আবদুল হাকিম রানা
পটিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০১৯-০২-১৬ ০০:১৬:৪৩ || আপডেট: ২০১৯-০২-১৬ ০০:১৬:৪৩
আবদুল হাকিম রানা, বীর কন্ঠ : জাতীয় সংসদের হুইপ পটিয়া থেকে বার বার নির্বাচিত সাংসদ আলহাজ্ব সামশুল হক চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশে জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনা যতদিন রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকবেন এখানে কেউ সাম্প্রদায়িকতার বিষ বাষ্প ছড়াতে পারবে না। বিশেষ করে ৭৫’র ১৫ আগস্টে জাতির পিতাকে স-পরিবারে হত্যার মাধ্যমে এদেশে যে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির উৎখান ঘটেছিল তারাই বার বার নানাভাবে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাাতন ও নিপীড়ন চালিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়নের চাকাকে পেঁছনে টেনে ধরার চেষ্ঠা করেছে। তাদের স্বপ্ন ছিল সব সময় একটাই বাংলাদেশকে আবার পাকিস্তানে পরিণত করা। আজ জাতির পিতার কন্যার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বে একটি উন্নয়ন সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে উঠার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এর ধারাবাহিকতা রক্ষা করার জন্য সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
তিনি পটিয়ায় বিগত ১০ বছরে দৃশ্যমান ব্যাপক উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে বলেন, স্বাধীনতা বিরোধী গোষ্ঠীরা রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকাকালে হাজার বছরের ঐতিহ্য ও গৌরবে সমৃদ্ধ পটিয়াও উন্নয়নের ক্ষেত্রে পিঁছিয়ে পড়েছিল। কিন্তু শেখ হাসিনার সরকার এদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পরে এ পটিয়ায় যে উন্নয়ন করা হয়েছে তা আজ সারা বাংলাদেশে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি পটিয়ায় তার অসমাপ্ত উন্নয়ন কর্মকান্ড সমাপ্ত করার মাধ্যমে পটিয়াকে একটি মডেল জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানিয়ে বলেন, আপনাদের রায়কে সম্মান প্রদর্শণ করে আজ আমাকে যে মর্যদা দেওয়া হয়েছে তার প্রতিদান দিতে আমি যেকোনো ত্যাগ শিকার করে হলেও পটিয়ার উন্নয়নে কাজ করে যাবো। তিনি পটিয়া শহরের পরিধি বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে সরকারের গৃহিত কর্মকান্ডে কেউ বাধার সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বলেন, পটিয়াকে এগিয়ে নিতে হলে শহরের পরিধি বাড়াতে হবে।
এতে কয়েকজন জনপ্রতিনিধি নিজেদের স্বার্থে শহরের পরিধি বৃদ্ধির কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্থ করার অপচেষ্ঠায় লিপ্ত হয়েছে। যা কখনো মেনে নেওয়া হবে না। তারা যদি তাদের ব্যক্তি স্বার্থের উর্ধ্বে উঠে না আসেন তাহলে আগামীতে দল থেকে তাদেরকে মনোনয়ন দেওয়া হবে না। তিনি গতকাল পটিয়ার নাইখাইনে ২ দিনব্যাপি বুদ্ধ প্রতিবিম্ব অভিষেক ও বৌদ্ধ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার সহ-সভাপতি ভদন্ত শাসনপ্রিয় মহাথেরো’র সভাপতিত্বে এতে উদ্বোধক ছিলেন সংঘরাজ পূর্ণাচার ভিক্ষু সংসদের সভাপতি ভদন্ত প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরো। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আ.ক.ম সামশুজ্জামান চৌধুরী, জেলা পরিষদ প্যানেল চেয়ারম্যান দেবব্রত দাশ, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মহসিন খান, ভদন্ত শাসনমিত্র মহাস্থবির, বৌদ্ধ ধর্ম কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান সুপ্ত ভূষণ বড়ুয়া, সিদ্ধার্থ বড়ুয়া, কাজল কান্তি বড়ুয়া, মৃণাল কান্তি বড়ুয়া, জঙ্গলখাইন ইউপি চেয়ারম্যান গাজী মুহাহাম্মদ ইদ্রিস, আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পাচ্য ভাষা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. জিনবোধি মহাস্থবির, স্বাগত বক্তব্য রাখেন শাক্যপদ বড়ুয়া, মৈত্রীপ্রিয় ভিক্ষু, সঞ্চালনায় ছিলেন অধ্যাপক অভিজিৎ বড়ুয়া মানু ও সেঁজুতি বড়ুয়া। এছাড়া বৌদ্ধদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় গুরু সংঘরাজ ড. ধর্মসেন মহাস্থবির, একুশে পদকপ্রাপ্ত উপ-সংঘরাজ পন্ডিত সত্যপ্রিয় মহাস্থবির সহ প্রাজ্ঞ ভিক্ষু সংঘ ও নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।