জাহেদুল হক
আনোয়ারা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০১৯-০২-১২ ২৩:৫৫:১৩ || আপডেট: ২০১৯-০২-১২ ২৩:৫৫:১৩
জাহেদুল হক, আনোয়ারা : আনোয়ারায় গৃহস্থ বাড়ির গাছে গাছে আমের মুকুল সুবাস ছড়াচ্ছে সর্বত্র। এবার শীতের তীব্রতা কম থাকায় আমগাছে মুকুল এসেছে অনেকটা আগেই। তবে কৃষিবিদরা বলছেন,শীত বিদায় নেওয়ার আগেই আমের মুকুল আসা ভালো কিছু নয়। ঘন কুয়াশা হলেই আগেভাগে আসা মুকুল ক্ষতিগ্রস্ত হবে,যা ফলনে প্রভাব ফেলবে। তবে এখন থেকেই বিশেষ যতœ নিলে ফলন ভাল হবে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়,প্রায় দুইশ হেক্টর জমিতে আমচাষ হয় এ উপজেলায়। বাড়ির আঙ্গিনা,পুকুরপাড়,রাস্তাঘাট ও পরিত্যক্ত জায়গায় এসব আমগাছ লাগানো হয়। উপজেলার বৈরাগ,আনোয়ারা সদর,পরৈকোড়া ও হাইলধর ইউনিয়নে আম্রপালি (রূপালী) জাতের প্রদর্শনী বাগান করা হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে এসব বাগান থেকে ফলন পাওয়া যাচ্ছে। বাগানে এ বছরও আমের মুকুলে ভরে গেছে। রীতিমত বাগান পরিচর্যায় চাষিদের সহায়তা করছে উপজেলা কৃষি অফিস। এছাড়া পারকি সৈকতের লুসাই পার্ক,কেইপিজেডের বাগান বিলাস ও গুচ্ছগ্রামসহ কয়েক জায়গায় উন্নতজাতের আমচাষ হয়েছে। এসব বাগানে আম্রপালি,হাড়িভাঙ্গা ও দেশিজাতের আমগাছ লাগানো হয়েছে। বাগানের এসব আম রূপ্তানিযোগ্য না হলেও এলাকার চাহিদা মিটাতে সক্ষম হচ্ছে।
আমচাষি শিশির কুমার দাশগুপ্ত বলেন,আমের মুকুলে ছত্রাকজনিত নানা রোগ আক্রমন করতে পারে। এসব রোগের একটি হচ্ছে শুকনা ক্ষত রোগ। তাই এ সময় ছত্রাকনাশক স্প্রে ব্যবহার করা হলে আমের ফলন ভালো পাওয়া যাবে। উপজেলা সহকারি উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সরওয়ার আলম জানান,আমের ফলন বাড়াতে যতœ নিতে হবে বছরভর। অন্যান্য ফলের মতো আম বাগানেও নানা সমস্যা দেখা যায়। তবে সঠিক সময়ে বাগান পরিচর্যা করলে ফলন বৃদ্ধি পাবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো.হাসানুজ্জামান বলেন,এবার শীত কম,তাপমাত্রা বেশি। এজন্য আগাম আমের মুকুল এসেছে। ঘন কুয়াশা বা শৈত্যপ্রবাহ নামলে এসব মুকুল ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তবে শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া ভাল থাকলে ফলন বাড়বে।