চট্টগ্রাম, , বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

আবদুল হাকিম রানা পটিয়া প্রতিনিধি

পটিয়ায় সৌদিয়া-হাইচ মুখোমুখি সংঘর্ষ : নিহত ৪, আহত ১০

প্রকাশ: ২০১৯-০২-০৪ ০০:২১:৫৭ || আপডেট: ২০১৯-০২-০৪ ০০:২১:৫৭

আবদুল হাকিম রানা, বীর কন্ঠ : চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়ার ভাইয়ার দিঘী এলাকায় সৌদিয়া চেয়ারকোচ ও একটি হাইচ মুখোমুখি হলে ঘটনাস্থলেই তিন জন ও চমেকে ১ যাত্রী মারা যায়। এতে প্রায় ১০ জনের মত যাত্রী গুরুতর আহত হয় বলে পুলিশ, হাসপাতাল ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে প্রকাশ। নিহতরা হচ্ছেন আনোয়ার হোসেন (৫০) ও মো: শাহজাহান (৫২), মো: সাকিব (২৫), হেলপার নাজিম উদ্দিন (২০)। নিহত আনোয়ার সাতকানিয়া উপজেলার পুরানগড় গ্রামের আহমদ হোসেন প্রকাশ মুন্সি মিয়ার পুত্র। তিনি আইএফআইসি ব্যাংকে কর্মরত। আর অপর নিহত ব্যক্তি হচ্ছেন মো: শাজাহান। তিনি ও পুরান গড়ের বাসিন্দা। তিনি চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ পোষ্ট অফেসে চাকুরী স্থলে যাওয়ার সময় এ দূর্ঘটনায় পতিত হয়ে প্রাণ হারান আর অপর দুইজনের মধ্যে হাইচের চালক মো: সাকিব সাতকানিয়া এবং হেলপার নাজিম উদ্দিনের বাড়ী বান্দরবান বলে হাইওয়ে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

জানা যায়, গতকাল রবিবার সকাল পৌনে ৮ টায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ভাইয়ার দিঘী পাড় এলাকায় কক্সবাজার অভিমুখী সৌদিয়া চেয়ার কোচ নং চট্টমেট্টো-ব-১১-০২৩৫ এর সাথে চট্টগ্রামগামী হাইচ নং চট্টমেট্টো-১১-৪৯৫২ এর মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। এতে আহতদের মধ্যে ৪ জনের পরিচয় পাওয়া গেলেও ৬ জনের পরিচয় পাওয়া যায়নি এখনো। পরিচয় সনাক্ত হওয়া আহতরা হচ্ছেন- রাশেদ উদ্দিন (৫০), পীং বদি উদ্দিন সাং এলাহাবাদ উপজেলা চন্দনাইশ, মো: ফরহাদ (২৬), পীং আনোয়ার হোসেন সাং সাতকানিয়া, আলী আহমদ (৩৮), পীং রহমত আলী সাং কাঞ্চন নগর উপজেলা চন্দনাইশ, হাসান (২০), পীং আবদুর রহমান সাং রশিদাবাদ উপজেলা পটিয়া। হাসপাতালে নিহত আগ্রাবাদ পোস্ট অফিসের কর্মকর্তা মো: শাহজাহানের পুত্র আরাফাত হোসেন জানান, এ হাইচে তার পিতার সাথে তার ভাই ফরহাদ (২৬) ও ছিল। তার ভাইয়ের অবস্থাও গুরুত্বর বলে সে কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং মাঝে মাঝে অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছিলেন।

এছাড়াও এতে অজ্ঞাত নামা আরো ৬ জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় পটিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হলে ডাক্তাররা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদের সবাইকে চমেক হাসপাতালে রেফার্ড করেন বলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প: প: কর্মকর্তা আবু ইউসুফ মোহাম্মদ ওয়াহিদ উল্লাহ জানান। সর্বশেষ ১১ টা নাগাদ চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চালক মো: সাকিব মারা যান। পটিয়া ক্রসিং হাইওয়ে পুলিশের পরিদশর্ক মিজানুর রহমান জানান, সৌদিয়া চেয়ারকোচের সাথে মুখোমখি সংঘর্ষে মিনি হাইচটি ধুমড়ে মুছড়ে যায়। এতে স্পটেই তিন জন ও চমেকে এক যাত্রী নিহত হয়। গুরুতর আহতরা চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। নিহত লাশ, ঘাতক বাস ও হাইচ কে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া ভেল্লাপাড়া থেকে দোহাজারী পর্যন্ত ৪৯ টি বাক প্রতিনিয়ত এ সড়কে শত শত দূর্ঘটনার জন্ম দিচ্ছে। সড়ক বিভাগ এ বাক সোজা করণ প্রকল্প হাতে নিলে ও ঠিকাদরের অবহেলায় প্রকল্পটি ২০০৮ সালে ভেস্তে যায়। এতে পটিয়া বাইপাস সড়ক প্রকল্প প্রায় ৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নিমাণ কাজ সমাপ্তের পথে থাকলে ও বাক সোজাকরণ প্রকল্পটি মুখ থুবড়ে পড়েছে। ফলে একের পর এক দূর্ঘটনায় এ সড়কে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। ভুক্তভোগীরা এ মহাসড়কের বাক সোজা করণ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়ে দূর্ঘটনা রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দক্ষিণ জেলা নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের নেতা শফিক আহমদ রাসেল দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *