চট্টগ্রাম, , সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

আবদুল হাকিম রানা পটিয়া প্রতিনিধি

পটিয়ায় বাম জোটের প্রার্থী স.ম ইউনুচ প্রতিবন্ধী হয়েও শেষ পর্যন্ত লড়ছেন নির্বাচনে

প্রকাশ: ২০১৮-১২-২৯ ০০:৩৬:৩২ || আপডেট: ২০১৮-১২-২৯ ০০:৩৬:৩২

 আবদুল হাকিম রানা, বীর কন্ঠ : চট্টগ্রাম-১২ পটিয়া সংসদীয় আসনে শারিরিক প্রতিবন্ধী হয়েও উচ্চ শিক্ষিত ব্যক্তিত্ব বাসদের পটিয়া উপজেলা সমন্বয়ক স.ম ইউনুচ বাম জোটের প্রার্থী হিসেবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে লড়াইয়ে টিকে রয়েছেন। বর্তমানে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হিসেবে তিনি অধম্য মনোবলের মাধ্যমে প্রতিবন্ধীতাকে জয় করে ইতিহাস সৃষ্টি করে চলেছেন। জন্মগত ভাবে তিনি শারিরিক প্রতিবন্ধী হলেও শিশু কাল থেকে তিনি শিক্ষা অর্জন করে একজন সুস্থ মানুষের ন্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্ডি পেরিয়ে যেমন এম.এ পাশ করেছেন তেমনি এবার ভোটের মাঠে এসেও সকলের নজর কেড়েছেন।

তিনি বাম রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। তিনি ১৯৮৫ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ব বিদ্যালয় থেকে ইসলামের ইতিহাস বিভাগে এম এ পাশ করে একটি বেসরকারী কলেজে অধ্যাপনা করেন। ছাত্র জীবন থেকেই তিনি ছাত্র লীগ জাসদ, ছাত্র ফ্রন্ট ও ১৯৮০ সালে বাসদের রাজনীতির সাথে যুক্ত হয়ে অধ্যাবদি এ সংগঠনের পটিয়ার অগ্রভাগে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক ছেলে ও তিন কন্যা সন্তানের জনক। তিনি পটিয়ার হাইদগাঁওয়ের আমিন শরীফের পুত্র। গতকাল তিনি বলেন, আজ দেশের মানুষ ভাল নেই।

সবর্ত্র নৈরাজ্য চলছে। ক্ষমতাসীনরা ক্ষমতা কুক্ষ্যিগত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত আর একদল ক্ষমতা দখলে নিয়ে ভোগবাদী রাজনীতি কায়েমের স্বপ্নে বিভোর। এমতাবস্থায় সুস্থ ধারার রাজনীতি তথা গরিব দু:খী মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের কথা বলতে আমি বাম দলীয় জোটের পক্ষ থেকে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করে যাচ্ছি এবং শেষ পর্যন্ত টিকে রয়েছি। আমার মূল উদ্দেশ্য এদেশের কৃষক শ্রমিক ও গরিব মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে বেগবান করা। আমরা ক্ষমতার মসনদ নয় গরীব মানুষের কথা বলার অধিকার চাই। সেই জন্য আমাদের আজ পার্লামেন্টে যাওয়ার জন্য এ নির্বাচনে অংশ নেওয়া। তিনি নির্বাচিত হলে কর্ম সংস্থান, যাত্রীদের হয়রানি দূরীকরণ, চট্টগ্রাম থেকে পটিয়া ১০ হাজার শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ পরিবহনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করণ, প্রতিবন্ধীদের জন্য ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন এবং বেকারত্ব দূরীকরণ সহ বিভিন্ন বাস্তবমুখি কর্মসূচী গ্রহণ ও বাস্তবায়নের নিমিত্তেই কাজ কওে যাবেন বলে জানান। আমি বিশ্বাস করি আমি একজন প্রতিবন্ধী হলেও জন রায় ও সকলের সহযোগিতা পেলে অভিষ্ঠ লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবো।

এজন্য আমি আমার প্রতিক মই মার্কায় ভোট প্রত্যাশা করছি। কেননা পটিয়া একটি অগ্রসর জনপদ। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং গণতন্ত্রের জন্য সৃষ্ট সকল আন্দোলন সংগ্রামে পটিয়া হচ্ছে দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রাণকেন্দ্র। এখান থেকে সকল আন্দোলন পরিচালিত হয়েছিল। তাই পটিয়ার শিক্ষিত মানুষেরা সত্য ন্যায় ও আদর্শিক সমাজ গঠনে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে আমাকে বেচে নেবেন বলে আমি বিশ্বাস করে বলতে চাই, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু পটিয়াকে জেলা ঘোষণা করেছিলেন। এ জেলা নানা ষড়যন্ত্রের অক্টোপাসে ভিন্ন ধারায় প্রভাহিত হলেও এ জেলা ফিরিয়ে আনতে যে সকল আন্দোলন হয়েছিল এর প্রত্যেকটিতে আমি এর অগ্রভাগে ছিলাম। তাই জাতীয় দাবির পাশাপাশি পটিয়াকে জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য আমার দল ও জোট কাজ করে যাচ্ছে। আমি বিগত ৩ সপ্তাহ ধরে পটিয়ায় বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগের মাধ্যমে আমার নির্বাচনী ইশতেহার জনগণের সামনে তুলে ধরেছি। জনগণ যদি আমাদের এ ইশতেহারের বিষয়ে সমর্থন দেন তাহলে আমার মার্কা মই কে বিজয়ী করবেন এ প্রত্যাশা করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *