আবদুল হাকিম রানা
পটিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০১৯-০২-২৩ ০০:৪৫:৩৯ || আপডেট: ২০১৯-০২-২৩ ০০:৪৫:৩৯
আবদুল হাকিম রানা, বীর কন্ঠ : পটিয়া আমির ভান্ডার দরবার শরীফের পীর বহু ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা, স্বনামধন্য সমাজ সংস্কারক, জমাতে হিজবে রাসুল বাংলাদেশ এর প্রতিষ্ঠাতা শাহসূফি হজরত ডা. খায়রুল বশর শাহ আল আমিরী গতকাল শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টায় আমির ভান্ডার শরীফস্থ তার বাসভবনে ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। এসময় তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় ৯২ বৎসর। গতকাল বাদে আছর আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রথম তার প্রতিষ্ঠিত আমিরুল আউলিয়া সুন্নিয়া দাখিল মাদরাসা মাঠে ২য় এবং আমির ভান্ডার দরবার শরীফের শাহী ময়দানে ৩য় জানাজা শেষে তাকে সমাহিত করা হয়।
মৃত্যুকালে তিনি ৫ কন্যাসহ বহু নাতি নাতনী ও আত্বীয় স্বজন ও ভক্ত অনুরক্ত এবং গুনগ্রাহী রেখে যান। তার নামাজের জানাজায় ইমামতি করেন শাহসূফী সৈয়দ ফরিদুল আবছার শাহ আল আমিরী। তার জানাজায় অংশ নেন জাতীয় সংসদের হুইপ (প্রতিমন্ত্রী সমমর্যাদা) আলহাজ্ব সামশুল হক চৌধুরী এমপি। পটিয়া পৌরসভার মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রশীদ, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ইদ্রিস মিয়া, ভাইস চেয়ারম্যান পীরজাদা এয়ার মুহাম্মদ পেয়ারু, সাবেক মেয়র নুরুল ইসলাম, বীমা ব্যক্তিত্ব সিরাজুল মোস্তফা, আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা সামশুদ্দিন আহমদ, আইয়ুব বাবুল, সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ছৈয়দ, বিভিন্ন দরবারের সাজ্জানশীন ও আমির ভান্ডারের সাজ্জাদানশীন সহ এতে হাজার হাজার মুসল্লী ও ভক্ত অনুরক্ত শরীক হন। পরে তাঁর কফিনে হুইপ সামশুল হক চৌধুরী, মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রশীদ সহ বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে পুস্পস্তবক দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এসময় হুইপ সামশুল হক চৌধুরী বলেন, শাহসূফি ডা: খায়রুল বশর শাহ আমিরী আজীবন আধ্যাত্মিক সাধনার পাশাপাশি সমাজ সংস্কার ও শিক্ষার আলো ছড়ানোর কাজে নিয়োজিত ছিলেন। অন্ধকারচ্ছন্ন এ সমাজে ত্বরিকার মাধ্যমে আলোকিত সমাজ ও দেশ গড়ার লক্ষে তিনি শুধু পটিয়া নয় দেশের বিভিন্ন জায়গায় অনেক ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। যা সকলের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তাঁর এ মহা প্রয়ানে দেশ ও সমাজের অপূরনীয় ক্ষতি হয়েছে। তিনি তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা ও শোক সন্তপ্ত পরিবার বর্গের প্রতি সমবেদনা জানান। এছাড়া ও এতে পৌর মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রশীদ বলেন, তিনি আপাদ মস্তক একজন সমাজ সংস্কারক ছিলেন। যে কারণে তিনি প্রথমেই একের পর এক শিক্ষা প্রতিষ্টান গড়ে তুলেছেন।
জানা যায়, গতকাল তার ইন্তেকালের খবর ছড়িয়ে পড়লে সকাল থেকেই পটিয়ায় শোকের ছায়া নেমে আসে। দেশের দূর দূরান্ত থেকে তার হাজার হাজার ভক্ত অনুরক্ত পটিয়া আমির ভান্ডারে সমবেত হতে থাকে প্রিয় পীর ও মুর্শিদকে শেষ বিদায় জানাতে। বিকেলে তার তিন দফা জানাজা শেষে তাকে সমাধিস্থ করা হলে ফুলে সিক্ত হয়ে উঠে তার মাজার শরীফ। তার ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন হুইপ আলহাজ সামশুল হক চৌধুরী, শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর আবু জাফর চৌধুরী, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোজজাফর আহমদ চৌধুরী, পৌর মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রশীদ, জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আ.ক.ম সামশুজ্জমান চৌধুরী, জাপা জেলা সভাপতি সাবেক মেয়র সামশুল আলম মাষ্টার, পৌর বিএনপির আহবায়ক সাবেক মেয়র নুরুল ইসলাম সদস্য সচিব মোজাম্মেল হক, পটিয়া থিয়েটার সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ছৈয়দ, আওয়ামী লীগ নেতা চৌধুরী মাহবুবর রহমান, ফজলুল হক, নাছির উদ্দিন, আমির ভান্ডার সংসদের সভাপতি শাহসুফি মামুন রশীদ শাহ আমিরী, সম্পাদক সায়েম উল্লাহ আমিরী, আমির ভান্ডার কমপ্লেক্স এর সভাপতি ফরিদুল আবছার শাহ আমিরী সম্পাদক আমির হোসেন, ফাইভ ষ্টার ক্লাবের এমএনএ নাছির, নজরুল ইসলাম ঝন্টু, পটিয়া ডায়াবেটিক হাসপাতালের সভাপতি জামাল উদ্দিন আহমদ, সম্পাদক আলহাজ খোরশেদুল আলম পরিচালক মনজুরুল আলম, পটিয়া ক্লাব সম্পাদক সামশুল আলম বাবু, পটিয়া প্রেস ক্লাব সভাপতি এসএমএকে জাহাঙ্গীর, সাধারণ সম্পাদক আবদুল হাকিম রানা, পটিয়া সাংবাদিক সমিতির সভাপতি নুরুল ইসলাম, সম্পাদক এটিএম তোহা সহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।