চট্টগ্রাম, , রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

প্রদীপ শীল রাউজান প্রতিনিধি

রাউজানে দশ হাজারের অধিক কৃষক ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত!

প্রকাশ: ২০১৯-০১-১৪ ২০:১৪:০৪ || আপডেট: ২০১৯-০১-১৪ ২০:১৪:০৪

প্রদীপ শীল, রাউজান : চট্টগ্রামের রাউজানে চলতি মৌসুমে আমন ধানের বাম্পার ফলন হলেও মুনাফালোভী চক্রের কবলে পড়ে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কৃষক। তুলনামূলকভাবে চালের দাম না কমলেও মধ্যসত্ত্বভোগীরা সিন্ডিকেট করে কৃষকদের কাছ থেকে কম দামে কিনে নিচ্ছে ধান। সিন্ডিকেট দ্বারা বাজার দর হ্রাস পাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। এতে লোকসানের মুখে পড়ার সম্ভাবনায় রয়েছে হাজার হাজার কৃষক। আর লোকসানের আশঙ্কায় গোটা উপজেলাজুড়ে চলছে কৃষকদের বুকফাটা আহাজারি। বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতি এখনো কৃষি নির্ভর। যে কারণে কৃষকের প্রধান ফসল ধানের দরপতনে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিরুপ প্রভাব পড়ে। একাধিক কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ধান বিক্রি করতে সরাসরি উপজেলা খাদ্য গুদামে গেলে সংশ্লিষ্টরা কৃষকের কাছ থেকে ক্রয় করতে অনিহা প্রকাশ করেছেন। এবার (আমন মৌসুমে) স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে সরকার ধান ক্রয় করছে না, লাইসেন্সপ্রাপ্ত মিলের মালিকদের কাছ থেকে সিদ্ধ চাউল ক্রয় করছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা।

এজন্য বাধ্য হয়ে কম দামে অন্যত্র বিক্রি করতে হচ্ছে কৃষকদের। এর সুযোগ নিয়ে মধ্যসত্ত্বভোগীরা সিন্ডিকেট করে কম দামে কিনে নিচ্ছেন কঠোর পরিশ্রমে উৎপাদিত সোনালী ধান। কম দামে ধান কিনে মজুদ গড়ে তুলছে মুনাফালোভী চক্র। তাদের নিয়ন্ত্রণে অপ্রতিরোধ্য গতিতে বেড়েই চলছে চালের বাজার। রাউজান পৌরসভার এক কৃষক জানিয়েছেন, ‘এবার (চলতি মৌসুম) আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। বর্গা জমিতে চাষ করে তিনি প্রায় ৭ টন (৭শ আড়ি) ধান পেয়েছেন। ঋণের টাকা পরিশোধের জন্য ধান বিক্রি করতে আগ্রহ প্রকাশ করলে অনেক ব্যবসায়ী ধান ক্রয় করতে আসেন। একাধিক ব্যবসায়ী প্রতি আড়ি (১০ কেজি) ১৮০ টাকার কম দামে কিনতে চেয়েছেন। দরকষাকষিতে ১৯৫টাকা করে বিক্রি করেছি। অথচ একর প্রতি পাওয়ার টিলার খরচ ৬২৫০ টাকা, ধান মাড়াই একর প্রতি ১৭৫০ টাকা, প্রতি শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ৫০০-৭০০ টাকা। এছাড়া সার, কীটনাশকসহ অন্যান্য খরচ মিলে প্রতি একরে প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ পড়েছে।

তিনি বলেন, সরকার যদি সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করতেন তাহলে আমরা ন্যায্যমূল্য পেতাম। এখন ব্যবসায়ীরারই লাভবান হচ্ছেন, আমরা (কৃষক) ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।’ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, আমন মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১০২৫ হেক্টর। এর মধ্যে স্থানীয় জাত ২০০ হেক্টর এবং উফসী জাত ১০৮২৫ হেক্টর। উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ৩৪৫৪০টি কৃষি পরিবারের ২৮১১৪ জন কার্ডধারী কৃষকদের মধ্যে প্রায় ১২৫০০ জন রোপা-আমন চাষে অংশ নেয়। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘আমরা কৃষকদের মাঠ পর্যায়ে প্রযুক্তিগত তথ্য ও পরামর্শমূলক সেবা প্রদান করেছি। এবারের মৌসুমে আমাদের যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল তা অর্জিত হয়েছে। ফসলও ভালো ফলেছে। কিন্তু মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে কৃষকরা প্রকৃত দাম পাচ্ছে না। সরকার কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান ক্রয় করলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হতো না।

এতে একদিকে কৃষকরা লাভবান হতো, অন্যদিকে বৃদ্ধি পেত অনাবাদি জমির পরিমাণ।’ এ প্রসঙ্গে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা বিদুর্শী চাকমা জানান, ‘আমন মৌসুমে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান ক্রয় করা হয় না, বুরো মৌসুমে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয করা হয়। তবে গত বুরো মৌসুমেও আমরা কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করিনি। সরকার এবার কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করছে না, লাইসেন্স প্রাপ্ত মিলের মালিকদের কাছ থেকে প্রতি কেজি ৩৬ টাকা দরে সিদ্ধ চাউল ক্রয় করছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *