএম রাশেদ,চন্দনাইশ : রাত পোহালে ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় একাদশ নির্বাচন, চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) এলাকায় যদিও ৯জন প্রার্থী ভোটের মাঠে থাকলেও মূলত লড়াই হবে নৌকা ও ছাতা প্রতীকের মধ্যে। যদিও ২০ দলীয় মুখপাত্র কর্ণেল অলি আহমদ প্রচারণা মাঠে না থাকলেও তবু জয়ের আশা নিয়ে অন্যান্য প্রার্থীরা তাদের দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে কম বেশী অভিরাম প্রচারণা চালিয়ে গিয়েছিলেন। প্রতিক বরাদ্দের পর থেকে প্রার্থীরা অভিরাম ছুটে চলছিলেন এক গ্রাম-থেকে অন্য গ্রামে, এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে,শুধু লক্ষ্য ছিল ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ভোট প্রার্থনা করা এবং কৌশল বিনিময়, নানা উন্নয়ন ও বিভিন্ন প্রত্যাশা দিয়ে ভোটারদের মন অর্জন করা। প্রচারণা দিনগুলোও ছিল প্রার্থী ও ভোটারদের আনন্দের। সন্ধ্যা হলে হাটবাজার-চায়ের দোকানে ও বিভিন্ন পাড়া,মহলায় আড্ডার কেন্দ্র বিন্দু ছিল কোন প্রার্থী কেমন, কাকে ভোট দিলে কেমন হবে, কে চন্দনাইশে উন্নয়ন করবে, কে হবেন আগামী ৫ বছরের জন্য চন্দনাইশে অভিভাবক ।
তবে তা জানার জন্য চট্টগ্রাম -১৪ আসনের ভোটারদেরকে অপেক্ষা করতে হবে ৩০ ডিসেম্বর সন্ধ্যা পর্যন্ত। তথ্য অনুসন্ধ্যানে জানা যায়, ২০০৬ সালে কর্ণেল অলির নেতৃত্বে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি এলডিপি গঠন করা পর কর্ণেল (অব.) অলি ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ছাতা প্রতীক নিয়ে ৮২ হাজার ৩৬ ভোট পান,তার নিকটতম প্রতিন্দন্ধী আ’লীগের নৌকার প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আবছার উদ্দীন ৬১ হাজার ৬শ ৪৬ ভোট পান, বিএনপির প্রার্থী ধানে শীষ প্রতীকে এড. মিজানুর রহমান ৩৩হাজার ৩শ ৩৫ ভোট পান। বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহ্ খলিলুর রহমান নিজামী ১ হাজার ২শ ৮৪ ভোট পেয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে বিনা প্রতিন্দন্ধিতায় আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম চৌধুরী এমপি হওয়ার পর গত ৫ বছরে শঙ্খনদীর ভাঙ্গন প্রতিরোধক বাঁধ,স্কুল, কলেজ,মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দিরসহ রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন হয়।
অন্যদিকে গত ১০ বছরের কর্ণেল অলি অত্র আসনের মাঠে ছিলেন না তেমন। তাছাড়া গত চন্দনাইশ পৌরসভা নির্বাচনে কর্ণেল অলির মেয়র প্রার্থী বামহাত আইয়ুব কুতুবীর সাথে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ গ্রহণ না করায় ক্ষোভে অলির ডানহাত উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার চৌধুরীকে তার দল থেকে বহিস্কার করে দেন। এবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বধীন ২০দলীয় জোট তথা ঐক্য ফ্রন্টের একক প্রার্থী হিসেবে অলি আহমদ এলডিপির ছাতা প্রতিক নিয়ে নির্বাচনে দাঁড়ালে বিএনপির একটি অংশ ছাতা প্রতিকে কাজ করবে না বলে গুজন সৃষ্টি হয়। যদিও জোটের স্বার্থে বিএনপির কিছু কিছু নেতাকর্মী কর্ণেল অলিকে সমর্থন দিলে তারা কোন প্রচারণায় অংশ নেননি। এছাড়া নানা অজুহাতে দেখিয়ে এবং পুত্র সানির উপর দর্বৃত্তরাদের হামলার স্বীকার হলে কর্ণেল অলি কোন তার নেতাকর্মীদের নিয়ে নিবার্চনী প্রচারণা মাঠে নামেননি।
তবে এখন ভোটারদের সমীকরণে জানা যায়, কর্ণেল অলি এলাকায় খুব কম সময় দেওয়া এবং তার ডানহাত আবদুল জব্বার চৌধুরী আ’লীগে যোগদান করায় তার একটি বিশাল অংশ আ’লীগে চলে যায়। মূলত রাজনীতিক ভাবেও কর্ণেল অলি দূর্বল হয়ে পড়েছে বলে ভোটাররা মনে করছেন। কর্ণেল অলি এ আসন থেকে ৫ বার এমপি হওয়ায় ভোটারা মনে তাকে আবার ছোট করে দেখছেন না। তবে সবই মিলে মূলত হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভবনা রয়েছে এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমদ ও নৌকা প্রার্থী নজরুলের মধ্যে। আর এদিকে ইসলামী ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতা স.উ.ম সমাদ প্রার্থী হওয়ায় এবার থেকে দ্বিগুন ভোট পাবে বলে মনে করছেন ভোটারা। তবে কে জয়ের মালা পড়বে, কে হবেন আগামী ৫ বছরের জন্য চট্টগ্রাম-১৪ আসনের অভিভাবক হবেন তার জন্য ভোটারদেরকে আগামী ৩০ ডিসেম্বর সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। দেশ স্বাধীনের পর সর্বপ্রথম ১৯৭২ সালে সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে আ’লীগের ডাঃ এ.বিএম ফয়েজুর রহমান নির্বাচিত হয়েছিল। ১৯৭৯ সালে সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ব্যারিষ্টার মাহাবুবুল কবির নির্বাচিত হওয়ার ১ বছরের মধ্যে তাকে রাষ্টদূত করে বিদেশে পাটিয়ে দিলে ১৯৮০ সালে উপ-নির্বাচনে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানে ব্যাক্তিগত সচিব কর্ণেল অলি আহমদ বীর বিক্রম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৬-৮৮ সালের নির্বাচনে জাতীয় পাটির ইঞ্জিনিয়ার আফসার উদ্দীন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১সালের নির্বাচনে পুনঃরায় বিএনপির কর্ণেল (অবঃ) অলি আহমদ নির্বাচিত হন এবং যোগাযোগ মন্ত্রীর দায়িত্ব পান।
১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্র“য়ারী প্রথম দফায় বিএনপি থেকে কর্ণেল (অবঃ) অলি আহমদ বিনা প্রতিদন্ধন্দিতায় নির্বাচিত হন এবং একই সালের ১২জুন নির্বাচনে ২য় দফায় অলি আহমদ চট্টগ্রাম-১৩ ও ১৪ এ দুই আসনেই বিএনপির টিকেট নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ১৪ আসনের সংসদ সদস্যের পদ রেখে ১৩ আসন ছেড়ে দেন এবং ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৯৬ সালের উপ-নির্বাচনে কর্ণেল অলির সহ-ধর্মনী মমতাজ অলি বিএনপি থেকে এ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে কর্ণেল (অবঃ) অলি বিএনপি থেকে পূনরায় নির্বাচিত হলেও নানা কারণে সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বে ২৬ অক্টোবর ২০০৬ সালে কর্ণেল অলির নেতৃত্বে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি এলডিপি গঠন করা হয়। পরে ২০০৮ সালের ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এলডিপর ছাতা মার্কা নিয়ে এ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী নির্বাচনে আ’লীগের আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম চৌধুরী বিনাপ্রতিন্দিন্ধতায় নির্বাচিত হন। যদিও আসনটিতে স্বাধীনতা পরবর্তীতে আ’লীগের প্রার্থী একবার নির্বাচিত হলেও জাতীয়তাবাদীর প্রার্থী বার বার নির্বাচিত হওয়ায় এটি জাতীয়তাবাদী শক্তির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত লাভ করেন এবং এলাকায়ও ব্যাপক উন্নয়ন হয়। ২০১৪ সালের নির্বাচনে আ’লীগের প্রার্থী বিনাপ্রতিদন্ধীতায় নির্বাচিত হলে আসনটি দীর্ঘ ৪২ বছর পর আ’লীগ পূনঃরায় উদ্ধার হয়।
এবার চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনে ভোট ভোটার সংখ্যা ১ লক্ষ ৬৩ হাজার ১শ’ ৬৯ জন। তৎমধ্যে পুরুষ ৮৫ হাজার ৩ জন, মহিলা ৭৮হাজার ১শ’ ৬৩জন। মোট ৬৮টি কেন্দ্র জন্য ৩’শ ৫৫টি বুথের মাধ্য