আবদুল হাকিম রানা
পটিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০১৯-০২-০৭ ২৩:৩৯:৩৫ || আপডেট: ২০১৯-০২-০৭ ২৩:৩৯:৩৫
আবদুল হাকিম রানা, বীর কন্ঠ : বাংলাদেশে পর্তুগিজ ব্যবসায়ীদের হাত ধরে খ্রিস্ট বিশ্বাস আগমনের ৫’শ বছর পূর্তি উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী উৎসব শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৪ টায় কর্ণফুলীর বড় উঠান ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামেও বর্ণাঢ আয়োজনে এ উৎসব শুরু হয়। আজ শুক্রবার নগরের পাথরঘাটায় আর্চ বিশপ ভবনে তা শেষ হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
উৎসবের প্রথম দিনে দেয়াং পাহাড়ের মরিয়ম আশ্রমের পুরাতন কবরস্থানে ৬০০ খ্রিস্ট ধর্মশহীদের উদ্দেশে মঙ্গল প্রার্থনা, রোজারি গার্ডেন উদ্বোধন, খ্রিস্ট প্রসাদীয় আরাধনা ও মা মারিয়ার প্রতি ভক্তি জানিয়ে মোমবাতি শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। ফাদার গর্ডেন ডায়েস, ফাদার লেনার্ড রিবেরু, ফাদার টেরেন্স রড্রিক্স, কারিতাস চট্টগ্রামের আঞ্চলিক পরিচালক জেমস গোমেজ।
আয়োজকেরা জানান, ৫০০ বছর আগে খ্রিস্ট ধর্মবিশ্বাস এসেছিল বলে ক্যাথলিক চার্চ বাংলাদেশে সার্বজনীনভাবে সেবাদান করতে পারছে এবং এর মধ্য দিয়ে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলার স্বপ্ন জোরদার হচ্ছে। আরো জানান, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষীপুর ও চাঁদপুর জেলা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম আর্চ ডাইয়োসিস বর্তমানে ১৬টি স্কুল, ১২৫টি গ্রামীণ প্রাইমারি স্কুল, ১৭টি শিক্ষা হোস্টেল, ১৩টি হেলথ সেন্টার ও ডিসপেন্সারি পরিচালনা করছে। এছাড়া সারাদেশে চার্চ প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৫৭৪টি ও সেখানে এক লাখ ৩৫ হাজার ৭১১ জন শিক্ষার্থী শিক্ষা গ্রহণ করছে। চট্টগ্রাম আর্চডাইয়োসিসের মেট্রোপলিটন আর্চবিশপ মজেস কস্তা বলেন, ১৫১৮ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রামে পর্তুগিজ বণিকদের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে পূর্ববঙ্গে খ্রিস্টবিশ্বাসেরও আগমন ঘটে।
১৫৩৭ খ্রিস্টাব্দ থেকে পর্তুগিজ বণিকরা চট্টগ্রামে স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন করে। তাদের ধর্মীয় যত্ন নেওয়ার জন্য ১৫৯৮ সালে দক্ষিণ ভারতের কোচিন ডাইয়োসিস থেকে বঙ্গদেশে প্রথম মিশনারিরা আসেন। প্রথম মিশনারি জেজুইট ধর্মসংঘের পুরোহিত ফাদার ফ্রান্সেসকো ফার্নান্দেজ দিয়াংয়ে পূর্ববঙ্গের প্রথম গির্জা নির্মাণ করেন ১৫৯৯ খ্রিস্টাব্দে। ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে তিনি পাথরঘাটা বান্ডেল রোড ও জামালখানে দুইটি গির্জা নির্মাণ করেন। আর্চবিশপ মজেস কস্তা আরো জানান, চট্টগ্রামে খ্রিস্টভক্তের সংখ্যা ৩৩ হাজার, দেশে ৩ লাখ ৮০ হাজার। যা দেশের জনসংখ্যার মাত্র দশমিক ৩ শতাংশ। দেশে চার্চ প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত ৫৭৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এক লাখ ৩৫ হাজার ৭১১ জন শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ফাদার গর্ডেন ডায়েস, লেনার্ড রিবেরু, টেরেন্স রড্রিক্স, উৎসবের আহ্বায়ক জেমস গোমেজ প্রমুখ।