চট্টগ্রাম, , বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬

আবদুল হাকিম রানা পটিয়া প্রতিনিধি

পটিয়ায় ইউপি চেয়ারম্যানদের সাথে মতবিনিময় সভা : স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক জনবান্ধব ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার প্রতি গুরুত্বারোপ

প্রকাশ: ২০১৯-০২-১৪ ০০:১০:৪৭ || আপডেট: ২০১৯-০২-১৪ ০০:১০:৪৭

আবদুল হাকিম রানা, বীর কন্ঠ : পটিয়া উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদসমূহের চেয়ারম্যানদের সাথে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: হাবিবুল হাসান স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক জনবান্ধব ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার জন্য ইউপি চেয়ারম্যানদের আহবান জানিয়েছেন। এছাড়াও তিনি ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের অফিস সময়ে উপস্থিত থেকে জনগণকে তাদের কাংখিত সেবা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন। ১৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে পটিয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসন ও সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি উপরোক্ত কথা বলেন। দুর্নীতিবিরোধী সংগঠন ট্রান্সপারেন্সি

ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) উক্ত মতবিনিময় সভা আয়োজনে সার্বিক সহায়তা প্রদান করে। ‘ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে চাই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা’ এই স্লোগানে দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সনাকের উদ্যোগে পটিয়া উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের উপর পরিচালিত পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টিআইবি’র এরিয়া ম্যানেজার মো: জসিম উদ্দিন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: হাবিবুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সনাকের স্থানীয় সরকার বিষয়ক উপ-কমিটির আহবায়ক শীলা দাশ। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সনাক সহ-সভাপতি নিত্যময় চৌধুরী, কেলিশহর ইউপি চেয়ারম্যান সরোজ কান্তি সেন, ভাটিখাইন ইউপি চেয়ারম্যান মুহাম্মদ বখতিয়ার, ধলঘাট ইউপি চেয়ারম্যান রনবীর ঘোষ, আশিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো: হাশেম, হাইদগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউনুচ মিয়া, হাবিলাসদ্বীপ ইউপি সচিব আবদুল মালেক প্রমুখ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু ইউসুফ মো: ওয়াহিদ উল্লাহ, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রাবেয়া চৌধুরী, পিপি অ্যাড. বদিউল আলম এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও সচিবগণ।

উল্লেখ্য, গত ১০ ও ১১ ফেব্রুয়ারী সনাকের পক্ষ থেকে পটিয়া উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন পরিদর্শন করে অদ্যকার সভায় উপস্থাপনের জন্য একটি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন তৈরী করা হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের মধ্যে মাত্র তিনটিতে সিটিজেন চার্টার ও সেবার মূল্য তালিকা রয়েছে। এছাড়াও দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তার নামের বোর্ড রয়েছে মাত্র ২টিতে, চেয়ারম্যান, সদস্য ও কর্মকর্তা-কর্মচারিদের নামের তালিকা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করা হয়েছে মাত্র একটি ইউপিতে, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের সেবা সংক্রান্ত তথ্য প্রদর্শন করা হয়েছে সাতটি ইউপিতে, তবে ডিজিটাল সেন্টারের সেবার মূল্য তালিকা রয়েছে মাত্র একটিতে। এছাড়াও অভিযোগ ও পরামর্শ বক্স রয়েছে ০৪টি ইউপিতে, নোটিশ বোর্ড আছে ১২টি ইউপিতে, তবে বেশীর ভাগ ইউপিতে নোটিশ বোর্ডে হালনাগাদ তথ্য নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, নোটিশ বোর্ডে ইউপি’র বাজেট প্রদর্শণ করা হয়েছে মাত্র ৪টি ইউপিতে এবং চলমান প্রকল্পের তালিকা প্রদর্শন করা হয়েছে মাত্র একটি ইউপিতে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, পরিদর্শনের সময় ৪টি ইউপি কার্যালয় সম্পূর্ণ বন্ধ ছিলো, কোন কর্মকর্তা-কর্মচারি এসময় ৪টি পরিষদে পাওয়া যায়নি। এসময় সেবা প্রার্থীরা দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে সেবা না পেয়ে ফেরত যাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে ৮টি ইউপিতে ডিজিটাল সেন্টার সম্পূর্ণ বন্ধ ছিলো। উক্ত প্রতিবেদনের আলোকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাবিবুল হাসান বলেন, প্রতিবেদনে যে তথ্য উঠে এসেছে তা কাম্য নয়। একটি জনবান্ধব ইউনিয়ন পরিষদ গঠন করতে হলে ইউনিয়ন পরিষদকে আরো সক্রিয়ভাবে সেবা দিতে হবে। জনগণকে যাতে সেবা নিতে এসে অপেক্ষা করতে না হয় বা ফেরত যেতে না হয় সেদিকে নজর দিতে হবে।

এছাড়ও সেবা নিতে গিয়ে যাতে জনগণ কোন ধরণের হয়রাণীর শিকার না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। তিনি আরো বলেন, প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদকে সিটিজেন চার্টার স্থাপন করতে হবে এবং সেখানে সেবার মূল্য তালিকা উল্লেখ থাকবে। ডিজিটাল সেন্টারগুলো খোলা রাখতে হবে। সব পরিষদকে নোটিশ বোর্ড হালনাগাদ করতে হবে এবং নোটিশ বোর্ড জনগণ যাতে পড়তে পারে সেরকম জায়গায় স্থাপন করতে হবে। তিনি ওয়ার্ড সভার মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের মতামত নিয়ে প্রকল্প গ্রহণের অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের বার্ষিক বাজেট প্রতিবছর জনসম্মুখে প্রকাশের জন্য উন্মুক্ত বাজেট সভা করতে হবে। প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদে তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ি দায়িত্ব প্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা নিয়োগ করে তার নাম ও মোবাইল নাম্বার পরিষদের দেয়ালে স্থাপন করতে হবে। তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ বাস্তবায়নে প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদকে মতবিনিময় সভা করার অনুরোধ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *