চট্টগ্রাম, , সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

নীরব জসীম ডেস্ক কন্ট্রিবিউটর

লোহাগাড়ায় সিএনজি চালক হত্যার রহস্য উদঘাটন : লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা : গ্রেফতার ৩

প্রকাশ: ২০১৯-০২-১৯ ২২:২১:২৪ || আপডেট: ২০১৯-০২-১৯ ২২:২৩:৩৪

নীরব জসীম : লোহাগাড়া উপজেলায় সিএনজি চালক আব্দুল মোনাফ হত্যাকান্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করে আজ ১৯ ফেব্রুয়ারী সন্দ্যায় লোহাগাড়া থানা পুলিশ এক প্রেস ব্রিফিং করে। জানা যায়, গত ৭ ফেব্রুয়ারী উপজেলার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পদুয়া ঠাকুরদিঘীর পশ্চিম পার্শ্বে ফসলি জমি থেকে সিএনজি চালক আব্দুল মোনাফের লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। এঘটনায় নিহতের স্ত্রী খতিজা বেগম অজ্ঞাতনামাকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলা রুজু হওয়ার পর রহস্য উদঘাটনের লক্ষ্যে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান মোল্যা ও থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ জহির উদ্দিনের নেতৃত্বে তদন্ত কর্মকর্তা মোঃ নুরুন্নবীর চৌকস অভিযানে রহস্য উদঘাটন ও আসামীদের ধরতে সক্ষম হয়।

প্রেস ব্রিফিং এ অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানায়, ভিকটিমের মোবাইল ফোন ও সংগৃহীত সাক্ষ্য প্রমাণ ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কিশোর অপরাধী মোঃ মিজানুর রহমান সাহেদ(১৭)কে প্রথমে আটক করা হয়। আটক কিশোর সাহেদ উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের নোয়া পাড়ার ৩ নং ওয়ার্ডের আবু তাহেরের পুত্র। তার দেওয়া তথ্যমতে খুনের সাথে জড়িত অপর দুই আসামী একুই ইউনিয়নের মৌলভী পাড়ার মোঃ মুছা প্রকাশ কালন সওদাগরের পুত্র সিএনজি চালক মোঃ খোরশেদ আলম (২৭) ও সাতকানিয়া থানার দক্ষিণ ছদাহা মুন্সী পাড়ার ৮ নং ওয়ার্ডের আবু তাহেরের পুত্র মোঃ হাসান (৩২)কে আটক করা হয়।

তাদের দেওয়া ১৬৪ ধারা জবানবন্দিতে কিশোর অপরাধী মিজানুর রহমান সাহেদ ও খোরশেদ এক লোমহর্ষক খুনের ঘটনার বর্ণনা দেন। তারা বলেন, ভিকটিম আব্দুল মোনাফ একজন বিকৃত যৌনরুচি সম্পন্ন ব্যক্তি। সে কিশোর অপরাধী মিজানুর রহমান সাহেদের সাথে যৌন ক্রিয়ায় (বলৎকার) লিপ্ত ছিল। ঘটনার দিন রাত ৯টার সময় সাহেদকে নিয়ে ভিকটিম আব্দুল মোনাফ হিউম্যান হলার(ম্যাজিক) গাড়ীতে করে ঠাকুর দিঘীর বাজারের দিকে রওয়ানা করলে খোরশেদ ও মোঃ হাসান তাদের পিছু নেয়। ঘটনাস্থলে পৌছলে ভিকটিম আব্দুল মোনাফ কোমর থেকে প্লাষ্টিকের চাউলের বস্তার চট বাহির করিয়া জমিতে বিছাইয়ে মিজানুর রহমান সাহেদকে বলৎকার করার সময়ে আসামী খোরশেদ আলম ও মোঃ হাসান হাতেনাতে বলৎকার করার সময় ধরে পেলে। পরে গালমন্দ করে এক পর্যায়ে সাহেদ ও খোরশেদ ভিকটিমের গলায় থাকা মাফলার দিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে আর মোঃ হাসান কোমর থেকে কেঁিচ বের করে মোনাফকে মাথায় এলোপাতারি আঘাত করে, মাথার মাঝখানে, পিছনের খুলিতে, ডান কানে ও কানের গোড়ায় মারাতœক জখম করে খুন করে পালিয়ে যায়।

এঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। ঘটনার ১১ দিনের মাথায় পুলিশ হত্যা কান্ডের মূলরহস্য উদঘাটন করে। প্রেস ব্রিফিং এ সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান মোল্যা, থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ জহির উদ্দিন, সেকেন্ড অফিসার মোঃ আব্দুল হক, এসআই নুরুন্নবী, এসআই সোহেল সিকদার অন্যান্য অফিসারগণসহ স্থানীয় গনমাধ্যম কর্মিগন উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *