চট্টগ্রাম, , রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রাম-৭:  সকালে ভোটারদের লাইন, দুপুরে ভোটার শূন্য কেন্দ্র

প্রকাশ: ২০১৮-১২-৩০ ১৮:৩৯:৫৬ || আপডেট: ২০১৮-১২-৩০ ১৮:৩৯:৫৬

আব্বাস হোসাইন, প্রতিনিধি, রাঙ্গুনিয়া:

চট্টগ্রাম-৭(রাঙ্গুনিয়া,বোয়ালখালী আংশিক)আসনে সহিংসতা ছাড়াই শান্তিপূর্নভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল থেকে প্রায় কেন্দ্রে ভোটারদের লাইন দেখা গেলেও দুপুর থেকে সব কেন্দ্র ছিল একেবারে ভোটারশূণ্য। গতকাল রোববার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৮ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত ভোট গ্রহনে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আ.লীগ প্রার্থী হাছান মাহমুদ (নৌকা) সকাল ১০ টার দিকে তাঁর নিজ বাড়ি পদুয়া ইউনিয়নের সুখবিলাস উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন। ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী মো. নুরুল আলম (ধানের শীষ) তাঁর নিজ বাড়ি লালা নগর ইউনিয়নে থাকলেও তিনি ভোট দিতে কেন্দ্রে যাননি বলে নিশ্চিত করেছেন ঐ কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা। ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী আবু নওশাদ নঈমী (মোমবাতি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী নেয়ামত উল্লাহ (হাতপাখা), এনপিপি’র প্রার্থী জিয়াউর রহমান(আম) নির্বাচনী মাঠে থাকলেও জেএসডি’র প্রার্থী মাহাবুবুর রহমান(তাঁরা)কে মাঠে দেখেননি কেউ।

সরেজমিনে সকাল থেকে কয়েকটি কেন্দ্রে ঘুরে দেখা গেছে, আ.লীগ প্রার্থীর এজেন্ট সব কেন্দ্রে থাকলেও অধিকাংশ কেন্দ্রে ঐক্য ফ্রন্টের প্রার্থীর এজেন্ট দেখা যায়নি। তবে আম প্রতীকে এনপিপির (ন্যাশনাল পিপলস পার্টি)এজেন্ট অধিকাংশ কেন্দ্রে দেখা গেছে।

সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে চন্দ্রঘোনা-কদমতলী ইউনিয়নের জেসি দাশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে এই কেন্দ্রে পুরুষ ভোটারের চেয়ে নারী ভোটারের উপস্থিতি কম। ৪ নম্বর নারী বুথে নৌকা ও আম প্রতীকের এজেন্ট ছাড়া কাউকে দেখা যায়নি।

সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে কোদালা ইউনিয়নের কোদালা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের পুরুষ বুথের ১ নম্বর কক্ষে গিয়ে দেখা যায় ভোট গ্রহন হয় ৩৮০ টি। আ.লীগ প্রার্থী ও এনপিপি’র প্রার্থীর এজেন্ট ছাড়া অন্য কোনো প্রার্থীর এজেন্টকে এসময় দেখা যায়নি।

বেলা ১২ টার দিকে পদুয়া ইউনিয়নের সুখবিলাস কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ভোটারদের দীর্ঘ লাইন। নারী ভোটারের চেয়ে ঐ কেন্দ্রে তরুন ভোটারের উপস্থিতি বেশি দেখা গেছে।  বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে একই ইউনিয়নের উত্তর পদুয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে একেবারে ভোটারশূন্য দেখা গেছে।    

জানতে চাইলে ঐ কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা প্রহলাদ চন্দ্র রায় বলেন, “ এই কেন্দ্রে ৩ হাজার ৪ শত ৪৩ ভোটারের মধ্যে বেলা ১২ টা পর্যন্ত ৬০ ভাগ ভোট গ্রহন হয়।”  ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী মো. নুরুল আলমের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্ঠা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির একাংশের যুগ্ম আহবায়ক অধ্যাপক মো. মহসিন মুঠোফোনে ভোটের পরিবেশ না থাকায় কেন্দ্রে ভোট দিতে যাননি জানিয়ে বলেন, “ জোটের প্রার্থী(নুরুল আলম) ও নেতারা কঠিন পরিস্থিতির মুখে ভোট কেন্দ্রে ভোট দিতে যাননি। ভয়ভীতি দেখিয়ে এক তরফা নির্বাচন দেশের জন্য কোনো সুফল আসবেনা।”

ভোট গ্রহন শেষ হওয়া পর্যন্ত কোনো প্রার্থী ভোট গ্রহনের অনিয়মের বিষয়ে অভিযোগ করেননি বলে নিশ্চিত করেন সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইউএনও মো. মাসুদুর রহমান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *