চট্টগ্রাম, , সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

জাহেদুল হক আনোয়ারা প্রতিনিধি

আনোয়ারায় হাতি আতঙ্কে কেইপিজেডের ২৩ হাজার শ্রমিক

প্রকাশ: ২০১৯-০২-২০ ২১:১৭:৪৭ || আপডেট: ২০১৯-০২-২০ ২১:১৭:৪৭

আনোয়ারা প্রতিনিধি : দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে আনোয়ারা-কর্ণফুলীর কোরিয়ান ইপিজেডসহ দৌলতপুর,শাহমীরপুর ও বৈরাগ এলাকায় হাতি আতঙ্কে আছে সাধারণ মানুষ। দেয়াঙ পাহাড়ে অবস্থান নেওয়া দুটি বন্যহাতি ঘুম হারাম করে দিয়েছে এলাকাবাসীর। সন্ধ্যা নামলেই হাতিগুলো নেমে আসছে লোকালয়ে। এতে সবচেয়ে বেশি আতঙ্কের মধ্যে আছে কেইপিজেডের ১৩টি কারখানার ২৩ হাজারেরও বেশি শ্রমিক। হাতিগুলো তাড়ানোর জন্য প্রশাসন ও এলাকাবাসী বনবিভাগের দিকে তাকিয়ে থাকলেও এখনও পর্যন্ত দৃশ্যমান সাড়া মেলেনি।
বনবিভাগ সূত্র জানায়,হাতি তাড়ানোর বিশেষ কোন পন্থা তাদের জানা নেই। পাহাড় থেকে হাতি নামলে সেগুলো নানা পরিকল্পনায় পাহাড়ে তুলে দেওয়া যায়। এখন দুই মাস ধরে হাতি দুটি দেয়াঙ পাহাড়ে রীতিমত স্থায়ী আবাস বানিয়ে নিয়েছে। যে কারণে হাতিগুলো স্বেচ্ছায় এই পাহাড় না ছাড়লে তাদের তাড়ানো সম্ভব নয়। তবে হাতি দুটি সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে জানিয়ে বনবিভাগ পটিয়া রেঞ্জের কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন,‘আমরা প্রতিদিন দেয়াঙ পাহাড়ে গিয়ে হাতিগুলো আরো গভীর জঙ্গলে পাঠানোর চেষ্টা করছি’।

জানা যায়,হাতির আক্রমনে গত ১৯ জানুয়ারি শাহমীরপুরে আহত হন রুনা আক্তার (২৫) ও তার ছেলে সায়মন (৪)। গত বছরের ১৩ জুলাই হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে মারা যান মোহাম্মদপুরের আবদুর রহমান (৭০)। চাঁপাতলী গ্রামে আহত হন আরেক নারী। এর আগে বড়উঠানের জালাল আহমদ (৭২) ও মরিয়ম আশ্রমের জুয়েল দাশ নামের এক ছাত্রের মৃত্যু হয় হাতির আক্রমনে।

কোরিয়ান এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোনের (কেইপিজেড) সহকারী মহাব্যবস্থাপক মুশফিকুর রহমান বলেন,হাতিগুলোর তান্ডবে কেইপিজেডের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য ও জীববৈচিত্র মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। প্রতিরাতে হাতিগুলো সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও বাগানের গাছপালা উপড়ে ফেলছে। রাতে তাদের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় নৈশপ্রহরীসহ কারখানার শ্রমিকরা আতঙ্কের মধ্যে কাজ করছে। এ ব্যাপারে বনবিভাগকে একাধিকবার জানানোর পরও কোন সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।
কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল তাবরীজ জানান,গত দুই মাস ধরে দুটি বন্যহাতি দেয়াঙ পাহাড়ে অবস্থান নিয়ে এলাকায় ক্ষতিসাধন করছে। স্থানীয়দের জানমালের নিরাপত্তায় বনবিভাগকে লিখিতভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়া একজন বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ আনা হচ্ছে। আশা করছি শিগগির এ আতঙ্ক থেকে মুক্তি মিলবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *