চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

মিজবাউল হক চকরিয়া অফিস

চকরিয়ায় কৃষককে পিটিয়ে হত্যা: গুলিবিদ্ধ-২০

প্রকাশ: ২০১৯-০২-২০ ২২:১২:৩০ || আপডেট: ২০১৯-০২-২০ ২২:১২:৩০

মিজবাউল হক, চকরিয়া:

কক্সবাজারের চকরিয়ায় জমির বিরোধ নিয়ে প্রতিপক্ষের লাটি-কিরিচ আঘাত ও গুলিতে আবদু শুক্কুর (৬৫) নামের এক কৃষককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ওইসময় নিহতের নিকটাত্মীয় ছাত্র-মহিলাসহ ২০জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়।

বুধবার উপজেলার দক্ষিণ কোনাখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় জড়িত অভিযোগে খাইরুল বশর নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। আবদুর শুক্কুর ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডস্থ নয়াপাড়ার মৃত আশরাফ আলীর ছেলে।

গুরুতর আহতদের মধ্যে নিহতের ভাই আবু ছিদ্দিক (৫৩), চাচাতো ভাই মনু মাঝি (৫৪), নুর হোসেন (৪১), চাচাতো বোন ছেনুয়ারা বেগম (৩৬), রোজিয়া আক্তার (৩১), রেজিয়া বেগম (২৯), আছিয়া বেগম (৪০), আবদু ছাত্তার ও ঢেমুশিয়া জিন্নাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ইমরানুল হক সাগরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

নিহতের পরিবার সদস্য ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানায়, ঢেমুশিয়া নিকটবর্তী কোনাখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ কোণাখালী এলাকার প্রায় ১৬ একর জমি নিয়ে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে বিরোধ চলে আসছিলো আবদু শুক্কুর ও আক্তার আহমদ চৌধুরী গ্রুপের মধ্যে। এনিয়ে অসংখ্য সালিশ বিচার হয়। সম্প্রতি আদালতে আবেদনের প্রেক্ষিতে জমির স্থিতি অবস্থা বজায় রাখতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। জমির অবস্থান দেখতে উপজেলা ভুমি অফিসের কানোনগো বুধবার দুপুরে বিরোধীয় জমিতের যাওয়ার কথা ছিলো।

ওই জমিতে উপস্থিত থাকতে দু’পক্ষতে নোটিশও দেয়া হয়। ফলে, ঢেমুশিয়া থেকে আবদু শুক্কুরসহ তার নিকটাত্মীয় জমির অংশিদাররা দক্ষিণ কোনাখালীর বিরোধীয় জমিতে যাওয়া মাত্রই প্রতিপক্ষের লোকজন লাঠি-সোটা, কিরিচি ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এ হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর অজ্ঞান অবস্থায় আবদু শুক্কুরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেলা ২টার দিকে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনা জানার পরপরই চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে একদল পুলিশ হাসপাতালে ছুটে আসেন। তারা আহত ও প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে ঘটনার বিবরণ শুনেন।

এসআই আবদুল বাতেন নিহত আবদু শুক্কুরের প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করেন। তাতে লাশের শরীরের লাটি-সোটা ও কিরিচের আঘাত ছাড়াও বেশ ক’টি ছররা গুলির গুলিবিদ্ধ হওয়ার আলামত পান।  বিকেল ৫টার দিকে চকরিয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) কাজী মো.মতিউল ইসলামের নেতৃত্বে ওসি বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরীসহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশের কয়েকটি টিম হামলায় জড়িতদের আটক করতে সাড়াশি অভিযান চালাচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন ওসি।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এঘটনায় মামলা দায়ের করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *