চট্টগ্রাম, , শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

নীরব জসীম ডেস্ক কন্ট্রিবিউটর

চেয়ারম্যান পদের জন্য আ.লীগ যাদেরকে মনোনয়ন দিয়েছে এর বাইরেও আ.লীগের কেউ যদি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে চায় তাদেরকে বাধা দেবে না আওয়ামী লীগ

প্রকাশ: ২০১৯-০২-২৭ ০১:১৮:৫৭ || আপডেট: ২০১৯-০২-২৭ ০১:১৮:৫৭

নিউজ ডেস্ক : উপজেলা নির্বাচনের চেয়ারম্যান পদে প্রথম ধাপে ৮৭ ও দ্বিতীয় ধাপে ১২২ জন মনোনীত প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেছে আওয়ামী লীগ। উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদের জন্য কোন একক প্রার্থী আওয়ামী লীগ দেয়নি। এ দুটি পদ উন্মুক্ত করে দিয়েছে দলটি।

তবে চেয়ারম্যান পদের জন্য আওয়ামী লীগ যাদেরকে মনোনয়ন দিয়েছে এর বাইরেও আওয়ামী লীগের কেউ যদি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে চায় তাদেরকে বাধা দেবে না আওয়ামী লীগ। দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতারা এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। এর প্রধান কারণ হলো, যেহেতু এই নির্বাচনে ‍বিএনপি অংশগ্রহণ করছে না। তাই নির্বাচন যেন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয় সেজন্য আওয়ামী লীগ তাদের দলের যারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে উৎসাহী তাদেরকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার সুযোগ দিতে চায়।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল একটি সূত্র বলছে, শুধুমাত্র অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করাই বিদ্রোহীদের উন্মুক্ত করে দেয়ার পিছনে একমাত্র কারণ নয়। এর আরেকটি বড় কারণ হলো, আওয়ামী লীগ আসলে স্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের জনপ্রিয়তা দেখতে চায়। তারা কতটুকু সাংগঠনিক দক্ষতা দেখাতে পারে সেটাও আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা দেখতে চায়। তাই এবারের উপজেলা নির্বাচন আওয়ামী লীগের জন্য অন্যরকম একটি তাৎপর্য বহন করছে। আওয়ামী লীগের স্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে কে বেশী জনপ্রিয় তার একটি পরীক্ষাও আওয়ামী লীগ নিতে চায়।

আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় একজন নেতা বলেছেন, যদি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী কোন প্রার্থী নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে পরাজিত করে বিজয়ী হতে পারে, তাহলে বুঝতে হবে ঐ নেতা এলাকায় অনেক জনপ্রিয়। দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতে পরবর্তীতে তাকে দলের কাজে লাগানো যাবে। আওয়ামী লীগ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ার আরেকটি কারণ হলো, যদি স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হয়, তাহলে তাকে আওয়ামী লীগে নিয়ে আসার ‍সুযোগ থেকে যাবে। এর ফলে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ এবং একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হবে। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে যারা উপজেলা চেয়ারম্যানের মনোনয়ন পেয়েছেন বা পাননি,উভয়েই ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী হিসেবে উভয়ের সঙ্গেই প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একটি সখ্যতা রয়েছে। তাই যারা মনোনয়ন পেয়েছেন তারাই যে শুধু প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতা পাবেন সেরকম কোন সুযোগ এক্ষেত্রে থাকবে না। সরকারও প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভুমিকায় থাকার নির্দেশনা দিচ্ছে।এ অবস্থায় যারা দলীয় মনোনয়নকে প্রধান্য দিয়ে,মাঠে না নেমে ,দলীয় মনোনয়নের জন্যে নেতাদের পিছনে ছুটে চলেছেন,তাদের জন্যে দুঃসংবাদ হচ্ছে- শুধু প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সাহায্য নিয়ে নির্বাচনের ফলাফল নিজের পক্ষে নেয়া সম্ভব হবেনা। এখানে বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীও সমান সুবিধা পাবে।

যারা স্বতন্ত্র দাঁড়াবেন তারা আওয়ামী লীগের একটি অংশকে নিয়েই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। সেক্ষেত্রে উপজেলা নির্বাচনে প্রতিক পেলেই প্রভাব বিস্তারের কোনো সুযোগ নেই । সরকার চাইছে উপজেলা নির্বাচন একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শতভাগ গ্রহনযোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হবে। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন  এ ধরনের সুযোগ দিলে তৃণমূল পর্যায়ে নেতৃত্বের চর্চা হবে। সবাই জনগণের কাছে যাওয়ার সুযোগ পাবে এবং দলের মধ্যে একটি প্রতিযোগিতা তৈরি হবে।এখন পর্যন্ত দেখা গেছে প্রতিটি উপজেলায় অন্তত চারজন এবং কোন কোন উপজেলায় ৮ থেকে ১০জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আগ্রহী হয়েছে। দলীয় নেতাদের স্থানীয়ভাবে কার কতটা জনপ্রিয়তা ,সেটাও পরক করে দেখতে চায় দলটি।অপর দিকে  বিএনপি বা সমমনা দলগুলো যেটা আশঙ্কা করেছিল, উপজেলা নির্বাচনেও ক্ষমতাসীন দল প্রভাব বিস্তার করবে। সেটাও মিথ্যা প্রমান করতে চায় আওয়ামীলীগ।

সূত্র : www.sbangla24.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *