জাহেদুল হক
আনোয়ারা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০১৯-০২-১০ ০০:১০:৪৮ || আপডেট: ২০১৯-০২-১০ ০০:১০:৪৮
জাহেদুল হক,আনোয়ারা : সরকারিভাবে প্রত্যেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসসহ জাতীয় দিবসগুলো পালন করার নির্দেশনা থাকলেও আনোয়ারায় সিংহভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিজয়ের ভাস্কর্য বা শহীদ মিনার কোনটিই নেই। অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল সোনার বাংলা বিনির্মাণে মুক্তিযুদ্ধ ও একুশের চেতনা প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হলো মুক্তিযুদ্ধের শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ ও ভাষা আন্দোলনের শহীদ মিনার। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্মৃতিস্তম্ভ বা শহীদ মিনার না থাকায় ৫২’র ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও ৭১’র মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
জানা যায়,উপজেলার কয়েকটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজে শহীদ মিনার থাকলেও সিংহভাগ প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদরাসায় স্মৃতিস্তম্ভ বা শহীদ মিনার নেই। উপজেলায় ১১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ৮টি স্কুলে শহীদ মিনার রয়েছে। অপরদিকে ২৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে শহীদ মিনার আছে শুধুমাত্র ১২টিতে। এছাড়া ১১টি মাদরাসা ও ৩২টি কেজি স্কুলের একটিতেও শহীদ মিনার বা স্মৃতিস্তম্ভ নেই। ফলে ওইসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মুক্তিযুদ্ধ ও একুশের চেতনা ধারণ ও লালন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বহুতল ভবন নির্মাণসহ অবকাঠামো উন্নয়নে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে। অথচ এসব শিক্ষাঙ্গনে মুক্তিযুদ্ধ ও একুশের চেতনা লালনে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। যার ফলে প্রতিবছর জাতীয় দিবসসমুহে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষিত হচ্ছে।
উত্তর জুঁইদন্ডী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোমা চৌধুরী জানান,তার বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার না থাকায় শিক্ষার্থীদের আধাকিলোমিটার হেঁটে গিয়ে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে হয়।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আশীষ কুমার আচার্য্য বলেন,সরকারিভাবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণে কোনো বরাদ্দ নেই। তাই অনেক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়নি। তবে প্রতিটি বিদ্যালয়ে স্থানীয়ভাবে শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য বলা হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গৌতম বাড়ৈ জানান, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার বা স্মৃতিস্তম্ভ থাকা প্রয়োজন। এ কাজে ব্যবস্থাপনা কমিটি অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে।