চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

নূর হোসেন মামুন , কাপ্তাই প্রতিনিধি :

কাপ্তাইয়ের কেপিএমে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ১৮টি দোকান পুড়ে ছাই, ২০লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি

প্রকাশ: ২০১৯-০১-০৭ ১৬:০৫:০৬ || আপডেট: ২০১৯-০১-০৭ ১৬:০৬:২২

নূর হোসেন মামুন, কাপ্তাই-

রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নে অবস্থিত এশিয়ার বৃহত্তম কর্ণফুলী পেপার মিলস লিঃ। অাশির দশকের এই মিলসকে কেন্দ্র করে যেমন প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারিদের কর্মসংস্থান তৈরী হয়েছে, ঠিক তেমনি কেপিএম সহ অাশেপাশের এলাকায়ও গড়ে উঠেছে ৫’শতাধিক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানও। কিন্তু কেপিএমের বর্তমান জরাজির্ণ অবস্থা, লোকসান, বেতন-ভাতাদি বকেয়া পড়ার প্রভাবে দিনের পর দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে লোকসানের হিসাব স্থানীয় সর্বমহলেই।

প্রতিদিনই দেনা ও দুর্দশাগ্রস্ত হয়ে কুল হারা হয়ে খেয়ে না খেয়ে দিক কাটছে শ্রমিক-কর্মচারি সহ স্থানীয় ব্যবসায়ীদের। তার উপর সোমবার রাতটি ভয়াল কাল হয়ে হয়ে দাড়িয়েছে কেপিএমের বারঘোনিয়া মার্কেটের ব্যবসায়ীদের। সোমবার দিবাগত রাত ২টার সময় সবাই যখন ঘুমের ঘরে ঠিক সে-সময় উক্ত মার্কেটের লিটন সওদাগরের মুদির দোকান অথবা মজনু সওদাগরের কাপড়ের দোকানে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট হতে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হয়ে মুহুর্তেই পুড়ে ছাই হয়ে যায় ১৮টি দোকান ঘর। এমনটি বলছেন, থানা পুলিশ এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা।

 

ভুক্তভোগী অধিকাংশ ব্যাবসায়ী বলছেন, প্রতিদিনের ন্যায় অামরা দোকানপাট বন্ধ করে বাড়িতে গিয়ে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। তাই মধ্য রাতে আগুন লাগায় অধিকাংশ দোকানী ব্যাবসায় প্রতিষ্ঠান অনুপস্থিত থাকায় দোকানের কোন মালামাল, অাসবাপত্রই অাগুনের লেলিহান শিখার অাক্রমণের কবল হতে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তাদের দাবি, বাজারের মুদির দোকান, কাপড়ের দোকান, লন্ড্রী এবং গোডাউন সহ ১৮টি দোকানঘর পুড়েছে। তাৎক্ষনিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান ২০ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা।

এদিকে অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে কাপ্তাই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, পার্শ্ববর্তী রাংঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিস এবং কেপিএমের ফায়ার ব্রিগেডের ৩টি ইউনিট একযোগে ঘন্টাব্যাপী চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। কাপ্তাই থানা পুলিশের সদস্য, কেপিএমের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী এবং স্থানীয় জনগনের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রনে আসে রাত ৩ টার পর।

কাপ্তাই ফায়ার সার্ভিস এর স্টেশন কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান আনসারী জানান, তারা অগ্নিকান্ডের খবর পাবার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে রওনা হন। কেপিএম এবং রাংগুনিয়া ফায়ার সার্ভিস ও জনগনের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রন আনেন এবং অনেক দোকান বাঁচাতে সক্ষম হন।

এদিকে আগুন লাগার সাথে সাথে কেপিএমের ব্যবস্হাপনা পরিচালক ড. এম.এম.এ কাদের, জিএম (প্রশাসন) একরাম উল্লাহ খন্দকার, চন্দ্রঘোনা ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী বেবী, কেপিএমের সিবিএ সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বাচ্চু সহ স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যাপক সহায়তা প্রদান করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *