চট্টগ্রাম, , বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

এস. এম. রাশেদ চন্দনাইশ প্রতিনিধি

চন্দনাইশ উপজলা নির্বাচনে বলরাম চক্রবর্তী চেয়ারম্যান পদে নৌকার মাঝি হতে চান

প্রকাশ: ২০১৯-০২-০৪ ০০:৩৮:৫৫ || আপডেট: ২০১৯-০২-০৪ ০০:৩৮:৫৫

চন্দনাইশ প্রতিনিধি : উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি শ্রী বলরাম চক্রবর্তী। তিনি শেখহাসিনার উন্নয়নে ও ডিজিটাল উপজেলা নিমার্ণে একসাথে কাজ করতে সাম্ভাব্য চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে মত প্রকাশ করেছেন।

এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, ১২ মার্চ ১৯৫৯ ইংরেজী সনে তিনি সনাতন ধর্মে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন। তার পিতা মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক স্বর্গীয় ডাঃ সুধীর চন্দ্র চক্রবর্ত্তী ও তার মাতা – স্বর্গীয় শ্রী মতি শেফালী চক্রবর্ত্তী, দুজনই ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন।

তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বাঙ্গাঁলীর হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়িয়েছিলেন তারা। ১নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার বীরউত্তম রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন পটিয়া (বর্তমান চন্দনাইশ) উপজেলার ৫ নং বরমা ইউনিয়নের বাইনজুরী গ্রামের বীরমুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান ইসলামাবাদীর নেতৃত্বাধীন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ কমান্ডার আবদুস ছবুরের নেতৃত্তে¡ ৭৮ সদস্য বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধারা তাদের নিজ বাড়িতে তার পিতা এবং মাতা আশ্রয় দিয়ে প্রায় ২ একর সম্পত্তি বিক্রি করে দীর্ঘ সাড়ে ০৯ মাস তাদের থাকা, খাওয়া, চিকিৎসাসেবাসহ যাবতীয় সহযোগিতা করেছিলেন এবং তার মা তাদের সাড়ে ০৯ মাস রান্না করে খাবার খাওয়ানোসহ যাবতীয় সাহায্য সহযোগিতা করেছিলেন। মুক্তিযোদ্ধা শহীদ কমান্ডার আবদুস ছবুর এর নির্দেশে তৎকালীন শ্রী বলরাম চক্রবর্ত্তী (ভানু) ৭ম শ্রেণিতে পড়–য়া অবস্থায় তাদের কিশোর গোয়েন্দা হিসাবে কাজ করার মধ্যে দিয়ে ১৯৭৩ সালে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ব্যারিষ্টার যতীন্দ্র মোহন সেনগুপ্তের প্রতিষ্ঠিত স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বরমা ত্রাহিমেনকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করার মধ্যে দিয়ে ১৯৭৫ এর ১৫ ই আগষ্ঠ কালো রাত্রিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে দেশী এবং বিদেশী চক্রান্তে স্বপরিবারে পৃথিবীর ইতিহাসে বর্বরোচিত, হৃদয় বিধারক হত্যার মধ্যে দিয়ে তাহার জীবনের সমস্ত দিক ঘুরে যায়।

তখন তিনি সিদ্ধান্ত নেন একদিন জাতির জনকের পরিবারকে ক্ষমতায় আনতে হবে ও আসবে। তাই সিন্ধান্ত নেন, যতদিন জাতির জনকের কন্যাকে বাংলাদেশের ক্ষমতায় দেখব না ততদিন সংসার জীবন করবেন না। ১৯৯৬ সালে জাতির জনকের কন্যা বিশ্বনেত্রী ক্ষমতায় আসার পর ১৯৯৭ সালে ৩৯ বছর বয়সে তিনি সংসার জীবন শুরু করেন। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা বরমা ত্রাহিমেনকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ১৯৭৭-১৯৭৮ চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি । কলেজে থাকাকালীন সময়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কলেজ শাখার সহ-সভাপতির পরে ও কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে এজিএস নির্বাচিত হয়ে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

পরবর্তীতে ১৯৭৯-১৯৮০ সালে অতঃপর রাজনৈতিক হয়রানি ও পারিবারিক দৈন্যতার কারণে চন্দনাইশের গাছবাড়িয়া সরকারি কলেজে বিএ (পাস) কোর্সে ভর্তি হয়। সেখান থেকে কৃতিত্তে¡র সাথে উত্তীর্ণ হন তিন। তখন গাছবাড়িয়া সরকারি কলেজ চন্দনাইশ পশ্চিম এলাকা ছাত্র সংসদ গড়ে তুলেন এবং প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন ও কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নির্বাচত হন এবং কলেজ ছাত্র সংসদের সাংস্কৃিতক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৮২ সালে চন্দনাইশ উপজেলা ছাত্র লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। আ’লীগের রাজনীতি করার কারণে তিনি বিভিন্ন মামলা, হামলা, জেল, জুলুম, শারিরীক ও পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন।

১৯৮৬ সালে নির্বাচন কালীন সময়ে সাড়ে ৩ মাস কারাবরণ ভোগ করেন এবং সাড়ে ০৩ বছর পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রি করে মামলা পরিচালনা করেছিলেন। ১৯৮৮ সালের সম্মেলনে বাংলাদেশ আওয়ামী-যুবলীগের চন্দনাইশ থানার আহবায়ক ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৯২ সালে আওয়ামী লীগের চন্দনাইশ থানার সম্মেলনে দপ্তর সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি রাজনীতির ফাঁকে ফাঁকে বরমায় নিজ গ্রামে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদ, তরুনদের নিয়ে শুক্লম্বর তরুন সংঘ (সামাজিক সংগঠন) বরমা স্বর্নিভর সেতুবন্ধন ক্লাব, গ্রীন স্টার ক্লাব (সামাজিক সংঘটন), স্থানীয় শঙ্খনদী ভাঙ্গন প্রতিরোধ সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক ও চন্দনাইশ হিন্দু ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং চন্দনাইশ ঝংকার নামে একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন।

১৯৯০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে চরম নির্যাতনের শিকার হয়ে কারাবরণ ভোগ করেন তিনি। ১৯৯৩ সালে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের হামলার শিকার হয়ে প্রায় ১৭ (সতের) দিন চট্টগ্রাম মেডিকিল কলেজ হাসপাতালে মুমুর্ষ অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। ১৯৯৪ সালে চট্টগ্রাম আইন কলেজে পড়–য়া অবস্থায় বাংলাদেশ ল স্টুডেন্ট ফেডারেশনের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ কৃষকলীগ চট্টগ্রাম দক্ষিণজেলা শাখার সাবেক যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

তাছাড়া ১৯৯৮ সালে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ প্রতিষ্ঠা করেন এবং প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বৃহত্তর চট্টগ্রাম শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী সেবক পরিষদের ০৩ বার সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বর্তমানে চন্দনাইশ বধির উন্নয়ন সংঘ এর সভাপতি ও চন্দনাইশ উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করতেছেন। ইতিমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রি প্রতিষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদ ও স্মৃতি পাঠাগার চট্টগ্রাম দক্ষিণজেলা প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি ও চন্দনাইশ উপজেলা প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বর্তমানে চন্দনাইশ উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০৮ সালে তিনি উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্ধন্দিতা করছিলেন। বর্তমানে তার কর্মপরিধী ও দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহন,সামাজিক ও এলাকার গ্রহণযোগ্যাতা বিবেচনা করে মাননীয় প্রধান মন্ত্রি তাকে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করলে তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রিকে অত্র উপজেলাটি উপহার দিতে পারবেন এবং তার সাথে দেশের উন্নয়নের মহাযজ্ঞে অংশ গ্রহণ করে একটি সুন্দর মডেল উপজেলা নিমার্ণে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে মত প্রকাশ করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *