প্রদীপ শীল
রাউজান প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০১৯-০৪-১৮ ২৩:৩৬:৫৬ || আপডেট: ২০১৯-০৪-১৮ ২৩:৩৬:৫৬
প্রদীপ শীল, রাউজান: রাউজান উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা মোজাম্মেল হককে হত্যার উদ্দেশ্য হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই ও চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি সড়কে অবরোধ চলছে। ১৮ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার দুপুর হতে উভয় মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল সহকারে চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি সড়কের সূর্যসেন চত্ত্বরের সম্মুখে সড়কে অবস্থান করে। অন্য দিকে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে পথের হাট, নোয়াহাট সহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করে। “আমার ভাইয়ের রক্ত ঝরল কেন, প্রশাসনের জবাব চাই”, “শান্তির ধর্ম ইসলামে সন্ত্রাসবাদ নিপাত যাক” “ভন্ডপীরের আস্তানা জ্বালিয়ে দাও পুড়িয়ে দাও” সহ নানা শ্লোগান-শ্লোগানে কম্পিত হয়ে উঠে। সমগ্র রাউজান জুঁড়ে থমথমে পরিস্থিতি রিবাজ করছে দিনভর।
জানা যায়, গত ১৭ এপ্রিল, বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার রমজান আলী হাট হতে বাড়ি ফেরার পথে রাউজান ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠনকি সম্পাদক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেনের (৪৩) পথ আগলিয়ে হত্যার উদ্দেশ্য হামলা চালিয়েছিল ২৫-৩০ জনের একটি দুবৃর্ত্তে দল। হামলাকারীরা তাকে দেশী অস্ত্রসহকারে নির্মমভাবে আঘাতকরে মৃতভেবে ফেলে চলে যায়। তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসা মুক্তিযোদ্ধা শফিউল আলমকেও তারা আঘাত করে। বর্তমানে মোজাম্মেল মুমূর্ষু অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধিন রয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন হিরু বলেন, ২০ থেকে ৩০ জুন যুবক মোজাম্মেলের উপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা সবাই মুনিরীয়া যুব তাবলীগ কমিটি বাংলাদেশ নামের একটি তরিক্বত ভিত্তিক সংগঠনের কর্মী। তিনি বলেন হামলাকারীদের প্রত্যেকের হাতে হক স্টিক, লাটি ও দেশীয় অস্ত্র ছিল। এই ঘটনার প্রতিবাদে ১৮ এপ্রিল, বুধবার দুপুর ১ টার দিকে আওয়ামীলীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের কর্মীরা চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি ও চট্টগ্রাম-কাপ্তাই মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করে। এই সময়, বিদেশ যাত্রী ও রোগী পরিবহন গাড়ি চলাচলের সুযোগ দিলেও দূরদূরান্তের যাত্রীসাধারণের দূর্ভোগে পরতে হয়। পরে বিকাল ৫:৫০ টায় প্রশাসনের আশ্বাসে তারা সমাবেশস্থলে বক্তব্যের মাধ্যমে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।
এই সময় বক্তব্য রাখেন আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বশির উদ্দিন খান, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জমির উদ্দিন পারভেজ। এই সময় সহস্রাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন তারা হামলাকারী ও নির্দেশদাতাকে গ্রেফফতার করতে প্রশাসনকে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেন। উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জমির উদ্দিন পারভেজ বলেন, আমাদের নেতা এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী নেতৃত্বে রাউজানে শান্তির পরিবেশ বিরাজ করলেও মুনিরিয়া যুবতবলীগ কমিটি তরিক্বতের নামে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে একের এক হামলা চালিয়ে রাউজানে অরাজকতা সৃষ্টি করে চলছেন। তিনি হুংকার দিয়ে বলেন, আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ কারো অন্যায়ের রক্তচক্ষুকে ভয় পায়।
তিনি আরো বলেন, মুনিরিয়ার সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আমাদের ভাই মোজাম্মেলকে হত্যার উদ্দেশ্যে নির্মমভাবে আঘাত করেছেন। এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও তাদের নির্দেশদাতাকে আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না করলে আমরা তীব্রতর আন্দোলন চালিয়ে যাব। রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেপায়েত উল্লাহ বলেন, মুনরিয়া যুবতবলীগ কমিটির লোকেরা গত সন্ধ্যায় আওয়ামীলীগ নেতা মোজাম্মলকে আঘাত করেছে। এর প্রতিবাদে তার রাজনৈতিক সহকর্মীরা সড়ক আবরোধ ও বিক্ষোভ করছেন। আমরা সন্ত্রাসীদের ধরতে আভিযানে আছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামীম হোসেন রেজা বিক্ষোভকারীদে আশ্বাস দিয়ে বলেন ধর্মীয় উগ্রবাদকে কোন সময় বরদাশত করবো না। যদি এটা সংগঠনের কাজ হয় আমরা ঘুড়িয় দিব, যদি ওরা ব্যক্তিগতভাবে করে থাকে তাহলে তাদেরকে আমাদের হাতে তুলে দিতে হবে। যেহেতু, হামলাকরীরা সংগঠনের ব্যানার ব্যবহার করেছেন।
২৪ ঘন্টার মধ্যে যদি হামলাকারীদেরকে আমাদের হাতে তুলে দেওয়া না হয় আমরা যেকোন সময় কোন স্থানে অভিযান পরিচালনা করবো। অপরদিকে কাগতিয়া দরবার শরীফে তল্লাসী অভিযান পরিচালনা করতে শতাদিক পুলিশ অবস্থান নিয়েছে বলে জানা গেছে। এ রির্পোট লেখা পষর্ন্ত পুলিশ দরবারের চার পাশে অবস্থানে রয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।