চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

এস. এম. রাশেদ চন্দনাইশ প্রতিনিধি

সৎ ও নির্ভিক নজরুলের কাছে অলির সূচনীয় পরাজয় : মন্ত্রী পদে দেখতে চাই চট্টগ্রাম-১৪ আসনের মানুষ

প্রকাশ: ২০১৯-০১-০৪ ১৫:৪৩:০৯ || আপডেট: ২০১৯-০১-০৪ ১৫:৪৩:০৯

এসএম রাশেদ,চন্দনাইশ: 

৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় একাদশ নির্বাচনে সৎ নির্ভিক চট্টগ্রাম-১৪ আসনের আ’লীগের মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম চৌধুরী কাছে সরাসরি ১লক্ষ ৮৯ হাজার ৪শ’ ১২ ভোটে সূচনীয় পরাজিত হলেন সাবেক টানা ৫ বারের এমপি ও এলডিপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান কর্ণেল অলি ভোট পান ২১ হাজার ৯শ’৪৭ ভোট । যার ফলে অলিসহ আরো ৮ প্রার্থীর জামানত বাজপ্ত হয় বলে জানা যায়। বিপুল ভোটে বিজয়ী আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম চৌধুরী একজন সৎ,নির্ভিক ব্যাক্তিকে প্রধানমন্ত্রী শেখহাসিনা মন্ত্রী পরিষদে স্থান দিলে সততার সাথে দায়িত্ব পালন করে তিনি মন্ত্রী পরিষদের তার সুনাম ও বাংলাদেশের সুনাম অর্জন করবেন বলে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সাধারণ জনগণ মত প্রকাশ করেছেন। তাই তারা শেখহাসিনার সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন।

দেশ স্বাধীনের পর সর্বপ্রথম ১৯৭২ সালে সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে আ’লীগের ডাঃ এ.বিএম ফয়েজুর রহমান নির্বাচিত হয়েছিল। ১৯৭৯ সালে সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ব্যারিষ্টার মাহাবুবুল কবির নির্বাচিত হওয়ার ১ বছরের মধ্যে তাকে রাষ্টদূত করে বিদেশে পাটিয়ে দিলে ১৯৮০ সালে উপ-নির্বাচনে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানে ব্যাক্তিগত সচিব কর্ণেল অলি আহমদ বীর বিক্রম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৬-৮৮ সালের নির্বাচনে জাতীয় পাটির ইঞ্জিনিয়ার আফসার উদ্দীন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১সালের নির্বাচনে পুনঃরায় বিএনপির কর্ণেল (অবঃ) অলি আহমদ নির্বাচিত হন এবং যোগাযোগ মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্র“য়ারী প্রথম দফায় বিএনপি থেকে কর্ণেল (অবঃ) অলি আহমদ বিনা প্রতিদন্ধন্দিতায় নির্বাচিত হন এবং একই সালের ১২জুন নির্বাচনে ২য় দফায় অলি আহমদ চট্টগ্রাম-১৩ ও ১৪ এ দুই আসনেই বিএনপির টিকেট নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ১৪ আসনের সংসদ সদস্যের পদ রেখে ১৩ আসন ছেড়ে দেন এবং ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৯৬ সালের উপ-নির্বাচনে কর্ণেল অলির সহ-ধর্মনী মমতাজ অলি বিএনপি থেকে এ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে কর্ণেল (অবঃ) অলি বিএনপি থেকে পূনরায় নির্বাচিত  হলেও নানা কারণে সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বে ২৬ অক্টোবর ২০০৬ সালে কর্ণেল অলির নেতৃত্বে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি এলডিপি গঠন করা হয়। পরে ২০০৮ সালের ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এলডিপর ছাতা মার্কা নিয়ে এ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়।  ২০১৪ সালের নির্বাচনে আ’লীগ প্রার্থী বিনাপ্রতিদন্ধীতায় নির্বাচিত হলে দীর্ঘ ৪২ বছর পর আ’লীগ এ আসনটি পূনঃরায় উদ্ধার করে। গত ৫ বছরে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন ও সৎ,নির্ভিক ও নিলোর্ভ প্রকৃতির মানুষ হওয়ায় স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর সরাসরি ভোটের মাধ্যমে এ প্রথম আ’লীগের আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম চৌধুরী বিপুল ভোটে এমপি নির্বাচিত হন। মরহুম আবুল কাশেম লেদু ফাউন্ডেশনের সভাপতি আলহাজ্ব লোকমান হাকিম বলেন, সারা বাংলাদেশে হয়ত কয়েজন সৎ নির্ভিক নির্লোভ মানুষের মধ্যে কেউ এমপি হলে তাদের মধ্যে অন্যতম মনে করছেন আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম চৌধুরী। তাই তিনি মন্ত্রী পদের যোগ্য মনে করছেন তাকে। খাগরিয়া ইউনিয়নের মোহাম্মদ হাসান মনে করেন, দক্ষিণ চট্টগ্রামে কেউ মন্ত্রীর যোগ্যতা পেলে প্রথমে নজরুল ইসলাম চৌধুরী নাম আগে থাকা দরকার। কালিয়াইশের মোজাফ্ফর বলেন, নজরুল ইসলাম চৌধুরী একজন সৎ নীতিবান মানুষ বলে তার নির্বাচনী প্রচারণায় উত্তর কালিয়াইশ উত্তর পাড়া বাজার মাজার গেইটের সামনে নিজের অর্থায়নে বিশাল নৌকা গেইট দিয়েছেন এবং ভোটারদের ভোট দিতে দৃষ্টি আকষর্ণ করছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তাকে মন্ত্রীর পদে বসালে তিনি খুবই আনন্দিত হবেন। চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সাংসদ আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম চৌধুরীকে মন্ত্রী পদে দেখতে আগ্রহী দক্ষিণ চট্টগ্রাম তথা চন্দনাইশের মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *