চট্টগ্রাম, , সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

শফকত হোসাইন চাটগামী বাঁশখালী প্রতিনিধি

নির্বাচনী প্রচারণা শেষে গতকাল বাঁশখালী ছিল শান্ত

প্রকাশ: ২০১৮-১২-২৯ ০০:২২:৫৬ || আপডেট: ২০১৮-১২-২৯ ০১:১৭:৪৮

শফকত হোসাইন চাটগামী, বাঁশখালী : গতকাল বৃহস্পতিবার নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিনে বাঁশখালীতে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির প্রার্থীসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা তাদের শেষ প্রচারণা মিছিল, শোডাউন ও পথসভার মাধ্যমে সম্পন্ন করলেও আজ শুক্রবার ছিল নিরব নিস্তবদ্ধ। শুক্রবার নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ থাকায় প্রার্থীরা নিজ নিজ বাসায় থেকে পুলিং এজেন্ট নিয়োগসহ অন্যান্য বিষয় ঘরোয়াভাবে তদারকি করেন। প্রার্থীদের বাসা বাড়িতে ছিল নেতাকর্মীদের ভীড়। মহাজোটের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী আজ শুক্রবার সারা দিন নিজ গ্রামের বাড়ি সরলের জালিয়াঘাটায় অবস্থান করেন।

বাড়ির পাশের জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন তিনি। এর বাইরে বাসা থেকে আর কোথাও বের হননি নৌকার এই প্রার্থী। বিএনপি তথা ঐক্যফ্রন্টের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী জাফরুল ইসলাম চৌধুরীও আজ শুক্রবার দিনভর কালীপুরের নিজ বাড়ীতে নেতাকর্মীদের সাথে শলাপরামর্শ এবং নির্বাচনী কার্যক্রম নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটান। এসময় প্রার্থী পুত্র চট্টগ্রাম চেম্বারের সদস্য জহিরুল ইসলাম চৌধুরী আলমগীর, সাবেক পৌর মেয়র কামরুল ইসলাম হোসাইনীসহ বিএনপির স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীও গ্রামের বাড়ি বৈলছড়ি সময় কাটান। তাকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার হচ্ছে জানিয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমি নির্বাচন থেকে সরে গেছি বলে গুজব রটানো হচ্ছে। বাস্তবে আমি মাঠ ছেড়ে যাব না। আমি মাঠে আছি।

বাঁশখালীর মানুষ নৌকাকে ডুবিয়ে আমাকেই বিপুল ভোটে নির্বাচিত করবে। জুলুমের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বাঁশখালীতে তার কোন বিকল্প নেই বলে দাবী করেন মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী। ফেসবুকে এনিয়ে একটি ভিডিও বার্তাও দেন চট্টগ্রামের সাবেক এই সিটি মেয়র। জামায়াত সমর্থিত আপেল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মাওলানা জহিরের দিন কাটে শেখেরখীলের নিজ বাড়িতে বসে নেতাকর্মীদের নিয়ে। এসময় তাকে জামায়াত থেকে বহিস্কার করা হয়েছে এবং জামায়াতের পক্ষ থেকে বিএনপি প্রার্থী জাফরুল ইসলাম চৌধুরীকে সমর্থন দেয়া হয়েছে মর্মে একটি বিবৃতি প্রকাশিত হলে তিনি তার প্রতিবাদ জানান। এসময় তিনি একাধিক বার ফেসবুক লাইভে এসে নেতাকর্মীদের বিভ্রান্ত না হওয়ার আহবান জানান। তবে জামায়াতের প্যাডে দলের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী জেনারেল ডা. শফিকুর রহমানের স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতি নিয়ে বাঁশখালীতে ব্যাপক বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

মাওলানা জহিরকে জামায়াত আমির পদসহ জামায়াতের সদস্য পদ থেকে সাময়িক বহিস্কারের বিষয়টি বিএনপির একটি অপপ্রচার বলা হলেও বিএনপির পক্ষ থেকে উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি জহিরুল ইসলাম চৌধুরী আলমগীর বলেন, জামায়াত ২৩ দলীয় জোটের শরীক দল। ২২ টি আসনে ধানের শীষ নিয়ে জামায়াতের প্রার্থীরা নির্বাচন করছেন। বাঁশখালীতে জামায়াত বিএনপি তথা ধানের শীষের সাথেই আছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী মাওলানা জহিরের সাথে কেন্দ্রীয় জামায়াতের কোন সম্পর্ক নেই। এদিকে ছোট দলগুলোর মধ্যে ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা হাফেজ ফরিদ আহমদ আনসারী জলদীতে দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান করেন। তিনি বলেন, সুস্ট নির্বাচন হলে মানুষ আওয়ামীলীগ, বিএনপির বাইরে শান্তির পক্ষে আমাকেই ভোট দেবে। অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে ন্যাপের ডাক্তার আশীষ, ইসলামী ফ্রন্টের মনিরুল ইসলাম, ইসলামিক ফ্রন্টের মহিউল আলম চৌধুরীও যথাক্রমে কালীপুর, সরল ও বাহারছড়ার নিজ বাড়িতে বসে শেষ সময়ে নির্বাচনী কার্যক্রম গুচিয়ে নেন। আজ শুক্রবার বাঁশখালীর পরিবেশ ছিল অনেকটাই শান্ত এবং নিরব। উপজেলা পরিষদে ছিল প্রার্থীর এজেন্ট ও পর্যবেক্ষকসহ সাংবাদিকদের ভীড়। তবে স্থানীয় সাংবাদিকদের মাত্র ২/৩ জন ছাড়া কাউকেই পর্যবেক্ষণ কার্ড দেয়া হয়নি বলে জানা গেছে। এতে স্থানীয় সাংবাদিকদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

বিকেলে উপজেলা সদরে বসে সাংবাদিকরা বৈঠক করে স্থানীয় সাংবাদিকদের নির্বাচন কমিশন কর্তৃক বরাদ্ধকৃত কার্ড না দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *