চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

জাহেদুল হক আনোয়ারা প্রতিনিধি

আনোয়ারা উপকূলে তরমুজ চাষ : সেচের অভাবে ফলন ব্যাহত

প্রকাশ: ২০১৯-০২-১৬ ২৩:০১:০৮ || আপডেট: ২০১৯-০২-১৭ ০০:২১:০৫

জাহেদুল হক, আনোয়ারা : সেচ সুবিধার অভাবে আনোয়ারা উপকূলে তরমুজের আশানুরুপ ফলন হয়নি। বাজারে তরমুজের দাম পাওয়া গেলেও ফলন কম হওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন চাষীরা।
উপকূলীয় গহিরা চরের তরমুজ চাষী জকিরআহমদ, বাচন আলীসহ একাধিক কৃষক জানান, মিঠা পানির অভাবে তারা খেতে সেচ দিতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন। মাঠে কুয়া কেটে সেচের ব্যবস্থা করা হলেও অধিকাংশ কুয়া শুকিয়ে গেছে। তারওপর তরমুজ গাছে নানা রোগ বালাইয়ের আক্রমন হয়েছে। কৃষি বিভাগের কোন পরামর্শ না পাওয়ায় তারা বাজার থেকে বিভিন্ন কীটনাশক ব্যবহার করেও ফল পাননি। এ বিষয়ে উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা প্রকাশ চৌধুরীবলেন, রায়পুর ও গহিরা ব্লকে কৃষি কর্মকর্তার পদ শূণ্য থাকায় চাষীরা পরামর্শ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
চাষীদের অভিযোগ, কয়েক বছর ধরে এলাকায় গভীর নলকূপ বসানোর দাবি জানালেও সাড়া দেয়নি প্রশাসন। তাই প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে চাষাবাদ করছেন উপকূলের চাষীরা। এছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থার অজুহাতে কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে আসেন না। এদিকে বাজারে যেসব ঔষধ বিক্রি হচ্ছে সেগুলোর ওপর নজরদারি নেই প্রশাসনের। যে কারণে মাঠে ফসল ফলাতে হুমকির মুখে পড়ছেন চাষীরা।
সরেজমিন দেখা গেছে, অধিকাংশ তরমুজ খেতে রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। দলা রোগের কারণে তরমুজ গাছ মরতে শুরু করেছে। পানির অভাবে শুকিয়ে গেছে মাঠ। তরমুজের ফলন ও আশানুরুপ হয়নি। এদিকে শহরের চেয়ে আনোয়ারার বাজারে তরমুজের দাম চড়া। প্রতিটি তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১৫০ টাকায়। দাম বেশি কেন জানতে চাইলে রুস্তমহাটের একজন বিক্রেতা জানান, এখানকার তরমুজ আকারে ছোট হলেও মিষ্টি বেশি। তাছাড়া এবার ফলন ভালো হয়নি বলে কৃষকদের কাছ থেকে কিনতে হয়েছে বেশি দামে।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্র জানায়, এবার উপজেলার উপকূলীয় ইউনিয়ন রায়পুরের দক্ষিণ গহিরা, পরুয়া পাড়া, বারশতের পারকিসহ বারখাইন ও হাইলধর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে রায় ৫০ একর জমিতে তরমুজের চাষ হয়েছে। জানুয়ারির শুরু থেকে তরমুজ তোলে বাজারে বিক্রি করছেন চাষীরা।
উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা মো.হাসানুজ্জামান বলেন, জনবল সংকটের কারণে ওই দুটি ব্লকে কৃষি কর্মকর্তার পদ শূণ্য রয়েছে। অচিরেই তা পূরণ করা হবে। আর যে সব জায়গায় সেচ সংকট রয়েছে, সেখানেই মূলত রোগ বালাই দেখা দিয়েছে। রায়পুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জানে আলম জানান, কৃষকদের সেচ সুবিধায় মাঠ পর্যায়ে গভীর নলকূপ বসানো হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *