চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

জাহেদুল হক আনোয়ারা প্রতিনিধি

আনোয়ারা উপকূলে লবণ উৎপাদনে ব্যস্ত চাষীরা

প্রকাশ: ২০১৯-০১-০৪ ০০:১০:১৬ || আপডেট: ২০১৯-০১-০৪ ০০:১০:১৬

জাহেদুল হক,আনোয়ারা : আনোয়ারা উপক‚লে চলছে লবণ উৎপাদনের মৌসুম। এখানকার লবণ চাষীরা দিনের পুরোটাই সময় ব্যয় করছেন লবণ উৎপাদনে। সবেমাত্র ওই জায়গায় চিংড়ি ঘের গুটিয়ে লবণ মাঠ তৈরি করছেন তারা। গত কয়েক বছরে পরীক্ষামূলক লবণ চাষে সাফল্যকে পুঁজি করে এ বছরও চাষীরা পুরোদমে কাজ করে যাচ্ছেন।
সরেজমিন দেখা যায়,প্রায় ১৫০ একর মাঠজুড়ে লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যে মাঠ পরিচর্যা করছেন অর্ধশতাধিক চাষী। সকাল থেকে শুরু করে সন্ধ্যা অবদি যেন চাষীদের অন্য কোন কাজ করার সময় নেই। উপজেলার উপক‚লীয় দুই ইউনিয়ন রায়পুরের দক্ষিণ গহিরা ও বারশতের পারকি এলাকায় লবণ চাষ হচ্ছে। এখানে আগে তেমন জনপ্রিয় ছিল না লবণ চাষ। কয়েক বছর ধরে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া,চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার চাষীরা আনোয়ারা উপক‚লে লবণ উৎপাদন শুরু করে। কম খরচে উৎপাদন ভাল হওয়ায় দিন দিন লবণ চাষে আগ্রহ বাড়ছে অনেকের।

লবণের দাম বেশি হওয়ায় চাষীদের মুখে হাসির ঝলকও দেখা দিচ্ছে। যদি শেষ পর্যন্ত এই দাম অব্যাহত থাকে তাহলে লবণ চাষীরা তাদের পরিশ্রমের সুফল পাবে এই আশা রাখছে।
জানা যায়, উপজেলার দক্ষিণ গহিরা ও পারকি এলাকায় চলতি মৌসুমে বাঁশখালী,পেকুয়া ও কুতুবদিয়া উপজেলার অর্ধশতাধিক চাষী প্রায় ১৫০ একর জমি লাগিয়ত নিয়ে লবণ উৎপাদন শুরু করেছেন। অথচ গেল মৌসুমে সেখানে লবণচাষ হয়েছিল ২০০ থেকে ২৫০ একর জমিতে। কর্ণফুলী টানেল নির্মাণের জন্য গত বছরের তুলনায় এ বছর লবণ চাষ কমেছে প্রায় দ্বিগুণ।
চাষীরা জানান, লবণ চাষের জন্য প্রথমে জমিকে ছোট ছোট ভাগ করে নেয়া হয়। এরপর ভেজা মাটিকে রোলার দিয়ে সমান করে বিছিয়ে দেয়া হয় মোটা পলিথিন। জোয়ার আসলেই মাঠের মাঝখানে তৈরি করা গর্তে জমানো হয় সাগরের লবণ পানি। বালতি ভরে বিছানো পলিথিনের উপর রাখা হয় পানি। জলীয় বাষ্প হয়ে উড়ে যায় পানি আর মাঠে জমে যায় লবণের আস্তরণ। সেই লবণ তুলে স্তুপ করে রাখা হয় যেন সরে যায় পানি। এরপরই বস্তায় ভরে লবণ তুলে দেয়া হয় বেপারীর হাতে। চাষীরা আধুনিক পলিথিন ও সনাতন পদ্ধতিতে মাঠে লবণ চাষ করছেন।
কুতুবদিয়া থেকে আসা চাষী কামাল উদ্দিন জানান, প্রতি মৌসুমের জন্য কানিপ্রতি (৪০ শতক) জমি ৩ হাজার টাকায় লাগিয়ত নিই। প্রতি কানিতে চাষাবাদে খরচ পড়ে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা। এতে লাভ হয় খরচের দ্বিগুণ। তিনি আরও বলেন,সরকার যদি এসব এলাকায় উৎপাদিত লবণ রফতানিতে সহযোগিতা করেন তাহলে লবণ চাষীরা আরও বেশি উপকৃত হবে।
জানতে চাইলে বারশত ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম এ কাইয়ুম শাহ জানান, পারকি এলাকায় বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে লবণচাষ। কম খরচে লাভ বেশি তাই স্থানীয়রাও লবণচাষে ঝুঁকছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আরো পাঁচ মাস লবণ উৎপাদন হবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *